ফটিকছড়িতে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের লাগানো ফলদ ও বনজ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কোনো ধরনের নোটিশ বা পূর্বানুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ১১ ও ১২ আগস্ট ফটিকছড়ির সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
অভিযোগের সঙ্গে জমির খতিয়ান, দাগসংক্রান্ত তথ্য ও রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের জমি দখলের বিষয়ে ভূমি অফিসের প্রতিবেদনের কাগজপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. আবদুল জব্বার বলেন, ফটিকছড়ি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাঙ্গামাটিয়া মৌজায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি ভোগদখল করে আসছি। প্রায় ৪০ বছর আগে সেখানে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করেছি। বর্তমানে এসব গাছের মূল্য কয়েক লাখ টাকা।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক কে এম মাহবুব আলম লোকজন নিয়ে এসে আমার বাগানের গাছ কেটে ফেলেছেন। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এ ছাড়া কৃষিজমির কাছাকাছি রাবার চারা রোপণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষিজমির ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
ভুক্তভোগী জোবায়েত উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী বলেন, রাঙ্গামাটিয়া মৌজায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে জায়গা ভোগদখল করে আসছি। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করেছি। সম্প্রতি রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক এসব গাছ কেটে বাগান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তাঁরা বলেন, ওই এলাকায় সরকারি খাসজমির সীমানা ও দখল নিয়েও জটিলতা রয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য প্রস্তাবিত জমি নিয়েও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই জমির প্রকৃত মালিকানা, সীমানা ও দখল যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাঙ্গামাটিয়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক কে এম মাহবুব আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ওই দখলদারদের জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁরা তা গ্রহণ করেননি। পরে আমরা জায়গাটি দখলে নিয়ে গাছ লাগিয়েছি।"
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










