শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মানবাধিকার কর্মী নাভেনথাম নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার কারণে তাকে সম্মানজনক এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

কমিটি আরও জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যাকারীরা যেন বিচারের মুখোমুখি হয় সেটি নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাভেনথাম।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন বর্ণ বৈষম্য চলছিল তখন ডারবানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তামিল পরিবারে জন্ম হয় নাভেনথামের। তিনি পরবর্তীতে আইনজীবী ও আইনি ক্ষেত্রে অগ্রদূত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিনি সমাজে থাকা অবকাঠামোগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় বর্ণবাদবিরোধী নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যান্যদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন জীবনের শুরুতে। এরপর বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সব আদালতে।

তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে কাজ করেছেন।


সম্প্রতি তিলি ফিলিস্তিনের দখলকৃত ভূখণ্ডে দখলদার ইসরায়েলের অপরাধ তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনেও কাজ করেছেন।

আর বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে আছেন যেখানে গণহত্যায় অভিযুক্ত মিয়ানমারের বিচার চলছে।

এরআগে গত বছর শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং দেশটিকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতান্ত্রিক পথে নেওয়ার আন্দোলনের জন্য তাকে নোবেল দেওয়া হয় বলে জানায় নোবেল কমিটি।

২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন পাকিস্তানের মালালা ইউসুফ জাই। তার চেয়ে কম বয়সে আর কেউ নোবেলে ভূষিত হয়নি। অপরদিকে ১৯৯৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে নোবেল পেয়েছিলেন জোসেফ রোটব্লাট।

নোবেল কমিটি বলেছে এ বছর নাভেনথামকে নোবেলে ভূষিত করে তারা বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতে চান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন মিলে সেই সিস্টেম গড়ে তোলে যেগুলো দিয়ে আমরা অসহিংসভাবে দ্বন্দ্বের সমাধান এবং শান্তি সমুন্নত রাখতে পারি।




বাব এল মান্দেব প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিলো ইয়েমেনি বাহিনী

বাব এল মান্দেব প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিলো ইয়েমেনি বাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট বাব এল মান্দেব প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিয়েছে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী। এরসঙ্গে প্রণালিতে থাকা পেরিম দ্বীপও পুনর্দখল করেছে তারা।

ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর টানা কয়েকদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর হুথিরা প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এর আগে এক মাস আগে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে বাব এল মান্দেব ও পেরিম দ্বীপ দখল করেছিল তারা।

এরমধ্যে ধুরাব এলাকার কাছে হুথিদের একাধিক যোদ্ধাকে আটক করেছে সরকারি বাহিনী।

ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে গত সপ্তাহে অভিযান শুরু করে ইয়েমেনি বাহিনী। তাদের লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো পুনর্দখল করা, যেখান থেকে বাব এল মান্দেব প্রণালিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক রুট।

হুথিরা প্রণালিটি দখল করার পর সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছিল।

সরকারি বাহিনীর একটি সূত্র শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জানিয়েছে, যখন তাদের সেনারা বাব এল মান্দেব নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছিল তখন হুথিরা ব্যাপক হামলা চালিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করে। এ সময় মিসাইল ও ড্রোন ছুড়ে বিদ্রোহীরা। তবে তাদের হামলা প্রতিহত করা হয় এবং অপারেশন ডন অব ইয়েমেনের অধীনে লড়াই অব্যাহত থাকে।

বাব এল মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। পেরিম দ্বীপটি প্রণালির ঠিক প্রবেশদ্বারে অবস্থিত। ফলে এটি সেখানকার আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: আল-আরাবিয়া




রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ফরাসি ও জাপানিজ দুই বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগন এবং জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রসায়নের ওই দুই নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স বলেছে, জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য চলতি বছর হেনরি কাগন ও কেনসো সোয়াইকে রসায়নের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো কিছু অণুর অস্তিত্ব আলাদা দুটি ভ্যারিয়েন্টে থাকে। যেগুলো একে অপরের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু জীবদেহে একটি মাত্র প্রতিচ্ছবিই থাকে। এ ধরনের রাসায়নিক অসামঞ্জস্যতা কীভাবে তৈরি হলো, তা রসায়নবিদদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে একটি রহস্য ছিল। আর এই রহস্য ভেদ করার জন্যই এ বছর এ দুই বিজ্ঞানীকে রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

জীবনের রসায়নকে রসায়নবিদরা ‘হোমোকাইরাল’ বলেন, যা গ্রিক শব্দ “একই” এবং “হাত” থেকে এসেছে। হাতের মতো, সব অ্যামিনো অ্যাসিড দুটি আয়না রূপেই থাকে, কিন্তু এর মধ্যে কেবল একটি রূপই আপনার কোষের প্রোটিনে পাওয়া যায়। অন্যটি প্রকৃতিতে খুব একটা পাওয়া যায় না।

হোমোকাইরাল কীভাবে তৈরি হতে পারে, তা রসায়নবিদরা দীর্ঘকাল ধরে ভেবেছিলেন। যখন তারা এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন যা দুটি আয়না অণু তৈরি করতে পারে, তখন তারা টেস্টটিউবে সবসময় দুটির সমান পরিমাণই পেতেন। তবে রসায়নবিদরা কেবল একটি আয়না প্রতিবিম্ব তৈরি করার চেষ্টা করতেন; কারণ জীবন্ত প্রাণীদের সাথে মিথস্ক্রিয়া করবে এমন অণু তৈরির ক্ষেত্রে—যেমন ওষুধে—কেবল একটি প্রতিবিম্বই কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়।

২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার এমন আবিষ্কারগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে যা রসায়নবিদদের এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া চালাতে সক্ষম করেছে যা হোমোকাইরাল রূপ তৈরি করে।

এক্ষেত্রে ১৯৮৬ সালে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন হেননি কাগান। তিনি রাসায়নিকের প্রতিক্রিয়া বদলে দেওয়ার নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এতে করে তিনি একটি প্রতিচ্ছবির ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ পান, যা আগে সম্ভব হিসেবে ধারণা করা হতো।

অপরদিকে কেনসো সোয়াই ১৯৯৫ সালে পরবর্তী পদক্ষেপ নেন। তিনি একটি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানান তিনি কীভাবে প্রথমবারের মতো এমন রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া ডিজাইন করেছেন যা সম্ভাব্য হোমোকাইরাল ছিল। ২০০৩ সালে তিনি এতে চূড়ান্ত সাফল্য পান। তিনি এমন একটি প্রতিক্রিয়া দেখান যেখানে সম্ভাব্য একটি প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়েছিল। জীব ছাড়া এরআগে কেউ কখনো এই সাফল্য পাননি।

এর আগে, গত বছর রসায়নে নোবেল জেতেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম ইয়াগি। ‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ উদ্ভাবনের কারণে তাদের ওই বছর রসায়নে নোবেল দেওয়া হয় বলে জানায় সুইডিশ অ্যাকাডেমি।

এখন পর্যন্ত রসায়নে ১১৭ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে ২০১৮ সালে ৯৭ বছর বয়সে নোবেল জেতেন জন বি গুডএনাফ। অপরদিকে ১৯৩৫ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে সম্মানজনক এ পদক জেতেন ফেদ্রিক জোলিয়ট। সব মিলিয়ে ১৯৮ জন এ রসায়নশাস্ত্রে সর্বোচ্চ সম্মানজনক এ পদক পেয়েছেন।

১৯০১ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল। এ পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নাম অনুসারে। ঊনবিংশ শতকের এই বিজ্ঞানী শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছিলেন। তিনি উইল করে গিয়েছিলেন যে তার যাবতীয় অর্থ থেকে যেন প্রতি বছর পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্য— এই ৫টি খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারের নামকরণ হবে তার নামে। ১৯৬৯ সাল থেকে এই ৫ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনীতিও।




শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে হরমুজ

শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে হরমুজ
ছবি সংগৃহীত।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিতে থাকা সাতটি শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বলে জানিয়েছের ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ।

বার্তাসংস্থা নুরনিউজ রোববার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, স্পিকার ঘালিবাফ বলেছেন, “মার্কিনিরা, যারা মিডিয়ার সামনে ভিন্ন কথা বলে, তারা সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তাদের মনে রাখতে হবে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একপাক্ষিক দাবি চাওয়ার সময় শেষ।”

“ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান খুবই স্পষ্ট এবং দৃঢ়, জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে থাকা সাতটি শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।”

এরআগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসনে ইরানের কাছ থেকে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। যদি মার্কিনিরা এটি মেনে নেয় তাহলে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে।

বিদেশী দূতদের কাছে ইরানি মন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ খোলার জন্য ইরান তার শর্তগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আর যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে।

আরাঘচি আরও বলেন, তাদের আশা যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিকে বেঁছে নেবে। কিন্তু যদি তারা আবারও সামরিক পথে হাঁটে তাহলে ইরান প্রস্তুত আছে বলেও সতর্কতা দেন তিনি।

তিনি বলেন, “যদি তারা আবারও সামরিক সমাধানের দিকে আগায়, আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি প্রস্তুত এবং আমাদের নিজেদের রক্ষায় যা করার দরকার তা-ই করব।”

সূত্র: নুরনিউজ