শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে হরমুজ
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে হরমুজ

শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে হরমুজ
ছবি সংগৃহীত।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিতে থাকা সাতটি শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বলে জানিয়েছের ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ।

বার্তাসংস্থা নুরনিউজ রোববার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, স্পিকার ঘালিবাফ বলেছেন, “মার্কিনিরা, যারা মিডিয়ার সামনে ভিন্ন কথা বলে, তারা সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তাদের মনে রাখতে হবে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একপাক্ষিক দাবি চাওয়ার সময় শেষ।”

“ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান খুবই স্পষ্ট এবং দৃঢ়, জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে থাকা সাতটি শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।”

এরআগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসনে ইরানের কাছ থেকে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। যদি মার্কিনিরা এটি মেনে নেয় তাহলে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে।

বিদেশী দূতদের কাছে ইরানি মন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ খোলার জন্য ইরান তার শর্তগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আর যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে।

আরাঘচি আরও বলেন, তাদের আশা যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিকে বেঁছে নেবে। কিন্তু যদি তারা আবারও সামরিক পথে হাঁটে তাহলে ইরান প্রস্তুত আছে বলেও সতর্কতা দেন তিনি।

তিনি বলেন, “যদি তারা আবারও সামরিক সমাধানের দিকে আগায়, আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি প্রস্তুত এবং আমাদের নিজেদের রক্ষায় যা করার দরকার তা-ই করব।”

সূত্র: নুরনিউজ




পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে গড় আয়ু বেশি বাংলাদেশিদের: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে গড় আয়ু বেশি বাংলাদেশিদের: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ছবি সংগৃহীত।

পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে বেশিদিন বাঁচে বাংলাদেশিরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ শুমারিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে ২০২৩ সালে ভারতীয়দের গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর। পাকিস্তানিদের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ২ বছর। আর বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৭ বছর।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মানুষের বেঁচে থাকার সময় আরও বেশি। এ দুটি দেশের গড় আয়ু যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ৫ বছর এবং ৮১ দশমিক ৪ বছর।

তবে বেশিদিন বাঁচা মানেই নির্দেশ করে না তারা সুস্থ জীবন-যাপন করেন। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার হার গড় আয়ুর চেয়ে কম।

গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) নতুন তথ্যটি প্রকাশ করে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি।

করোনার আগের জায়গায় ফিরে এসেছে গড় আয়ু

এদিকে করোনার আগে বৈশ্বিক গড় আয়ু যা ছিল ২০২৩ সালে এটি প্রায় আগের জায়গায় ফিরে এসেছে। তবে সুস্থভাবে মানুষের বেঁচে থাকার বিষয়টি ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে।

২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৩ বছরে। যা ২০১৯ সালের গড় আয়ু ৭৩ দশমিক ৪ বছরের প্রায় কাছাকাছি। ওই বছরের শেষ থেকে বিশ্বে করোনা মহামারি দেখা দেয় এবং ২০২০ সালে তাণ্ডব চালায়।

২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৫ শতাংশে নামে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাটা ডিপার্টমেন্টের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক এ নিয়ে বলেছেন, “জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি গড় আয়ু হওয়া একটি বড় অর্জন। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষ যেন সুস্থ শরীর নিয়ে বেশিদিন বাঁচতে পারে।




হুথিদের বিরুদ্ধে বিশাল হামলা শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি

হুথিদের বিরুদ্ধে বিশাল হামলা শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি
ছবি সংগৃহীত।

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিশাল হামলা শুরু করবে সৌদি আরব। আর এই হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এখন কাজ করছে রিয়াদ।

মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, নতুন অভিযানটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য থাকবে হুথিদের লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়া। এর পাশাপাশি সব ফ্রন্টে একসঙ্গে হামলাও চালানো হতে পারে।

আর এই হামলার নেতৃত্ব দেবে ইয়েমেনের স্থল বাহিনী। যাদের পরিচালনা করে সৌদি আরব। অপরদিকে বিমান হামলা চালাবে সৌদি বাহিনী।

আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সৌদিকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। এছাড়া কিছু আরব ও ইউরোপীয় দেশও রক্ষণাত্মক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে সৌদিকে।

হুথিদের বিরুদ্ধে এ হামলায় সৌদির কোনো মিত্র সরাসরি অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইয়েমেনে ২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়। ওই সময় হুথিরা রাজধানী সানাসহ অন্যান্য অঞ্চল দখল করে নেয়। যার ফলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ বেধে যায়। সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনি সরকারকে সহায়তায় এ গৃহযুদ্ধে জড়িত হয়। তারা হুথিদের লক্ষ্য করে হাজার হাজার বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে হুথিদের হটাতে পারেনি। এরপর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হুথি-সৌদি যুদ্ধবিরতি হয়। যা চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত টিকে ছিল।

প্রায় দুই মাস আগে সৌদি বাহিনী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়। ওই সময় ইরান থেকে ফেরত আসা হুথি নেতাদের একটি বিমান অবতরণ করছিল। এ ঘটনায় হুথিরা বেশ ক্ষুব্ধ হয়। এরপর তারা সৌদিতে হামলা চালায় এবং তাদের ওপর যে অবরোধ সৌদি আরোপ করে রেখেছে সেটি তুলে নেওয়ার দাবি করতে থাকে।

অবরোধ না তুললে লোহিত সাগর ও বাব এল মান্দেব দিয়ে সৌদির কোনো জাহাজ চলতে দেওয়া হবে না জানিয়ে হুথিরা সৌদির জাহাজে হামলা চালায়।

এরমধ্যে হুথিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুথিরা লোহিত সাগরের যেসব অঞ্চল কিছুদিন আগে তড়িৎ অভিযান চালিয়ে দখল করেছে, সৌদির নতুন হামলার লক্ষ্য থাকবে হুথি যোদ্ধাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া।

সূত্র: রয়টার্স




ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি: নেতানিয়াহু-বিন জায়েদ মিলে বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি: নেতানিয়াহু-বিন জায়েদ মিলে বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন
ছবি সংগৃহীত।

ইরানকে দোষারোপ করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর জন্য দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার থেকে নজর সরাতে এবং ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে শক্তিশালী করতে এই ‘ফলস ফ্লাগ’ অপারেশন চালানোর চেষ্টা করা হয়।

আর এটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন শুরু করা হতো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাই দুবাইয়ের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাকে নাটক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, এর উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের নির্বাচনকে প্রভাবিত করা, অভ্যন্তরীণ ইস্যু থেকে মানুষের নজর সরানো এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা উস্কে দেওয়া।

গত বুধবার আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবে যাচ্ছিল ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানটি। একটা সময় ৩৪ হাজার ফুট উঁচু থেকে মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে বিমানটি। পরে জানা যায়, বিমানের ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালিয়ে এটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলেন কো-পাইলট। এরপর একজন অফ ডিউটি পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করান।

বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। যারমধ্যে ২৭ জন শিশুও ছিল।

ইরানি প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত রোববার আমিরাতে নেতানিয়াহু অত্যন্ত গোপন সফর করেন। এর দুদিন পরই এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সাথে সাথে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া নেতানিয়াহু এটিকে ৯/১১ হামলার সঙ্গেও তুলনা করেছেন। কিন্তু ওই সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই জানা যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার ইসরায়েলের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফলস ফ্ল্যাগের’ যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেটি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। অস্ট্রেলিয়াস্থ ইসরায়েলি দূতাবাস বলেছে সেই আগের মতো ইহুদিদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। এটিকে তারা ইহুদি বিদ্বেষ হিসেবেও অভিহিত করেছে।

সূত্র: প্রেস টিভি