৮ নম্বর ঢেমশায় দুই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময়
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

৮ নম্বর ঢেমশায় দুই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময়

৮ নম্বর ঢেমশায় দুই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময়
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের দুই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী।

গত ২৯ অক্টোবর হাজী মোহাম্মদ ফোরকানের বাসভবনে এক বৈঠকে মিলিত হন বিশিষ্ট দুই ব্যক্তিত্ব হাজী মো. ফোরকান এবং মো. শহিদুল্লাহ শহিদ।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ধারা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মতবিনিময়টি সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে অংশ নিয়ে উভয় প্রার্থীই স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচন বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা যা-ই থাকুক না কেন—এলাকার সাধারণ মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি এবং সার্বিক উন্নয়নই তাঁদের কাছে সর্বাগ্রে। তাঁরা একে অপরের প্রতি পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান ও সম্প্রীতি বজায় রেখে আগামী দিনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এলাকার কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। দুই প্রার্থীর এমন পরিচ্ছন্ন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মানসিকতা ঢেমশা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়াফেলছে। এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, তাঁদের এই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সুস্থ রাজনীতির চর্চা পুরো ইউনিয়নে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শোকবার্তা

সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শোকবার্তা
ছবি সংগৃহীত।

দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাতকানিয়া উপজেলা প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আরিফুর রহমান আফজালীর পিতা ছদাহা আফজাল নগর নিবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের (৮৫) ইন্তেকালে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) গভীর শোক প্রকাশ করেছে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ তারেক হোসাইন এক যৌথ শোকবার্তায় বলেন, “মরহুম ছিলেন একজন পরহেজগার, দ্বীনদার ও সমাজসেবক। তিনি সর্বদা জামায়াতে ইসলামীর একজন একনিষ্ঠ শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। ইক্বামাতে দ্বীনের (দ্বীন প্রতিষ্ঠা) জন্য বাল্যকাল থেকেই তিনি নিবেদিত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত।”

নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করেন—আল্লাহ যেন তাঁর যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগি কবুল করেন, জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে নেক আমলে পরিণত করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থানে আসীন করেন।

তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে পরিবারের সবাইকে ‘সবরে জামিল’ (ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক) দান করার জন্য প্রার্থনা করেন। আমিন।

উল্লেখ্য, মরহুম হাবিবুর রহমান বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও সামাজিক সংস্থায় নানা দায়িত্ব পালন করেছিলেন।




আনোয়ারার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখবে ইরা ক্লিনিক: সরওয়ার জামাল নিজাম

আনোয়ারার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখবে ইরা ক্লিনিক: সরওয়ার জামাল নিজাম
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেছেন, “আনোয়ারা ও কর্ণফুলী অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গ্রামের নারী ও সাধারণ মানুষ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। তাঁদের জন্য এলাকার কাছাকাছি উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।”

তিনি বলেন, “শুধু একটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, সেখানে আসা রোগীদের সঠিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানের হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি কর্মরত চিকিৎসকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষজ্ঞ পরিচিতি এবং চেম্বারের সময়সূচি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।”

শুক্রবার দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার চাপাতলী ভোলাশাহ এলাকায় ইরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য নিজাম আরও বলেন, “ক্লিনিকটির সার্বিক কার্যক্রম ও যন্ত্রপাতির মান যাচাই করতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো উচিত। প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন ও মান নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে হবে।”

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ইরা ক্লিনিক যেন শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আজীবন আনোয়ারা-কর্ণফুলীর মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে। বিশেষ করে মা-বোনদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ড. আরমান আলীর সভাপতিত্বে এবং ইকবাল হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শফিউল আলম জাকারিয়া চৌধুরী জকু, আখতারুন্নবী চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, নুরুল ইসলাম মেম্বার, আবুল কালাম আবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম দক্ষিণে কিশোরকণ্ঠ বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম দক্ষিণে কিশোরকণ্ঠ বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন
ছবি সংগৃহীত।

মেধা, মনন ও নৈতিকতার সমন্বয়ে আলোকিত প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণের উদ্যোগে ও কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’।

শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থী এ বৃত্তি পরীক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। পুরো পরীক্ষার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডি.এম. আসহাব উদ্দিন এবং সহকারী পরিচালক হিসেবে ছিলেন জিল্লুর রহমান।

এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ কাঞ্চনা নূর আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ রাকিবুল হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং কেন্দ্র উপসচিব তারেকুল ইসলামের পরিচালনায় উক্ত কেন্দ্রের পরীক্ষা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।

এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় সাতকানিয়া উপজেলার ৩,৪২৭ জন, লোহাগাড়ার ২,৪২৩ জন এবং চন্দনাইশ উপজেলার ৪৫৫ জনসহ মোট সাড়ে ছয় হাজারেরও অধিক ছাত্র-ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অভিভাবক দুলন কান্তি দাশ বলেন, “বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থীবান্ধব ছিল। এ ধরনের পরীক্ষা আমাদের সন্তানদের ভেতর লুকিয়ে থাকা মেধা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব জাগিয়ে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।”

আরেক অভিভাবক সেলিনা আকতার বলেন, “শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নয়, নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কিশোরকণ্ঠের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। পরীক্ষাকেন্দ্রের সুন্দর পরিবেশ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক আচরণ আমাদের মুগ্ধ করেছে। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতেও এমন মননশীল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

লোহাগাড়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রহমান বলেন, “কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ভেতরে মেধা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে অসাধারণ ভূমিকা রাখছে। লোহাগাড়ার সুদূর গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও এমন আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।”

চন্দনাইশ উপজেলার অভিভাবক প্রকৌশলী তৌহিদুল আলম জানান, “কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন প্রশংসনীয়। পাঠ্যবইয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশের জন্য এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কক্ষ পরিদর্শক, শৃঙ্খলা বিভাগ, মিডিয়া বিভাগসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতায় পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা সফল করায় সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং অভিভাবকবৃন্দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।

চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাং আবদুল আজিজ দৈনিক সাঙ্গু-কে জানান, “শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি মেধা, সুপ্ত প্রতিভা ও সৎ চরিত্র গঠনে এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক মেধা পরীক্ষা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে ইতিবাচক চর্চা ও মেধা বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সরকার ঘোষিত মানসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে এ জাতীয় ইতিবাচক প্রয়াসগুলোকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

মেধা ও নৈতিকতার মেলবন্ধনে একটি আলোকিত ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনে কিশোরকণ্ঠের এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।