আনোয়ারায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছে ৭৬,২৭২ পরিবার, টাকা দাবির বিষয়ে সতর্কতা
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন

আনোয়ারায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছে ৭৬,২৭২ পরিবার, টাকা দাবির বিষয়ে সতর্কতা

আনোয়ারায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছে ৭৬,২৭২ পরিবার, টাকা দাবির বিষয়ে সতর্কতা
আনোয়ারায় প্রেস কনফারেন্সে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হলেও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৭৬ হাজার ২৭২টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে শুরু হবে। কার্যক্রমের প্রথম দিন উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিওরি গ্রাম থেকে এটি শুরু করা হবে।

সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমে প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রিজওয়ান আহমেদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদার, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের ব্যক্তিগত সহকারী ও বিএনপি নেতা আখতার নবী চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কোন পরিবারের সহায়তা বেশি প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে। এ কারণে পরিবারগুলোর প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা তুলে ধরে সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৩টি করে ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম চলবে।

এক প্রশ্নের জবাবে সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে একই সঙ্গে কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে কেউ টাকা দাবি করলে তা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা বলেন, "ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ টাকা চাইলে তা বিশ্বাস করা যাবে না। তথ্য প্রদানের জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই।"




মির্জাখীল দরবারশরিফে তিন দিনব্যাপী হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফিনের প্রথম ওরস

মির্জাখীল দরবারশরিফে তিন দিনব্যাপী হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফিনের প্রথম ওরস
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী মির্জাখীল দরবারশরিফে আগামী ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার থেকে শুক্রবার) তিন দিনব্যাপী হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফিন সৈয়দ মাওলানা মুহাম্মদ আরেফুল হাই (ক.)-এর প্রথম ওরসশরিফ ও ওফাত দিবস পালিত হবে। এ উপলক্ষে আনোয়ারা উপজেলার হাজার হাজার ভক্ত, মুরিদ ও আশেকান ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

সিলসিলা-ই-আলিয়া জাহাঙ্গীরিয়ার প্রধান আধ্যাত্মিক কেন্দ্র মির্জাখীল দরবারশরিফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত শাহ জাহাঙ্গীর ইমামুল আরেফিন সৈয়দ মাওলানা ড. মুহাম্মদ মকসুদুর রহমান (ক.)-এর তত্ত্বাবধানে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। ওরস উপলক্ষে কোরআন তিলওয়াত, দোয়া মাহফিল, ফাতিহা পাঠ এবং হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফিনের জীবন, সাধনা ও ধর্মীয় অবদান নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।

মির্জাখীল দরবারশরিফ সিলসিলা-ই-আলিয়া জাহাঙ্গীরিয়ার দীর্ঘ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। এ দরবারে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পূর্ববর্তী পীর-মাশায়েখদের ওরসশরিফ পালনের পাশাপাশি প্রতিদিন ও প্রতি মাসে নিয়মিত ফাতিহা ও বিভিন্ন ধর্মীয় মাহফিলের আয়োজন করা হয়। খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, মিলাদ ও সামা মাহফিল এ ধারার উল্লেখযোগ্য আয়োজন।

সিলসিলার পীর-মাশায়েখগণ শরিয়তের অনুশাসন, তরিকতের সাধনা, হাকিকতের উপলব্ধি ও মারেফতের শিক্ষার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন। তাঁদের আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও কর্মধারায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, পীর-মুর্শিদের নির্দেশনা অনুসরণ এবং মানবসেবার আদর্শ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, তিন দিনব্যাপী এ ওরসশরিফে দেশ-বিদেশের মুরিদ, ভক্ত, আশেকান ও ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে দরবারশরিফে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হবে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে হজরত শাহ জাহাঙ্গীর তাজুল আরেফিন (ক.)-এর স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আত্মশুদ্ধির সাধনা এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে এ ওরসশরিফের আয়োজন করা হয়েছে।




বাঁশখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

বাঁশখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা
বাঁশখালীতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের এক প্রস্তুতি সভা সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি।

সভায় বক্তব্য দেন পূজা উদযাপন পরিষদের বাঁশখালী উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট লায়ন শেখর দত্ত, সেক্রেটারি প্রকৌশলী সঞ্জয় চক্রবর্তী মানিক, বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিরুল মোস্তফা, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনি, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আমিনুর রহমান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বদরুল হক, পৌরসভা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের, বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন সিকদার, হেফাজতে ইসলাম বাঁশখালী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মহিউদ্দিন খান জসিম, পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম তৌহিদুল ইসলাম, পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ঝুন্টু কুমার দাশ প্রমুখ।

সভায় মণ্ডপগুলো মাদকমুক্ত রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিতকরণ, আজান ও নামাজের সময় মাইক বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বক্তারা সম্প্রীতির বাংলাদেশে তথা বাঁশখালীতে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




সাতকানিয়ায় দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন হাজী ফোরকান

সাতকানিয়ায় দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন হাজী ফোরকান
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০  অক্টোবর  চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির দিকনির্দেশনায় দলীয় সমর্থন ও কৌশল নির্ধারণে সাতকানিয়া উপজেলার ৮ নং ঢেমশা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যান ও সাধারণ মেম্বার পদে সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও একক প্রার্থী সমর্থনের লক্ষ্যেই মূলত এই সভার আয়োজন করা হয়।

​উক্ত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম জেলা ও উপজেলা বিএনপি মনোনীত শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ফরম সংগ্রহ করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা হাজী মোহাম্মদ ফোরকান।

​অনুষ্ঠানস্থলে হাজী মোহাম্মদ ফোরকান তার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে নিয়ে সুসংগঠিতভাবে যোগদান করেন। তার আগমন এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের খবরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দ ও উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।

​অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়া এবং ত্যাগীদের সম্মান জানিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।  

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে হাজী মোহাম্মদ ফোরকান জানান, ঢেমশা ইউনিয়নের জনগণের সেবা করা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাতকে শক্তিশালী করাই আমার মূল লক্ষ্য। দল যদি আমাকে চূড়ান্ত সমর্থন দেয়, তবে তৃণমূলের সকল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে ঢেমশা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করব।

​মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।