সাতকানিয়ায় হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দ্রুত গ্রেফতারের দাবি
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

সাতকানিয়ায় হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দ্রুত গ্রেফতারের দাবি

সাতকানিয়ায় হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দ্রুত গ্রেফতারের দাবি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পাইপ-ফিল্টার ঠিকাদার, মধ্যম নয়াপাড়া জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম মিজবাহর ওপর কথিত কিশোর গ্যাং ও বখাটে সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে কেঁওচিয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আজিজ, মো. জামাল, শামসুল ইসলাম, ছিনু আক্তার ও সেতারা বেগম।

বক্তারা বলেন, "তৌহিদুল ইসলাম মিজবাহ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর ওপর সন্ত্রাসী হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং পুরো এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার ওপর আঘাত। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"

তাঁরা আরও বলেন, "কিশোর গ্যাংয়ের হোতা ফরহাদ, আরিফ, সাইফুল ও শাহেদের দৌরাত্ম্যে এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।"

বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।"

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।




সাতকানিয়ায় ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

সাতকানিয়ায় ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

সাতকানিয়ায় স্থানীয় দুই যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ‘সাতকানিয়ার সচেতন ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে সাতকানিয়া থানার সামমে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিজবাহ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা দাবি করেন, স্থানীয় ছাত্রদল নেতা ফরহাদ ও সাইফুল এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকের হোসেন রাব্বি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার, আজ তারাই মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছেন। আমরা নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

জাতীয় ছাত্র শক্তি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাতকানিয়ায় মাদক ও সন্ত্রাসের বিস্তার রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে ফরহাদ ও সাইফুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করা হয় এবং অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভকারীরা সাতকানিয়া থানার সামনে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।




আনোয়ারা উপজেলায় বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, চার ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

আনোয়ারা উপজেলায় বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, চার ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি এবং বৈধ ক্রয়-রসিদ সংরক্ষণ না করার দায়ে দুই ডিলারসহ চার ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার কালাবিবির দীঘি ও চাতরী চৌমুহনী বাজারে অভিযান চালিয়ে এই অর্থদণ্ড আদায় করেন আনোয়ারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু জাফর মজুমদার।

অভিযান সূত্র জানায়, কালাবিবির দীঘি এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী দুই ডিলারকে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাঁরা হলেন—বিনিময় ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী খোরশেদ আলম (৪৪) এবং সাদিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাদিম উদ্দিন (২৯)।

একই দিনে চাতরী চৌমুহনী বাজারে সিলিন্ডারের বৈধ ক্রয়-রসিদ না থাকা এবং বেশি দামে গ্যাস বিক্রির দায়ে আরও দুই খুচরা ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তাঁরা হলেন—জহির স্টোরের স্বত্বাধিকারী জহির উদ্দিন আহমদ (৪০) এবং ইব্রাহিম স্টোরের স্বত্বাধিকারী ইব্রাহিম (৫৮)।

জানা যায়, খুচরা বিক্রেতার কাছে ক্রয়-রসিদ না থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রসিদ না থাকলে বোঝার উপায় থাকে না যে তিনি ডিলারের কাছ থেকে ঠিক কত দামে সিলিন্ডার কিনেছেন। আর সেই হিসাব না থাকলে বাড়তি দাম নেওয়ার দায় কেবল দোকানির, নাকি তাঁর আগের ধাপের—তা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

চট্টগ্রামের বাজারে সাম্প্রতিক এলপিজি সংকটে খুচরা বিক্রেতারা বরাবরই বলে আসছেন, ডিলারের কাছ থেকেই তাঁদের চড়া দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এবারের অভিযানে ডিলার পর্যায়ের দুই প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা সেই অনিয়মের শৃঙ্খলের দিকেই ইঙ্গিত করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু জাফর মজুমদার বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনস্বার্থে আনোয়ারা উপজেলায় এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’




আনোয়ারায় ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, লাশ নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও: ১৩ ঘণ্টা ধরে হাসপাতালে পড়ে রয়েছে মরদেহ!

আনোয়ারায় ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, লাশ নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও: ১৩ ঘণ্টা ধরে হাসপাতালে পড়ে রয়েছে মরদেহ!
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট এলাকায় ‘সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হসপিটাল’ নামের একটি অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় মো. আয়ান (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার রাত ১০টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হলেও বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বজন ও স্থানীয় শত শত মানুষ শিশুটির মরদেহ হাসপাতালের সামনে রেখে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। তবে এ সময় হাসপাতালের কোনো কর্তব্যরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি।

নিহত শিশু আয়ানের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় হলেও বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে সে মা কুমকুম আকতার রুম্পার সঙ্গে নানার বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের গহিরা পাড়ার ছাদেক আলী তালুকদারের বাড়িতে থাকত। তার মা কুমকুম আকতার কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) একজন পোশাক শ্রমিক।

নিহত শিশুর মামা সাইফুর রহমান জানান, বুধবার বিকেলে তার ভাগিনা আয়ান একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আহত হলে দ্রুত তাকে সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং তিন দিন পর হাসপাতালে আনতে বলেন। স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর রাত ৯টার দিকে শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে। দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতাল কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতালের সাধারণ কর্মচারী দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছে। বারবার বলার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এই অবৈধ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ না করা পর্যন্ত তাঁরা শিশুর মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আতাউল্লাহ নামের এক ব্যক্তি জানান, গতকাল একটি শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসা দেওয়ার পর স্বজনরা তাকে আবার বাড়ি নিয়ে যান। পরে শোনেন শিশুটি মারা গেছে। এরপর থেকে শিশুর স্বজনরা হাসপাতালে লাশ নিয়ে এসে প্রতিবাদ করছেন।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘বটতলী রুস্তমহাটে সাঙ্গু ট্রমা নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত শিশুর স্বজন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।’