ফটিকছড়িতে বিনা মূল্যে চোখের চিকিৎসা নিলেন তিন শতাধিক রোগী
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে বিনা মূল্যে চোখের চিকিৎসা নিলেন তিন শতাধিক রোগী

ফটিকছড়িতে বিনা মূল্যে চোখের চিকিৎসা নিলেন তিন শতাধিক রোগী
ছবি সংগৃহীত।

চোখের নানা সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন করেছে লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ফিনিক্স। বুধবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারৈয়ারহাট এলাকায় নজরুল আদর্শ সংঘ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তিন শতাধিক মানুষ চক্ষু চিকিৎসা ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের সেবা নেন।
কর্মসূচিতে রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন প্রায় ৫০ জন রোগীর চোখের অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে পরবর্তী সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মুর্তজা রেজা হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাসিম হায়দার।
আয়োজকেরা জানান, সাধারণ মানুষের কাছে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া, চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদের পরবর্তী চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। নজরুল আদর্শ সংঘের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. দীপক কুমার রায়, ডা. এস কে রায় নান্টু, ডা. অজিত চন্দ্র দে, সাবেক কাউন্সিলর এহসানুল করিম, ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম এবং বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ব্যাংকের জোনাল হেড মুজতবা আলী হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং ফিনিক্সের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রিজিয়ন চেয়ারপারসন (হেডকোয়ার্টার অ্যাডমিন) লায়ন মো. মাহাবুবুল ইসলাম, লায়ন আব্দুল্লাহ আল কাদের, রিজিয়ন চেয়ারপারসন লায়ন ইঞ্জিনিয়ার অশোক কুমার চৌধুরী, উপদেষ্টা লায়ন ইঞ্জিনিয়ার হোসেন ইমাম, ক্লাব সেক্রেটারি লায়ন ইঞ্জিনিয়ার শেখ কাওছার মাছুম, জোন চেয়ারপারসন লায়ন মো. মামুনুর রশিদ (এমজেএফ), ট্রেজারার লায়ন ওমর ফারুক ও ডিস্ট্রিক্ট অবজারভার লায়ন মো. কামরুল হাসান।
নজরুল আদর্শ সংঘের সভাপতি মাহফুজুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক মো. তানবীর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যকরী পরিষদ, স্থায়ী পরিষদ ও স্কাউট দলের সদস্যরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন।




ফটিকছড়ির হেঁয়াকোতে টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা, ধাওয়া খেয়ে সুয়াবিলে আটক ৫

ফটিকছড়ির হেঁয়াকোতে টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা, ধাওয়া খেয়ে সুয়াবিলে আটক ৫
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো এলাকায় মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে চুরির চেষ্টা চালিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন তাঁদের ধাওয়া করে নাজিরহাট পৌরসভার সুয়াবিল টেকের দোকান এলাকা থেকে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি নোহা গাড়ি নিয়ে পাঁচ ব্যক্তি হেঁয়াকো এলাকায় একটি মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে এলে তাঁরা ধাওয়া দেন। এ সময় ওই ব্যক্তিরা গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে সেখান থেকে ধাওয়া করে নাজিরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুয়াবিল টেকের দোকান এলাকায় গাড়িসহ তাঁদের আটকে ফেলেন স্থানীয়রা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঢাকার কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে সাইদুল ইসলাম শিমুল (৩২), কুমিল্লার লাকসামের মৃত রফিকের ছেলে সামশু উদ্দিন (৪১), একই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোজাম্মেল হক (৩২), চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণের সিরাজুলের ছেলে ইউনুস (৪২) এবং কুমিল্লার লাকসামের তৈয়ব আলীর ছেলে সোহাগ (৩৪)।

খবর পেয়ে উদালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জ্যোতিষ চন্দ্র দেব ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে ভূজপুর থানায় নিয়ে যান।

ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, “টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা পাঁচজনকে আটক করেন। পরে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”




ফটিকছড়িতে একদিনে ৭ হাজার বৃক্ষরোপণ, সবুজায়নে নতুন উদ্যোগ

ফটিকছড়িতে একদিনে ৭ হাজার বৃক্ষরোপণ, সবুজায়নে নতুন উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এক দিনে সাত হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভার আয়োজনে বারৈয়ারহাট এলাকার উৎসব কমিউনিটি সেন্টারে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘এক দিনে ১ লক্ষ বৃক্ষ, সবুজ পরিবেশ আমাদের লক্ষ্য’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

কর্মসূচিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্ল্যাহ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব চারা রোপণ করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “একটি চারা রোপণ করা মানে শুধু একটি গাছ লাগানো নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্মল বাতাস, নিরাপদ পরিবেশ ও সবুজ পৃথিবীর ভিত্তি তৈরি করা। তবে বৃক্ষরোপণের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে চারাগুলো বাঁচিয়ে রাখা এবং সঠিক পরিচর্যার ওপর।”

তিনি আরও বলেন, “চারা রোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়কের পাশে উপযুক্ত স্থানে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বও নিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার মাধ্যমে ফটিকছড়িকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এক দিনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে নিয়মিত পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে রূপ দিতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”




দুই দফা মেয়াদ শেষ, তবু অসমাপ্ত সেতুর কাজ—কাঠগড়ায় ঠিকাদার

দুই দফা মেয়াদ শেষ, তবু অসমাপ্ত সেতুর কাজ—কাঠগড়ায় ঠিকাদার
ছবি সংগৃহীত।

তেলপারই খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দাঁড়িয়ে আছে দুটি পিলার। পাশে পড়ে থাকা রডে ধরেছে মরিচা। অথচ সেতুর বাকি কাজ শেষ করার কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতায় দুর্ভোগ কমার বদলে বেড়েছে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি। ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের অস্থায়ী সাঁকো পার হয়েই চলাচল করতে হচ্ছে কৃষক, পথচারী ও বাসিন্দাদের। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা ও প্রকল্প তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের দমদমা এলাকার ওমদা মিয়া সওদাগর বাড়ির পশ্চিম পাশে তেলপারই খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির চিত্র এটি। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও সেতুর কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিং করপোরেশন। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়। তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে তেলপারই খালের ওপর ১৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের জুনে কাজ শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় ২০২৪ সালের জুনে। পরে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। এ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬৬ লাখ টাকা উত্তোলনও করেছে।

স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন ও আবু আহমদ বলেন, “সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক দিন পর সেতুর কাজ শুরু হলেও দুটি পিলার নির্মাণের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখনো ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হয়। আমরা দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।”

নির্মাণকাজে তদারকির ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, “পিআইও কার্যালয় স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ঠিকাদারকে আরও জোরালোভাবে তাগাদা দিলে কাজ অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত। এ ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও পিআইও কার্যালয়—উভয়েরই গাফিলতি রয়েছে।”

লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহীন বলেন, “দমদমা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। অনেক তদবিরের পর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদারের চরম গাফিলতির কারণে বছরের পর বছর ধরে কাজটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ঠিকাদার আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুতই নির্মাণকাজ শেষ করবেন।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. এরশাদ বলেন, “আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সেতুটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবু নাছের বলেন, “সেতুটির কার্যাদেশ ও প্রকল্পের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে কার্যাদেশের মেয়াদও বাড়তে পারে। কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”