টিআইবির প্রতিবেদন: মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত শীর্ষ ৩ দল, এক দশক কাউন্সিল হয়নি বিএনপির
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

টিআইবির প্রতিবেদন: মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত শীর্ষ ৩ দল, এক দশক কাউন্সিল হয়নি বিএনপির

টিআইবির প্রতিবেদন: মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত শীর্ষ ৩ দল, এক দশক কাউন্সিল হয়নি বিএনপির
ছবি সংগৃহীত।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়ে থাকে।

তাছাড়া শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন, নীতিনির্ধারণ ও প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া ব্যক্তিনির্ভর এবং পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। দলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে। একই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পদ আঁকড়ে থাকায় নেতৃত্বের পরিবর্তন ও জবাবদিহির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দেশের অন্যতম বড় দল ক্ষমতাসীন বিএনপির কাউন্সিল হয়নি এক দশক।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রতিবেদনের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

এতে জানানো হয়, দেশের প্রধান ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোতে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে ‘মনোনয়ন বাণিজ্যের তথ্য পেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মাঠপর্যায়ে একটি আসনের নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে প্রার্থীর ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের তথ্য দলগুলোর নেতাদের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১০টিতে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব দলের মধ্যে রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা এবং বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দলগুলো প্রকাশ্যে মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করলেও এটি যে মাঠপর্যায়ে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত, তা বিভিন্ন সময়ে দলীয় প্রতিনিধিদের বয়ানেই উঠে এসেছে। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন, সেখানে নির্বাচন কমিশনে পুরো দল মিলে বছরে মাত্র ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। দলগুলোর এই আর্থিক অস্বচ্ছতার কারণে পর্দার আড়ালে বা টেবিলের নিচে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন এবং অবৈধ অর্থায়নের পথ সুগম হচ্ছে বলে মনে করে টিআইবি।

প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের সংকট তুলে ধরা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, একটি প্রধান রাজনৈতিক দল দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনও কাউন্সিল আয়োজন করেনি। অবশ্য উপস্থিত সাংবাদিকরা সেই দলটির নাম জানতে চাইলে জানানো হয় ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একাদশ আনুষ্ঠানিক কাউন্সিল করেনি।

এ সময় ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিয়মিত কাউন্সিল ও তৃণমূলের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় সাধারণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে পড়ছে। এতে দলগুলো ভেতর থেকে শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে শুধু ওপরের স্তরের মুষ্টিমেয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব বাছাইয়ের অনীহার কারণে পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক কর্তৃত্বপরায়ণতা ক্রমাগত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। দেশে বর্তমানে অন্তত ১০টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে নির্ধারিত হচ্ছে।

টিআইবির গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩২টি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সময়কাল বিশ্লেষণ করে উল্লেখ করা হয়, ১২টি দলের প্রধান ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে পাঁচটি দলের প্রধানের নেতৃত্বের মেয়াদ ১০ থেকে ২০ বছর এবং সাতটি দলের প্রধান ২০ বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্বে রয়েছেন। বাকি ২০টি দলের প্রধানের নেতৃত্বের মেয়াদ ১০ বছরের কম।




সোমবার থেকে অটোরিকশা নিবন্ধন, লাইসেন্সের আওতায় আসবেন চালক

সোমবার থেকে অটোরিকশা নিবন্ধন, লাইসেন্সের আওতায় আসবেন চালক
ছবি সংগৃহীত।

সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথমে যানবাহন নিবন্ধন করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯’-এর ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের ১২০ ধারায় ই-রিকশা নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর ওই আইনের আলোকে বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে বিধিমালাটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এখন ই-রিকশা নিবন্ধনে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।

তিনি বলেন, দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন প্রথমে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সব ই-রিকশাকে আইনের আওতায় আনা হবে। গত ১৫ থেকে ৩০ বছর এসব যানবাহনের কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল না। নতুন আইনের মাধ্যমে একটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

বিধিমালা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য দিতে হবে চার হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য ফি দিতে হবে ৫ হাজার টাকা। এভাবে সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত এসব ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে।

ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদর্শনের জন্য কিউআর কোড সংবলিত সনদ দেবে সিটি করপোরেশন। এ জন্য এক হাজার টাকা ফি নেওয়া হবে।

ই-রিকশা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটিটি গঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ই-রিকশা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বুয়েট অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করতে হবে। বর্তমানে যেসব ই-রিকশা চলছে, সেগুলোকেও ওই নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে এ কাজ করবে।

বিধিমালায় ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমার বেশি গতিতে চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল এবং বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো।

এ ছাড়া যাত্রী ছাড়া মালামাল পরিবহন, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

আপাতত ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, থাকবে পরিচয়পত্র
ই-রিকশাচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার বিধান থাকলেও আপাতত তা কার্যকর করা হচ্ছে না। প্রথমে যানবাহনের নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। পরে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। আপাতত চালকদের পরিচয়পত্র থাকবে, যা মালিকপক্ষ দেবে।

এ বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটা আগে শুরু করি, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার কিছুদূর এগিয়ে গেলে আমরা এটার জন্য আলাদা একটা প্রজ্ঞাপন জারি করে, তখন ড্রাইভিং লাইসেন্স।’

তিনি জানান, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে সিটি করপোরেশনগুলোর পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ঢাকায় আট জোনে চলবে আলাদা রঙের ই-রিকশা
ঢাকা মহানগরকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। মোট আটটি রঙের ই-রিকশা চলাচল করবে, যাতে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে যেতে না পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জোনভিত্তিক কতগুলো ই-রিকশা চললে যানজট তৈরি হবে না, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন আলোচনা করে নির্ধারণ করবে। আপাতত ই-রিকশার সংখ্যার ওপর কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

নিবন্ধনের পর কোন ই-রিকশা কোন জোনে চলবে, তা কিউআর কোডে উল্লেখ থাকবে। এতে নিবন্ধন নম্বর, মালিকের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও জোনের পরিচয় থাকবে বলেও জানান তিনি।

এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ
ঢাকার বর্তমান ই-রিকশাচালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে অবৈধ ই-রিকশা চলাচল নিরুৎসাহিত করা হবে এবং সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সবাইকে অনুরোধ করবো আপাতত যে যেভাবে চলছে চলতে থাকবে, নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে আমরা নিবন্ধন দিতে থাকবো এবং পর্যায়ক্রমে আমরা অবৈধ ব্যাটারি চালিত ই-রিকশাগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করবো।’


‘রাতারাতি এটা নিয়ে নতুন করে আমরা এই বিধিমালা প্রকাশের সাথে সাথে আতঙ্ক তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা যেন কেউ লুটতে না পারে এইজন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আপাতত যে যেভাবে চলছে চলতে থাকবে, নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে আমরা নিবন্ধন দিতে থাকবো এবং পর্যায়ক্রমে আমরা অবৈধ ব্যাটারি চালিত ই-রিকশাগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করবো।’

নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বসে অগ্রগতি জানানো হবে বলেও জানান তিনি। ওই সময়ের মধ্যে কতগুলো ই-রিকশা নিবন্ধন পেয়েছে, কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ ই-রিকশা কবে অপসারণ করা হবে, তা জানানো হবে।

চার্জিং পয়েন্টে সোলার প্যানেল বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ
ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে, তাদের সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অনুমোদন বা ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হবে।

তিনি জানান, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ই-রিকশা চার্জ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত এসব চার্জিং পয়েন্ট তদারকি করবেন।

কিলোমিটার হিসাবে নির্ধারণ হবে ভাড়া
ই-রিকশার ভাড়া নির্ধারণ করা হবে কিলোমিটার হিসাবে। এ ক্ষেত্রে ই-রিকশার মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চার্জিং ই-রিকশাগুলো নিবন্ধন দেওয়ার পরে মালিক পক্ষ, যারা ই-রিকশার মালিক, মালিক পক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন তিনটি স্টক হোল্ডার যৌথভাবে বসে কিলোমিটার প্রতি কী ভাড়া হবে, তারা নির্ধারণ করে দেবে, অবশ্যই যৌক্তিক হবে এবং সাধারণ মানুষের সে সক্ষমতার মধ্যেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।’


প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নতুন বিধিমালা আপাতত দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে কার্যকর হবে। পৌরসভা এলাকায় ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নিতে পৌরসভার আইন সংশোধন করতে হবে। এরপর সেসব এলাকার জন্যও প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে।




পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত।

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রোববার এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গার্মেন্টস শিল্প খাতে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্য প্রজ্ঞাপনে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০২৬)-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রমমন্ত্রী। ওই বৈঠকশেষে রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করার বিষয়টি জানিয়েছিলেন তিনি।

তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। আজ রোববার রাজধানীর মিরপুর এবং গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করেছেন। মিরপুরে সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গতকাল শনিবারও মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও বিভিন্ন কারখানা-মার্কেটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল নতুন মজুরি বোর্ড গঠন। সরকার ও পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এ বিষয়ে একমত হয়েছে। শ্রমিক প্রতিনিধিরাও তাদের মনোনীত সদস্যদের নাম জমা দিয়েছেন। আজকের মধ্যেই বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি হবে।




রূপপুর প্রকল্পে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু

রূপপুর প্রকল্পে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু
ছবি সংগৃহীত।

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।মন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে দুপুর ১২টায় দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।’এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।এ পর্যায়ে চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক পারমাণবিক বিক্রিয়া তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে চুল্লির শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। এর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে।আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। স্টেজ ‘বি-১’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কাটিয়ে ওঠা হয়েছে। এরপর শুরু হয়েছে পরবর্তী ধাপ ‘বি-২’, যেখানে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এ প্রক্রিয়ার পরই শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়।ক্রিটিক্যালিটি হলো পারমাণবিক চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন প্রতিষ্ঠার পর্যায়। এ অবস্থায় চুল্লির শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। উৎপাদনক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিকভাবে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম।সরকার আশা করছে, চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের রিঅ্যাক্টর চালু বা ফুয়েল লোডিংয়ের কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে প্রকল্পের কার্যক্রম।