রামুতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

রামুতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

রামুতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘবছরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রামুর বাঁকখালী নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে ফতেখাঁরকুলের বৃহত্তর অফিসের চর ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে খেলার উদ্বোধন হয়। এর আগে একটি শোভাযাত্রা (র‍্যালি) বের করা হয়।

বাদ্যের তালে যুবকদের নাচে-গানে শুরু হয় উৎসব। এ সময় নদীর দুপাড়ে উৎসুক জনতার ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

ফাইনালসহ মোট ১৫ রাউন্ড খেলায় বিজয়ী হয়েছে ‘নদীর তুফান’ দল এবং রানার্সআপ হয়েছে ‘কৃষক সমবায় সমিতি’।

বিজয়ী দলের সদস্যরা জানান, নৌকাবাইচের এই সুন্দর আয়োজনে তারা বেশ উচ্ছ্বসিত। তারা আয়োজকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আয়োজকদের অন্যতম সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন রনি বলেন, “বাঁকখালীতে দীর্ঘকাল ধরে বৃহৎ পরিসরে নৌকাবাইচ হচ্ছে না। সেই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম জানান, নৌকাবাইচের এই ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকুক। বর্তমান প্রজন্ম মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলায় মনোনিবেশ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর।

খেলার শেষে বিজয়ীদের মাঝে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামু উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা মির্জা আবছার, মৈত্রী-০২-এর সভাপতি ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরুল আলমসহ অনেকে।

আয়োজকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন রনি, সোহেল রানা, আমির হামজা, রিমন, মোমেন, নুরুল আজিম, আনসার উল্লাহ, স্বপন প্রমুখ।

বাঁকখালীর বুকে যুগ যুগ ধরে চলমান থাকুক নৌকাবাইচ—এই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।




রামুতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান: অটোরিকশার সিটের নিচে ২০ হাজার ইয়াবা, আটক ৩

রামুতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান: অটোরিকশার সিটের নিচে ২০ হাজার ইয়াবা, আটক ৩
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশার পেছনের সিটের নিচে লুকিয়ে রাখা ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে; জব্দ করা হয়েছে ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত নম্বরবিহীন অটোরিকশাটিও।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ারদীঘি রাস্তার মাথা সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ারদীঘি আদর্শগ্রামের তৈয়ব উল্লাহ (৩০), বান্দরবানের আলীকদম সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্বপালংপাড়ার শাহিনা আক্তার (২২) এবং রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মৌলভীবাজার আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার উম্মে হাবিবা (১৬)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল জানিয়েছেন, অভিযানে ‘নুরজাহান মোটরস’ নামের নম্বরবিহীন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। অটোরিকশাটির পেছনের সিটের নিচে একটি শপিং ব্যাগে স্কচটেপ ও টিস্যু দিয়ে মোড়ানো দুটি পুঁটলি ছিল। এতে ছিল ২০ হাজার ইয়াবা।

এ ঘটনায় আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় মামলা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল।




চকরিয়া-মাতামুহুরীতে শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

চকরিয়া-মাতামুহুরীতে শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা
ছবি সংগৃহীত।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় শুরু হয়েছে উৎসবের আবহ। আসন্ন এই দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন, আনন্দময় ও সম্প্রীতির বন্ধনে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে পূজামণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা, মণ্ডপভিত্তিক পরিদর্শন, দর্শনার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মণ্ডপে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি থাকবে এবং প্রশাসন সর্বদা সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হেদায়ত উল্লাহ, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. আব্দুর রহিম, পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. কুতুব উদ্দিন হেলালী, চকরিয়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ এবং মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

চকরিয়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে ছয় দিনব্যাপী এই উৎসব। এ বছর চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা মিলিয়ে মোট ৫০টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা এবং ৪৯টি মণ্ডপে ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর এই সমন্বিত উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতায় পূজারার্থীরা নির্ভয়ে ও আনন্দের সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপন করতে পারবেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও শাহীন দেলোয়ার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের আবহমান বাংলার অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। এই উৎসব ঘিরে যেন কোনো অশুভ শক্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং টিম কাজ করবে। যেকোনো ধরনের গুজব বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের প্রয়াসে চকরিয়ায় এবারও উদযাপিত হবে এক স্মরণীয় দুর্গোৎসব।




দৈনিক সাঙ্গুর কক্সবাজারস্থ ব্যুরো চিফ পদে পদোন্নতি পেলেন ইমাম খাইর

দৈনিক সাঙ্গুর কক্সবাজারস্থ ব্যুরো চিফ পদে পদোন্নতি পেলেন ইমাম খাইর
ছবি সংগৃহীত।

বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঠকনন্দিত পত্রিকা দৈনিক সাঙ্গুর কক্সবাজারস্থ নিজস্ব প্রতিবেদক ইমাম খাইরকে ব্যুরো চিফ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

তাঁর পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে পত্রিকার সম্পাদক কবির হোসেন ছিদ্দিকী গত ৭ অক্টোবর দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদোন্নতির ঘোষণা দেন।

ইমাম খাইরের অধীনে কক্সবাজার জেলার সব উপজেলা প্রতিনিধি কাজ করবেন। সেই সঙ্গে ব্যুরো অফিসের অধীনে মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধিসহ আরও দুজন রিপোর্টার নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে ব্যুরো চিফের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে।

ইমাম খাইর দুই দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত আছেন এবং জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত উপস্থাপক।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত অনলাইন গণমাধ্যম—কক্সবাজার জেলার সর্বপ্রথম এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় নিউজ মিডিয়া কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন) বা কক্সবাজার নিউজ-সিবিএন-এর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী পরিচালক (পিআর অ্যান্ড মিডিয়া) পদে কর্মরত আছেন।

ইমাম খাইর কক্সবাজার প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সদস্য। ছাত্রজীবন থেকে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

পেশাগত দায়িত্ব পালনে তিনি সবার দোয়া, পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। দৈনিক সাঙ্গুর কক্সবাজারস্থ ব্যুরো চিফ পদে উন্নীত করায় তিনি সম্পাদক কবির হোসেন সিদ্দিকীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।