দৈনিক সাঙ্গুতে সংবাদ প্রকাশের পর অসহায় পরিবারের পাশে আসিফ ইকবাল ও সুমন

বান্দরবানে অসুস্থ স্বামী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা এক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি আসিফ ইকবাল ও স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ূন কবির সুমন। ‘দৈনিক সাঙ্গু’ পত্রিকায় পরিবারটির দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁরা পৃথকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এ সময় পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করতে ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় মালামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে স্বামী অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন ওই পরিবারের গৃহিণী। অন্যদিকে শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানকে দেখাশোনার পুরো দায়িত্বও তাঁর ওপর। চরম অভাব-অনটনের কারণে খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল পরিবারটির জন্য। ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়েই দিন কাটছিল তাঁদের।
সম্প্রতি ‘দৈনিক সাঙ্গু’তে পরিবারটির দুর্দশার খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি মানবিক ব্যক্তিবর্গের নজরে আসে। সংবাদের ইতিবাচক প্রভাবে পিসিসিপি সভাপতি আসিফ ইকবাল পরিবারটির পাশে দাঁড়ান এবং ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ূন কবির সুমনও নিজ উদ্যোগে পরিবারটিকে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেন।
পিসিসিপি সভাপতি আসিফ ইকবাল বলেন,“অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমরা চাই, পরিবারটি যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের সংসার পরিচালনা করতে পারে। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে অসহায় পরিবারগুলোর কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।”
স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ূন কবির সুমন বলেন, “আমাদের যাঁর যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা নিয়েই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। মানুষ মানুষের জন্য। একটি পরিবার যখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটায়, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমাদের সামান্য সহযোগিতায় যদি তাদের কষ্ট কিছুটা কমে,সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,অসহায় পরিবারটির দুর্দশা তুলে ধরার পর মানবিক মানুষের এভাবে এগিয়ে আসা এক প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত। সংবাদমাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র সঠিকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।
আসিফ ইকবাল ও হুমায়ূন কবির সুমনের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁদের এই সহযোগিতা পরিবারটির চলমান সংকট মোকাবিলা করে আত্মনির্ভরশীল হতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।











