বান্দরবান জেলা পরিষদে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ, হিসাব সহকারী মামুনের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

বান্দরবান জেলা পরিষদে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ, হিসাব সহকারী মামুনের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

বান্দরবান জেলা পরিষদে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ, হিসাব সহকারী মামুনের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখায় কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে হিসাব সহকারী মো. মামুনুর রশীদ সরকারের বিরুদ্ধে। নির্মাণকাজের বিল ছাড় করাতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে কমিশন আদায়, ‘জুন ফাইনাল’-এর নামে বাড়তি অর্থ আদায় এবং বরাদ্দ আনার কথা বলে অতিরিক্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। একই সঙ্গে চাকরির পর তাঁর বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিষদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অভিযোগ রয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অধ্যাপক থানজামা লুসাই বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন মামুন। এই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে পুরো সময়জুড়ে কমিশন আদায় করেছেন তিনি। বিশেষ করে অর্থবছরের শেষ সময়ে ‘জুন ফাইনাল’-কে কেন্দ্র করে কমিশন আদায়ের চাপ আরও বাড়ানো হতো বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ১০ জন স্থানীয় ঠিকাদারের অভিযোগ, প্রকৌশল শাখার হিসাব সহকারী মামুন নির্মাণকাজের বিল পরিশোধের সময় চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে কমিশন দাবি করতেন। তাঁদের দাবি, প্রতিটি কাজের বিল থেকে দেড় শতাংশ হারে কমিশন নেওয়া হতো। এর বাইরে ‘জুন ফাইনাল’-এর অজুহাতে আদায় করা হতো অতিরিক্ত কমিশন।

ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা দাবিকৃত টাকার পরিমাণ কম দিলে বিভিন্ন অজুহাতে আটকে রাখা হতো কাজের ফাইল। এমনকি মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ আনার কথা বলেও অতিরিক্ত আধা শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

শুধু কমিশন আদায়ের অভিযোগই নয়, মামুনের সম্পদের উৎস নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। পরিষদ-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সাধারণ কর্মচারী হিসেবে চাকরি শুরু করা মামুনের সম্পদ ও জীবনযাপনে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। চাকরিতে যোগদানের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রটির দাবি, বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় বিশাল পুকুরসহ জমি কিনেছেন মামুন। এ ছাড়া পৌর শহরের কালাঘাটা বীর বাহাদুর নগর এলাকায় তাঁর নামে রয়েছে প্রায় ৪০ শতক জমি। চলাচলের জন্য ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও প্রতি ছয় মাস পরপর পরিবর্তন করেন বলে দাবি সূত্রটির। একজন সাধারণ কর্মচারীর বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য কতটুকু, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য ও অর্থের উৎস দ্রুত যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুর রশীদ সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ঠিকাদারদের উত্থাপিত কমিশন আদায়ের অভিযোগ এবং তাঁর নামে থাকা সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




নাইক্ষ্যংছড়ির ওমর ফারুক ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ আটক

নাইক্ষ্যংছড়ির ওমর ফারুক ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) রেজুখাল চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩১ অক্টোবর (২০২৬) বিকেলে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ রেজুখাল চেকপোস্টে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এ সময় টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি মোটরসাইকেল তল্লাশি করে চালক মোঃ ওমরকে (২৫) আটক করা হয়। আটক ওমরের বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায়, তার বাবার নাম মোঃ আমিন।

বিজিবি জানায়, ওমরের শরীরে অভিনব কায়দায় লুকানো ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা পাওয়া যায়। মাদক পাচারে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত ইয়াবা ও মালামালসহ আটক আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির অভিযানে ৫৩ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ

নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির অভিযানে ৫৩ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ লেম্বুছড়ি বিওপির টহল দল দায়িত্বপূর্ণ কোলাচিপাড়া এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫৩,৫২,৫০০ (তিপ্পান্ন লাখ বাহান্ন হাজার পাঁচ শ) টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সেগুন কাঠ ও লালি গোল কাঠ জব্দ করেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ লেম্বুছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী ও অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় লেম্বুছড়ি বিওপির টহল দল কোলাচিপাড়া এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে ৫৩,৫২,৫০০ টাকা মূল্যের নিম্নবর্ণিত কাঠ আটক করে।

আটক করা কাঠের মধ্যে রয়েছে:

  • অবৈধ সেগুন কাঠ: ১,০০০ ঘনফুট (লম্বাফুট)

  • অবৈধ লালি গোল কাঠ: ৭৪১ ঘনফুট (লম্বাফুট)

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সার, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যাতে অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার হতে না পারে, সে লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, দেশের মূল্যবান বনজ সম্পদ অবৈধভাবে আহরণ ও পাচার প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিজিবির নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।




দৈনিক সাঙ্গুতে সংবাদ প্রকাশের পর অসহায় পরিবারের পাশে আসিফ ইকবাল ও সুমন

দৈনিক সাঙ্গুতে সংবাদ প্রকাশের পর অসহায় পরিবারের পাশে আসিফ ইকবাল ও সুমন
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে অসুস্থ স্বামী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা এক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি আসিফ ইকবাল ও স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ূন কবির সুমন। ‘দৈনিক সাঙ্গু’ পত্রিকায় পরিবারটির দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁরা পৃথকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এ সময় পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতে ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় মালামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে স্বামী অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন ওই পরিবারের গৃহিণী। অন্যদিকে শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানকে দেখাশোনার পুরো দায়িত্বও তাঁর ওপর। চরম অভাব-অনটনের কারণে খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল পরিবারটির জন্য। ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়েই দিন কাটছিল তাঁদের।

সম্প্রতি ‘দৈনিক সাঙ্গু’তে পরিবারটির দুর্দশার খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি মানবিক ব্যক্তিবর্গের নজরে আসে। সংবাদের ইতিবাচক প্রভাবে পিসিসিপি সভাপতি আসিফ ইকবাল পরিবারটির পাশে দাঁড়ান এবং ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ূন কবির সুমনও নিজ উদ্যোগে পরিবারটিকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেন।

পিসিসিপি সভাপতি আসিফ ইকবাল বলেন,“অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমরা চাই, পরিবারটি যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের সংসার পরিচালনা করতে পারে। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে অসহায় পরিবারগুলোর কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।”

স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ূন কবির সুমন বলেন, “আমাদের যাঁর যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা নিয়েই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। মানুষ মানুষের জন্য। একটি পরিবার যখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটায়, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমাদের সামান্য সহযোগিতায় যদি তাদের কষ্ট কিছুটা কমে,সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,অসহায় পরিবারটির দুর্দশা তুলে ধরার পর মানবিক মানুষের এভাবে এগিয়ে আসা এক প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত। সংবাদমাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র সঠিকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।

আসিফ ইকবাল ও হুমায়ূন কবির সুমনের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁদের এই সহযোগিতা পরিবারটির চলমান সংকট মোকাবিলা করে আত্মনির্ভরশীল হতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।