হালদা নদী রক্ষায় কারও সঙ্গে আপস নয়: সরোয়ার আলমগীর এমপি
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

হালদা নদী রক্ষায় কারও সঙ্গে আপস নয়: সরোয়ার আলমগীর এমপি

হালদা নদী রক্ষায় কারও সঙ্গে আপস নয়: সরোয়ার আলমগীর এমপি
ছবি সংগৃহীত।

হালদা নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কারও সঙ্গে আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘হালদা নদী শুধু ফটিকছড়ি বা চট্টগ্রামের নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও জাতীয় সম্পদ। এ নদী রক্ষায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

রোববার (১৬ আগস্ট) ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় মৎস্যপক্ষ-২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকেই বলে আসছি, হালদা নদী আমাদের হেরিটেজ, আমাদের ঐতিহ্য। এটিকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। হালদা নদীর পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে কারও সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না।’

তিনি বলেন, হালদার পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা করতে হলে নদীদূষণ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মাছের প্রজননক্ষেত্র নষ্টসহ যেসব কর্মকাণ্ড নদীর স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উদ্যোগগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মৎস্যচাষ, মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, উদ্যোক্তা তৈরি ও অন্যান্য আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা গেলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি হালদা নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে ছুটলে হবে না, তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। হালদা নদীকে কেন্দ্র করে বাস্তবমুখী কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা গেলে তরুণদের এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তারা হালদা নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলে, মৎস্যচাষি ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির আজম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রেখে যেতে চাই: চট্টগ্রামে বন প্রতিমন্ত্রী

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রেখে যেতে চাই: চট্টগ্রামে বন প্রতিমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হাজারিখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি বন সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে হাজারিখিল অভয়ারণ্য পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে ২৩ লাখ ৫৫ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে গাছের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা চট্টগ্রামে পাঁচ বছর পর ২৫ কোটি গাছ রেখে যেতে চাই।’

বনায়নের পাশাপাশি বনভূমি রক্ষা ও অবৈধ দখলমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে—এমন কোনো কাজ হলে তা বরদাশত করা হবে না। বন বিভাগ যেসব জায়গা দখলমুক্ত করতে কাজ করছে, সেখানেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বন উজাড় ও গাছ পাচারের মতো কর্মকাণ্ড পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বন রক্ষার পাশাপাশি নতুন করে বৃক্ষরোপণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এ সময় শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিপইয়ার্ডে মৃত্যু দুঃখজনক। এটি ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প। যারা এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন, তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তাহলে আমরা এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পেতে পারি।’

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীর, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




চাঁদাবাজি করলে দল ছাড়ুন, না হলে আমার লাশের ওপর দিয়ে করতে হবে: সরোয়ার আলমগীর

চাঁদাবাজি করলে দল ছাড়ুন, না হলে আমার লাশের ওপর দিয়ে করতে হবে: সরোয়ার আলমগীর
ছবি সংগৃহীত।

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও কাউকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে দল থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেন, দলের পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সোমবার (১৫ আগস্ট) ফটিকছড়ির দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘কাউকে ধরে এনে জিম্মি করে চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাস করা হবে—সেটা আমি সরোয়ার আলমগীর হতে দেব না। সেটা যদি করতে হয়, তাহলে আমার লাশের ওপর দিয়ে করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমি চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করছি। সে যেই হোক, কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। সে আমার ভাই হলেও ছাড় পাবে না।’

চাঁদাবাজদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাঁকে ফোন করছেন উল্লেখ করে সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন আমাকে ফোন করেন। আমি চাঁদাবাজদের নাম এখানে উল্লেখ করতে চাই না। আমি তাদের সতর্ক করতে চাই—যাদের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি করার ন্যূনতম চিন্তা আছে, তারা তা থেকে সরে আসুন। আর না হলে দল ছেড়ে চলে যান।’

সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘ফটিকছড়ির মানুষ শান্তি চায়। আওয়ামী লীগের ১৭ বছর ফটিকছড়ির মানুষ শান্তিতে ছিল না। ৫ আগস্টের পর তথাকথিত ইনসাফ বিক্রিকারীরা ফটিকছড়ির মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফটিকছড়ির মানুষ তাদের বিপক্ষে গিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছিল। তার মানে এই নয় যে একই কাজ আমাদের দলের লোকজন করবে। আমি সেটা হতে দেব না।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করা। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোয়া মাহফিলে বিএনপি নেতা আহমেদ হোসেন তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী ও নাজিম উদ্দীন শাহীনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




ফটিকছড়িতে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ

ফটিকছড়িতে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের লাগানো ফলদ ও বনজ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কোনো ধরনের নোটিশ বা পূর্বানুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ১১ ও ১২ আগস্ট ফটিকছড়ির সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

অভিযোগের সঙ্গে জমির খতিয়ান, দাগসংক্রান্ত তথ্য ও রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের জমি দখলের বিষয়ে ভূমি অফিসের প্রতিবেদনের কাগজপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. আবদুল জব্বার বলেন, ফটিকছড়ি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙ্গামাটিয়া মৌজায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি ভোগদখল করে আসছি। প্রায় ৪০ বছর আগে সেখানে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করেছি। বর্তমানে এসব গাছের মূল্য কয়েক লাখ টাকা।

তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক কে এম মাহবুব আলম লোকজন নিয়ে এসে আমার বাগানের গাছ কেটে ফেলেছেন। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এ ছাড়া কৃষিজমির কাছাকাছি রাবার চারা রোপণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষিজমির ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

ভুক্তভোগী জোবায়েত উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী বলেন, রাঙ্গামাটিয়া মৌজায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে জায়গা ভোগদখল করে আসছি। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করেছি। সম্প্রতি রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক এসব গাছ কেটে বাগান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তাঁরা বলেন, ওই এলাকায় সরকারি খাসজমির সীমানা ও দখল নিয়েও জটিলতা রয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য প্রস্তাবিত জমি নিয়েও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই জমির প্রকৃত মালিকানা, সীমানা ও দখল যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক কে এম মাহবুব আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ওই দখলদারদের জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁরা তা গ্রহণ করেননি। পরে আমরা জায়গাটি দখলে নিয়ে গাছ লাগিয়েছি।"

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।