আনোয়ারায় ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, লাশ নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও: ১৩ ঘণ্টা ধরে হাসপাতালে পড়ে রয়েছে মরদেহ!

আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট এলাকায় ‘সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হসপিটাল’ নামের একটি অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় মো. আয়ান (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার রাত ১০টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হলেও বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বজন ও স্থানীয় শত শত মানুষ শিশুটির মরদেহ হাসপাতালের সামনে রেখে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। তবে এ সময় হাসপাতালের কোনো কর্তব্যরত কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি।
নিহত শিশু আয়ানের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় হলেও বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে সে মা কুমকুম আকতার রুম্পার সঙ্গে নানার বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের গহিরা পাড়ার ছাদেক আলী তালুকদারের বাড়িতে থাকত। তার মা কুমকুম আকতার কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) একজন পোশাক শ্রমিক।
নিহত শিশুর মামা সাইফুর রহমান জানান, বুধবার বিকেলে তার ভাগিনা আয়ান একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আহত হলে দ্রুত তাকে সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং তিন দিন পর হাসপাতালে আনতে বলেন। স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর রাত ৯টার দিকে শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে। দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতাল কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতালের সাধারণ কর্মচারী দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছে। বারবার বলার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এই অবৈধ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ না করা পর্যন্ত তাঁরা শিশুর মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আতাউল্লাহ নামের এক ব্যক্তি জানান, গতকাল একটি শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসা দেওয়ার পর স্বজনরা তাকে আবার বাড়ি নিয়ে যান। পরে শোনেন শিশুটি মারা গেছে। এরপর থেকে শিশুর স্বজনরা হাসপাতালে লাশ নিয়ে এসে প্রতিবাদ করছেন।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘বটতলী রুস্তমহাটে সাঙ্গু ট্রমা নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত শিশুর স্বজন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।’









