স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত
ছবি সংগৃহীত।

স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদের সঙ্গে সিউদাদ রিয়াল এবং আন্দালুসিয়ার মধ্যে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্পেনের ট্রেন অপরারেটর এডিআইএফ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তারা বিস্তারিত কোনো কিছু জানায়নি।

স্প্যানিশ পাবলিক ব্রডকাস্টার টিভিই জানিয়েছে, দুটি ট্রেন একই লাইনে চলছিল। এরমধ্যে একটি ট্রেন আরেকটি ট্রেনকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে করে ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সান্তেজ বলেছেন, এ দুর্ঘটনায় তিনি ‘অবাক’ হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে ৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতা দিয়ে বলেছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

দুর্ঘটনার শিকার হওয়া দুটি ট্রেনে ৫৪৪ জন যাত্রী ভ্রমণ করছিলেন। দুর্ঘটনাটি হয় মোরা এবং ওরগাজ শহরের মধ্যবর্তী স্থানে। দুটি ট্রেনই মাদ্রিদ থেকে সেভিয়াতে যাচ্ছিল।

জেসুস জেরোনিমো নামে ৫৪ বছর বয়সী এক যাত্রী বলেছেন, ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের যাত্রীরা ভেতর থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যান।

তিনি বলেছেন, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে আমরা বাইরে বের হই এবং দেখতে পাই আমাদের ট্রেন একপাশে কাত হয়ে গেছে। সেখানে অনেক আহত মানুষ ছিলেন। অনেকে ভয়ে কাঁপছিলেন।”

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট




ফের ৪ হাজার ডলার ছাড়ালো সোনার দাম

ফের ৪ হাজার ডলার ছাড়ালো সোনার দাম
ছবি সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আবারও প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

সোমবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪ ডলার ৪৯ সেন্টে দাঁড়ায়। এর আগে শুক্রবার দাম কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৭৫ ডলারে নেমেছিল, যা গত ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য সোনার ফিউচার মূল্যও ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮ ডলার ৪০ সেন্ট হয়েছে।

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, কিছু বিনিয়োগকারী প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ডলারের দামকে সোনা কেনার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। অতীতেও এই দামের কাছাকাছি পর্যায়ে ভালো চাহিদা দেখা গেছে। ফলে সামনে সোনা কেনার প্রবণতা কিছুটা বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, তেলের দাম কমায় সোনার বাজার কিছুটা সমর্থন পাচ্ছে। তবে আগামী ডিসেম্বরে এবং পরের বছর ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা সোনার দামের ঊর্ধ্বগতিকে সীমিত করছে। চলতি সপ্তাহের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ভবিষ্যতে তা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ীরা ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তারা ৮০ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন।

সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। এতে সোনার চাহিদা ও দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, গোল্ড প্রাইস.কম




সোনা কিনে জঙ্গলে রাখলেই ‘লাভ’, ফাঁদে পড়ে সঞ্চয় হারাচ্ছে মানুষ

সোনা কিনে জঙ্গলে রাখলেই ‘লাভ’, ফাঁদে পড়ে সঞ্চয় হারাচ্ছে মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

সোনা কিনে তা বনের নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে আসতে বলা হচ্ছে মানুষকে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, এতে সোনা নিরাপদ থাকবে এবং ভবিষ্যতে দাম বাড়লে লাভ হবে। কিন্তু সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে সোনা রেখে আসার পর আর সেটির খোঁজ পাচ্ছেন না অনেকে। নরওয়েতে বিনিয়োগের নামে এ ধরনের অদ্ভুত প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট সংগঠন।

নরওয়ের আর্থিক পরিষেবা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ফিনান্স নরওয়ে জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণায় কয়েকজন ব্যাংক গ্রাহক তাদের সঞ্চিত অর্থ হারিয়েছেন। এরপর সন্দেহজনক বিনিয়োগের প্রস্তাব সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করছে দেশটির ব্যাংকগুলো।

বনে সোনা রেখে আসার ফাঁদ

সাধারণত বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করতে মানুষকে ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠাতে বলা হয়। কিন্তু নরওয়ের এই প্রতারণায় ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথমে মানুষকে সোনা কিনতে রাজি করানো হয়। এরপর সেই সোনা বনের নির্জন জায়গায় রেখে আসতে বলা হয়।

প্রতারকেরা দাবি করে, এভাবে সোনা রাখলে তা নিরাপদ থাকবে এবং বিনিয়োগ থেকে লাভ পাওয়া যাবে। কিন্তু সোনা রেখে আসার পর সেটি চুরি হয়ে যায়। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন ভুক্তভোগীরা।

ফিনান্স নরওয়ের প্রতারণা প্রতিরোধ কার্যক্রমের পরিচালক গ্রি নেরগার্ড জানান, এ ধরনের প্রতারণার প্রথম ঘটনাগুলো সামনে আসে গত বসন্তে। এরপর রাজধানী অসলো ও আশপাশের শহরগুলোর পাশাপাশি দেশটির পশ্চিম উপকূলের বার্গেন শহরেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনায় মোট কত টাকার সোনা চুরি হয়েছে, তা জানায়নি সংগঠনটি। তবে সোনা কিনে নিজের কাছে রাখার বদলে অন্যের নির্দেশে নির্জন জায়গায় রেখে আসার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতারণায় ১০ কোটি ডলারের ক্ষতি

নরওয়েতে শুধু সোনা নিয়ে এ ধরনের প্রতারণাই নয়, আর্থিক জালিয়াতির আরও নানা ঘটনা ঘটছে।

ফিনান্স নরওয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটির ব্যাংক ও তাদের গ্রাহকেরা আর্থিক প্রতারণার কারণে মোট ৯৬ কোটি ২০ লাখ ক্রোনার হারিয়েছেন। মার্কিন মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ডলার।

তবে প্রতারণা ঠেকাতেও কাজ করছে ব্যাংকগুলো। সংগঠনটি জানিয়েছে, গত বছর প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা ৩৫০ কোটি ক্রোনারের বেশি অর্থ আটকে দিতে পেরেছে ব্যাংকগুলো।

প্রতারকেরা কখনো বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে, কখনো মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে, আবার কখনো পরিচিত বা বিশ্বাসযোগ্য কারও পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে।

সতর্ক করতে প্রচার শুরু

প্রতারণা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ফিনান্স নরওয়ে ও দেশটির বিভিন্ন ব্যাংক ‘নো ওয়ে—ইউ ওয়ান্ট ফুল মি’ নামে একটি প্রচার শুরু করেছে। এর মাধ্যমে কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক প্রস্তাব পেলে সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অপরিচিত কারও বিনিয়োগের প্রস্তাবে সহজে বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রস্তাবটি কারা দিচ্ছে, কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে এবং লাভের প্রতিশ্রুতির ভিত্তি কী—এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।

সোনা কিনলেই কি বিনিয়োগ নিরাপদ?

দীর্ঘমেয়াদে সম্পদের মূল্য ধরে রাখার আশায় অনেকে সোনা কেনেন। তবে সোনার দাম সব সময় বাড়ে না। এর পাশাপাশি সোনা কোথায় রাখা হচ্ছে, কীভাবে কেনা হচ্ছে এবং পরে কীভাবে বিক্রি করা হবে, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

নরওয়ের এই ঘটনা দেখিয়েছে, মূল্যবান সম্পদ কিনেও প্রতারণার শিকার হওয়া সম্ভব। তাই সোনা বা অন্য কোনো সম্পদ কেনার পর অচেনা কারও নির্দেশে তা নির্জন জায়গায় রেখে আসা উচিত নয়।

অপরিচিত কোনো বিনিয়োগে টাকা খরচ করার আগে তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজনে স্বাধীন আর্থিক পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সূত্র: ইয়াহু ফাইন্যান্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস




হুথি হামলার জেরে তেলের দাম গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

হুথি হামলার জেরে তেলের দাম গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরব লক্ষ্য করে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অব্যাহত হামলা, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ থাকায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল শুক্রবার যে দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছে, তা গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

দাম বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয়েরই। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে। আগের দিন বৃহস্পতিবারের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৫ ডলার বা শতকরা হিসেবে ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।

একই দিন ডব্লিউটিআইয়ের প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে। আগের দিন বৃহস্পতিবারের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ ডলার বা শতকরা হিসেবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে সর্বশেষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এই মূল্যচিত্র দেখা গিয়েছিল গত ২৯ এপ্রিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সামরিক অভিযান ও পাল্টাপাল্টি আঘাত তুঙ্গে ছিল।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে শতকরা ৬ শতাংশ; আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার ঘটনা আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং তেল সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে সরবরাহ ঝুঁকির আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করেছে।

এ মূল্যবৃদ্ধির জেরে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের জ্বালানি খাত ২.৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো পতনের মধ্য দিয়ে দিন শেষ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সূত্র : রয়টার্স