লোহাগাড়ায় তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

লোহাগাড়ায় তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

লোহাগাড়ায় তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়ায় ২২ বছর বয়সী কক্সবাজারের রামুর এক তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা সড়াইয়া এলাকার হারিছ মিয়া (৩৯) ও মো. এহছান (২৬) এবং সড়াইয়া এয়াছিনপাড়া এলাকার মো. নজরুল ইসলাম (২০)। তাদের মধ্যে হারিছ মিয়া ও এহছান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে মোবাইল ফোনে ভুল নম্বরে যোগাযোগের মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে এহছানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এহছান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে লোহাগাড়ায় নিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, শনিবার (২৪ অক্টোবর) কক্সবাজারের রামু থেকে রওনা দিয়ে রাত ১১টার দিকে কেরানীহাটে পৌঁছান ওই তরুণী। সেখান থেকে এহছান তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ফারাঙ্গা এলাকার ইলিয়াস চৌধুরীর বাগানে নিয়ে যান।

মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়, বাগানের ভেতরে তমিজ নামের এক ব্যক্তির থাকার জন্য নির্মিত টিনের ছাউনিযুক্ত মাটির ঘরে তরুণীকে আটকে রাখা হয়। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হারিছ মিয়া ও এহছান ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২৪ অক্টোবর রাত ১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এ ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




সাতকানিয়ার ছদাহা আফঝল নগর হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আগামী ৩১ অক্টোবর

সাতকানিয়ার ছদাহা আফঝল নগর হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আগামী ৩১ অক্টোবর
ছবি সংগৃহীত।

পবিত্র কুরআনের আলোয় চারপাশ আলোকিত করতে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে কুরআনের নূর ছড়িয়ে দিতে আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার সকাল থেকে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আফঝল নগর হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা’। দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন হিফজখানা থেকে কুরআনের কচি প্রাণ হাফেজরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

প্রতিযোগিতা শেষে একই দিন বিকেল ৩টায় বর্ণিল এক আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

তাহফিজুল কোরআন রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চন্দনাইশ সাতবাড়িয়া দরবারের পীর শাহ আবদুল হালিম রশিদী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দেশবরেণ্য আলেমে দ্বীন অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ কাদেরী এবং মাওলানা মোরশেদুল আলম।

উক্ত আয়োজনে দেশের বরণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ, প্রখ্যাত আলোচক এবং স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন তাহফিজুল কোরআন রিসার্চ সেন্টারের সম্মানিত সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন।

কুরআনের হাফেজদের প্রতিভা বিকাশ, তাঁদের উৎসাহ প্রদান এবং দ্বীনি পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এই মহতী অনুষ্ঠানটি সফল ও সার্থক করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমান, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিত থাকার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।




আধুনগর খাঁনহাট বাজার উন্নয়ন কমিটি নির্বাচনে সভাপতি রাসেল, সম্পাদক করিম

আধুনগর খাঁনহাট বাজার উন্নয়ন কমিটি নির্বাচনে সভাপতি রাসেল, সম্পাদক করিম
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর খাঁনহাট বাজার উন্নয়ন কমিটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে মাঈনুদ্দিন হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি পদে ডা. হায়াত মাহমুদ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রেজাউল করিম নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আধুনগর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার দুটি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে প্রার্থীরা অংশ নেন। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মীর ইমরান হোসেন ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। সভাপতি পদে মাঈনুদ্দিন হাসান রাসেল ২০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১৭৬ ভোট। অপর প্রার্থী মো. আবু নওশদ চৌধুরী পেয়েছেন ৩৮ ভোট।

সহ-সভাপতি পদে ডা. হায়াত মাহমুদ খান ২২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহি উদ্দিন পেয়েছেন ১৮৯ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে রেজাউল করিম ২২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খোরশেদ আলম পেয়েছেন ১৮৮ ভোট। এ ছাড়া কমিটির বিভিন্ন পদে আরও ১১ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, বাজারের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে উন্নয়ন কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধান, বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়াই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

নবনির্বাচিত সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান রাসেল বলেন, খাঁনহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোটাররা আমাকে যে আস্থা ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। বাজারের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ ও লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ।

ইউএনও মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও ভোটারদের সহযোগিতায় সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকলে বাজারের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মীর ইমরান হোসেন। নির্বাচন কমিশনের সদস্য ছিলেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ও নোমানুল হক। ভোটগ্রহণ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
 




আনোয়ারায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ

আনোয়ারায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ‘দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা’র অধীনে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনা ভাঙচুর ও জায়গা জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকার দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার নির্মাণাধীন একটি স্থাপনায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ছৈয়দুল আলম কুতুবী বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের সূত্র ধরে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ছৈয়দুল আলম কুতুবী জানান, উপজেলার বারশত ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকায় দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সৈয়দুল আলম কুতুবী তাঁর স্ত্রীর মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত দানপত্রের মূল সম্পত্তিতে এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। কিন্তু এলাকার কিছু স্থানীয় ব্যক্তি শুরু থেকেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে আপত্তি ও বিরোধিতামূলক আচরণ করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী ছৈয়দুল আলম কুতুবী অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস আগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নামাজের সুবিধার জন্য দানপত্রের সীমানাভুক্ত জায়গায় মসজিদ স্থাপনের কাজ শুরু করলে পূর্বশত্রুতার জেরে রেজাউল করিম (৫০), মো. সিরাজ (৪৫), নুর মোহাম্মদ (৫৫), সুমন (৩০), মো. সাদ্দাম (৪০), সামশু মিয়া (৬৫), মো. তাহের (৪২), মো. বাদশা (১৬), জাহাঙ্গীর (৪০) ও মো. মিজানসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন সন্ত্রাসী কায়দায় টিনের কাঠামোযুক্ত স্থাপনাটি ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”