মাদক মামলার জামিন চাইতে গিয়ে কারাগারে চেয়ারম্যান প্রার্থী সুমন

মাদক মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে গিয়ে জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় কারাগারে যেতে হয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সোহেল উদ্দিন সুমন প্রকাশ ‘ইয়াবা সুমন’-কে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জজকোর্টের এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ রবিউল। এর আগে গত সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা জজকোর্ট সুমনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি জানাজানি হলে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর আগে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে পরোয়ানাভুক্ত ও মাদক মামলার আসামিকে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণা চালাতে দেখে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেন। এরপর তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি; রাতারাতি কোটিপতির তালিকায় নাম লেখান তিনি। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুবাদে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থেকে বাঁচতে সুমন সম্প্রতি ঢাকার জজকোর্টে জামিন নিতে যান। মামলার শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট বিচারক আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মো. সোহেল উদ্দিন সুমন জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের মো. বদিউর আলমের পুত্র। তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এলাকায় তিনি ‘ইয়াবা সুমন’ হিসেবে বেশ পরিচিত।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার কাফরুল থানা পুলিশ সুমনকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠায়। পরে মামলাটিতে তিনি জামিনে মুক্ত হলেও নিয়মিত হাজিরা না দেওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং তিনি এতদিন পলাতক ছিলেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করতে গেলে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠান।
এ ঘটনায় জেলা পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, আসামির বিরুদ্ধে মাদক আইনের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে কঠোর নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এলাকার সচেতন নাগরিক ও সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি বা মামলার আসামি যদি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন, তবে এলাকার সামাজিক পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। যুবসমাজ আরও বেশি মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমরা একজন পরিচ্ছন্ন ও সৎ প্রতিনিধি চাই। কোনো অপরাধী বা মাদক কারবারিকে আমরা প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চাই না।”
ঢাকা জজকোর্টের এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ রবিউল বলেন, “ঢাকার কাফরুল থানার একটি মাদক মামলায় পরোয়ানাভুক্ত মো. সোহেল উদ্দিন সুমন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গত সোমবার দুপুরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন। মামলার শুনানি শেষে বিচারক আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলাটি পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।”








