আধুনগর খাঁনহাট বাজার উন্নয়ন কমিটি নির্বাচনে সভাপতি রাসেল, সম্পাদক করিম
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

আধুনগর খাঁনহাট বাজার উন্নয়ন কমিটি নির্বাচনে সভাপতি রাসেল, সম্পাদক করিম

আধুনগর খাঁনহাট বাজার উন্নয়ন কমিটি নির্বাচনে সভাপতি রাসেল, সম্পাদক করিম
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর খাঁনহাট বাজার উন্নয়ন কমিটির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে মাঈনুদ্দিন হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি পদে ডা. হায়াত মাহমুদ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রেজাউল করিম নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আধুনগর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার দুটি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে প্রার্থীরা অংশ নেন। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মীর ইমরান হোসেন ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। সভাপতি পদে মাঈনুদ্দিন হাসান রাসেল ২০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১৭৬ ভোট। অপর প্রার্থী মো. আবু নওশদ চৌধুরী পেয়েছেন ৩৮ ভোট।

সহ-সভাপতি পদে ডা. হায়াত মাহমুদ খান ২২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহি উদ্দিন পেয়েছেন ১৮৯ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে রেজাউল করিম ২২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খোরশেদ আলম পেয়েছেন ১৮৮ ভোট। এ ছাড়া কমিটির বিভিন্ন পদে আরও ১১ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, বাজারের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে উন্নয়ন কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধান, বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়াই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

নবনির্বাচিত সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান রাসেল বলেন, খাঁনহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোটাররা আমাকে যে আস্থা ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। বাজারের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ ও লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ।

ইউএনও মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও ভোটারদের সহযোগিতায় সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকলে বাজারের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মীর ইমরান হোসেন। নির্বাচন কমিশনের সদস্য ছিলেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ও নোমানুল হক। ভোটগ্রহণ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
 




আনোয়ারায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ

আনোয়ারায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ‘দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা’র অধীনে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনা ভাঙচুর ও জায়গা জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকার দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার নির্মাণাধীন একটি স্থাপনায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ছৈয়দুল আলম কুতুবী বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের সূত্র ধরে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ছৈয়দুল আলম কুতুবী জানান, উপজেলার বারশত ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকায় দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সৈয়দুল আলম কুতুবী তাঁর স্ত্রীর মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত দানপত্রের মূল সম্পত্তিতে এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। কিন্তু এলাকার কিছু স্থানীয় ব্যক্তি শুরু থেকেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে আপত্তি ও বিরোধিতামূলক আচরণ করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগী ছৈয়দুল আলম কুতুবী অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস আগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নামাজের সুবিধার জন্য দানপত্রের সীমানাভুক্ত জায়গায় মসজিদ স্থাপনের কাজ শুরু করলে পূর্বশত্রুতার জেরে রেজাউল করিম (৫০), মো. সিরাজ (৪৫), নুর মোহাম্মদ (৫৫), সুমন (৩০), মো. সাদ্দাম (৪০), সামশু মিয়া (৬৫), মো. তাহের (৪২), মো. বাদশা (১৬), জাহাঙ্গীর (৪০) ও মো. মিজানসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন সন্ত্রাসী কায়দায় টিনের কাঠামোযুক্ত স্থাপনাটি ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




পটিয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

পটিয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়ায় তানিয়া কামাল নিহাত (২০) নামের ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী নুর উদ্দিনকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরকানাই মোনাফ হাজির পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তানিয়া কামাল নিহাত উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণখাইন গ্রামের মোহাম্মদ কামালের মেয়ে। তাঁর স্বামী নুর উদ্দিন একই উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের মোনাফ হাজির পাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া ও নুর উদ্দিনের মধ্যে চার থেকে পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাঁদের সংসারে কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে যৌতুক ও দামি উপহার চাওয়াকে কেন্দ্র করে তানিয়ার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে।

নিহতের বাবা মোহাম্মদ কামাল অভিযোগ করে বলেন, গত ঈদে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তানিয়ার জন্য নতুন কাপড়চোপড় ও উপহার দাবি করেছিলেন। সামর্থ্য অনুযায়ী সেগুলো দেওয়া হলেও সম্প্রতি আবারও যৌতুক ও দামি উপহার দাবি করা হয়। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এসব দাবি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে তানিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মোহাম্মদ কামাল আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হয়েছে। এরপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। তাঁর মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পটিয়া উপজেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ককে সম্মান জানিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর যৌতুকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এমন পরিণতি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




সাতকানিয়ায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৪

সাতকানিয়ায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৪
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে বাবা ও মেয়ের মৃত্যুর পর স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় একটি মিনিবাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে সাতকানিয়া থানা-পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদেরও বাধা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহেদ বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশের কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং হামলার সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং ভিডিওচিত্র ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য, সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা চালায় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তের ভিত্তিতে অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতের ওই দুর্ঘটনায় মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০) ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে ওয়াসিফের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত হন পরিবারের আরও চার সদস্য। দুর্ঘটনার পর প্রায় আড়াই ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।