বান্দরবান জেলা পরিষদে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ, হিসাব সহকারী মামুনের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখায় কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে হিসাব সহকারী মো. মামুনুর রশীদ সরকারের বিরুদ্ধে। নির্মাণকাজের বিল ছাড় করাতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে কমিশন আদায়, ‘জুন ফাইনাল’-এর নামে বাড়তি অর্থ আদায় এবং বরাদ্দ আনার কথা বলে অতিরিক্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। একই সঙ্গে চাকরির পর তাঁর বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিষদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অভিযোগ রয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অধ্যাপক থানজামা লুসাই বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন মামুন। এই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে পুরো সময়জুড়ে কমিশন আদায় করেছেন তিনি। বিশেষ করে অর্থবছরের শেষ সময়ে ‘জুন ফাইনাল’-কে কেন্দ্র করে কমিশন আদায়ের চাপ আরও বাড়ানো হতো বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ১০ জন স্থানীয় ঠিকাদারের অভিযোগ, প্রকৌশল শাখার হিসাব সহকারী মামুন নির্মাণকাজের বিল পরিশোধের সময় চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে কমিশন দাবি করতেন। তাঁদের দাবি, প্রতিটি কাজের বিল থেকে দেড় শতাংশ হারে কমিশন নেওয়া হতো। এর বাইরে ‘জুন ফাইনাল’-এর অজুহাতে আদায় করা হতো অতিরিক্ত কমিশন।
ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা দাবিকৃত টাকার পরিমাণ কম দিলে বিভিন্ন অজুহাতে আটকে রাখা হতো কাজের ফাইল। এমনকি মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ আনার কথা বলেও অতিরিক্ত আধা শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শুধু কমিশন আদায়ের অভিযোগই নয়, মামুনের সম্পদের উৎস নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। পরিষদ-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সাধারণ কর্মচারী হিসেবে চাকরি শুরু করা মামুনের সম্পদ ও জীবনযাপনে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। চাকরিতে যোগদানের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রটির দাবি, বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় বিশাল পুকুরসহ জমি কিনেছেন মামুন। এ ছাড়া পৌর শহরের কালাঘাটা বীর বাহাদুর নগর এলাকায় তাঁর নামে রয়েছে প্রায় ৪০ শতক জমি। চলাচলের জন্য ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও প্রতি ছয় মাস পরপর পরিবর্তন করেন বলে দাবি সূত্রটির। একজন সাধারণ কর্মচারীর বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য কতটুকু, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়মূল্য ও অর্থের উৎস দ্রুত যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুর রশীদ সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ঠিকাদারদের উত্থাপিত কমিশন আদায়ের অভিযোগ এবং তাঁর নামে থাকা সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।










