ফটিকছড়িতে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

ফটিকছড়িতে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ

ফটিকছড়িতে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের লাগানো ফলদ ও বনজ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কোনো ধরনের নোটিশ বা পূর্বানুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ১১ ও ১২ আগস্ট ফটিকছড়ির সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

অভিযোগের সঙ্গে জমির খতিয়ান, দাগসংক্রান্ত তথ্য ও রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের জমি দখলের বিষয়ে ভূমি অফিসের প্রতিবেদনের কাগজপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. আবদুল জব্বার বলেন, ফটিকছড়ি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙ্গামাটিয়া মৌজায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি ভোগদখল করে আসছি। প্রায় ৪০ বছর আগে সেখানে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করেছি। বর্তমানে এসব গাছের মূল্য কয়েক লাখ টাকা।

তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক কে এম মাহবুব আলম লোকজন নিয়ে এসে আমার বাগানের গাছ কেটে ফেলেছেন। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এ ছাড়া কৃষিজমির কাছাকাছি রাবার চারা রোপণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষিজমির ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

ভুক্তভোগী জোবায়েত উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী বলেন, রাঙ্গামাটিয়া মৌজায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে জায়গা ভোগদখল করে আসছি। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করেছি। সম্প্রতি রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক এসব গাছ কেটে বাগান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তাঁরা বলেন, ওই এলাকায় সরকারি খাসজমির সীমানা ও দখল নিয়েও জটিলতা রয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য প্রস্তাবিত জমি নিয়েও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই জমির প্রকৃত মালিকানা, সীমানা ও দখল যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক কে এম মাহবুব আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ওই দখলদারদের জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁরা তা গ্রহণ করেননি। পরে আমরা জায়গাটি দখলে নিয়ে গাছ লাগিয়েছি।"

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও কয়েকজন।

আজ (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক বলেন, এখন পর্যন্ত ছয়জনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন— সানি দাস, পলাশ দাস ও মোহাম্মদ হাবিব।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকরা ইয়ার্ডে কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রথমে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকাল ১০টার দিকে একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংকে লিকেজ হয়। স্থানীয় কয়েকজন বহিরাগত বিষয়টি দেখতে গেলে গ্যাসে আক্রান্ত হন।

ইয়ার্ডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান বলেন, এখানে বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। গ্যাস লিক হয়ে বিষক্রিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন। অনেকে প্রথমে এটিকে বিস্ফোরণ বলে মনে করেছিলেন।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার (এসপি) মাহমুদা বেগমও ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়।  
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান বলেন, ১০ শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মারা গেছেন। বাকিদের সর্বশেষ অবস্থা এখনো জানা যায়নি। গ্যাস নির্গমন নাকি বিস্ফোরণ, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
 




ফটিকছড়ির আজিমপুর স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন মাওলানা আজিজুল করিম

ফটিকছড়ির আজিমপুর স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন মাওলানা আজিজুল করিম
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আজিমপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল করিম। তিনি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অধ্যক্ষ আল্লামা ছালেহ আহমদ আল-মাদানীর ছেলে।

১২ আগস্ট (বুধবার) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক মো. আবুল কালামের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে ছয় মাসের জন্য এ অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করবে এ অ্যাডহক কমিটি। কমিটিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে শিশির রঞ্জন সাহা এবং অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে মো. ইব্রাহিম দায়িত্ব পেয়েছেন। পদাধিকারবলে কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন দায়িত্ব পালন করবেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল করিম অধ্যক্ষ আল্লামা ছালেহ আহমদ আল-মাদানী (রহ.) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। তা ছাড়া তিনি কাদেরীয়া মুনিরীয়া আস-ছালেহ ইসলামী একাডেমির সভাপতি এবং সুন্দরপুর ইউনিয়নের কয়েকটি সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন।

মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল করিম বলেন, "বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এ দায়িত্ব পালনে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা চাই। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই।"

নতুন অ্যাডহক কমিটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পালন করবে।




ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম চললেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

বুধবার (১২ আগস্ট) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল।

তাছাড়া প্রজ্ঞাপনে নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে ভূজপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ভূজপুর মৌজায়। নতুন উপজেলার সীমানা ও সংশ্লিষ্ট মৌজার জে.এল. নম্বরও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮-এর ৩(২) ধারার ক্ষমতাবলে সরকার এ ঘোষণা দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের দাবি ও আলোচনার পর ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে পৃথক উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।