বিজিবির উদ্যোগে ‘সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর বিজয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা

বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক আস্থার বন্ধন সুদৃঢ় করতে বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী। তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার শক্তিশালী মাধ্যম। নারী ফুটবলারদের সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে বিজিবি যে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে, তা খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি পাহাড়ের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বান্দরবানের থানচিতে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) আয়োজিত ‘সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর বিজয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান নারী খেলোয়াড় রয়েছেন। সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাঁরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি, তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা এবং নারী খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজিবির এ ধরনের উদ্যোগ পাহাড়ের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের কাছাকাছি আসার সুযোগ তৈরি হয়। নারী ফুটবলারদের এই অর্জন পাহাড়ের অন্যান্য মেয়েকেও খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ রুবায়াত জামিল, বলিপাড়া জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল এবং থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও সার্বিক আয়োজনে বিজিবির পক্ষ থেকে নারী ফুটবলারদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁদের ক্রীড়ানৈপুণ্যের প্রশংসা এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগানো হয়। এ ধরনের আয়োজন পাহাড়ি জনপদে নারী খেলাধুলার বিকাশ এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সহায়ক হবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মেজর জাকির হোসেন।
স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নারী খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিজিবির এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হলে পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।










