রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী

রসায়নে নোবেল পেলেন দুই বিজ্ঞানী
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ফরাসি ও জাপানিজ দুই বিজ্ঞানী। তারা হলেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগন এবং জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রসায়নের ওই দুই নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স বলেছে, জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য চলতি বছর হেনরি কাগন ও কেনসো সোয়াইকে রসায়নের নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো কিছু অণুর অস্তিত্ব আলাদা দুটি ভ্যারিয়েন্টে থাকে। যেগুলো একে অপরের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু জীবদেহে একটি মাত্র প্রতিচ্ছবিই থাকে। এ ধরনের রাসায়নিক অসামঞ্জস্যতা কীভাবে তৈরি হলো, তা রসায়নবিদদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে একটি রহস্য ছিল। আর এই রহস্য ভেদ করার জন্যই এ বছর এ দুই বিজ্ঞানীকে রসায়নে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

জীবনের রসায়নকে রসায়নবিদরা ‘হোমোকাইরাল’ বলেন, যা গ্রিক শব্দ “একই” এবং “হাত” থেকে এসেছে। হাতের মতো, সব অ্যামিনো অ্যাসিড দুটি আয়না রূপেই থাকে, কিন্তু এর মধ্যে কেবল একটি রূপই আপনার কোষের প্রোটিনে পাওয়া যায়। অন্যটি প্রকৃতিতে খুব একটা পাওয়া যায় না।

হোমোকাইরাল কীভাবে তৈরি হতে পারে, তা রসায়নবিদরা দীর্ঘকাল ধরে ভেবেছিলেন। যখন তারা এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন যা দুটি আয়না অণু তৈরি করতে পারে, তখন তারা টেস্টটিউবে সবসময় দুটির সমান পরিমাণই পেতেন। তবে রসায়নবিদরা কেবল একটি আয়না প্রতিবিম্ব তৈরি করার চেষ্টা করতেন; কারণ জীবন্ত প্রাণীদের সাথে মিথস্ক্রিয়া করবে এমন অণু তৈরির ক্ষেত্রে—যেমন ওষুধে—কেবল একটি প্রতিবিম্বই কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়।

২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার এমন আবিষ্কারগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে যা রসায়নবিদদের এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া চালাতে সক্ষম করেছে যা হোমোকাইরাল রূপ তৈরি করে।

এক্ষেত্রে ১৯৮৬ সালে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন হেননি কাগান। তিনি রাসায়নিকের প্রতিক্রিয়া বদলে দেওয়ার নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এতে করে তিনি একটি প্রতিচ্ছবির ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ পান, যা আগে সম্ভব হিসেবে ধারণা করা হতো।

অপরদিকে কেনসো সোয়াই ১৯৯৫ সালে পরবর্তী পদক্ষেপ নেন। তিনি একটি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানান তিনি কীভাবে প্রথমবারের মতো এমন রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া ডিজাইন করেছেন যা সম্ভাব্য হোমোকাইরাল ছিল। ২০০৩ সালে তিনি এতে চূড়ান্ত সাফল্য পান। তিনি এমন একটি প্রতিক্রিয়া দেখান যেখানে সম্ভাব্য একটি প্রতিচ্ছবি তৈরি হয়েছিল। জীব ছাড়া এরআগে কেউ কখনো এই সাফল্য পাননি।

এর আগে, গত বছর রসায়নে নোবেল জেতেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন এবং ওমর এম ইয়াগি। ‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক’ উদ্ভাবনের কারণে তাদের ওই বছর রসায়নে নোবেল দেওয়া হয় বলে জানায় সুইডিশ অ্যাকাডেমি।

এখন পর্যন্ত রসায়নে ১১৭ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে ২০১৮ সালে ৯৭ বছর বয়সে নোবেল জেতেন জন বি গুডএনাফ। অপরদিকে ১৯৩৫ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে সম্মানজনক এ পদক জেতেন ফেদ্রিক জোলিয়ট। সব মিলিয়ে ১৯৮ জন এ রসায়নশাস্ত্রে সর্বোচ্চ সম্মানজনক এ পদক পেয়েছেন।

১৯০১ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল। এ পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের নাম অনুসারে। ঊনবিংশ শতকের এই বিজ্ঞানী শক্তিশালী বিস্ফোরক ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছিলেন। তিনি উইল করে গিয়েছিলেন যে তার যাবতীয় অর্থ থেকে যেন প্রতি বছর পদার্থ, রসায়ন, চিকিৎসা, শান্তি ও সাহিত্য— এই ৫টি খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারের নামকরণ হবে তার নামে। ১৯৬৯ সাল থেকে এই ৫ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয় অর্থনীতিও।




শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে হরমুজ

শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে হরমুজ
ছবি সংগৃহীত।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিতে থাকা সাতটি শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বলে জানিয়েছের ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ।

বার্তাসংস্থা নুরনিউজ রোববার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, স্পিকার ঘালিবাফ বলেছেন, “মার্কিনিরা, যারা মিডিয়ার সামনে ভিন্ন কথা বলে, তারা সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তাদের মনে রাখতে হবে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একপাক্ষিক দাবি চাওয়ার সময় শেষ।”

“ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান খুবই স্পষ্ট এবং দৃঢ়, জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে থাকা সাতটি শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।”

এরআগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসনে ইরানের কাছ থেকে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। যদি মার্কিনিরা এটি মেনে নেয় তাহলে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে।

বিদেশী দূতদের কাছে ইরানি মন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ খোলার জন্য ইরান তার শর্তগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আর যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে।

আরাঘচি আরও বলেন, তাদের আশা যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিকে বেঁছে নেবে। কিন্তু যদি তারা আবারও সামরিক পথে হাঁটে তাহলে ইরান প্রস্তুত আছে বলেও সতর্কতা দেন তিনি।

তিনি বলেন, “যদি তারা আবারও সামরিক সমাধানের দিকে আগায়, আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি প্রস্তুত এবং আমাদের নিজেদের রক্ষায় যা করার দরকার তা-ই করব।”

সূত্র: নুরনিউজ




পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে গড় আয়ু বেশি বাংলাদেশিদের: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে গড় আয়ু বেশি বাংলাদেশিদের: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ছবি সংগৃহীত।

পাকিস্তানি ও ভারতীয়দের চেয়ে বেশিদিন বাঁচে বাংলাদেশিরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ শুমারিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে ২০২৩ সালে ভারতীয়দের গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর। পাকিস্তানিদের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ২ বছর। আর বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৭ বছর।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মানুষের বেঁচে থাকার সময় আরও বেশি। এ দুটি দেশের গড় আয়ু যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ৫ বছর এবং ৮১ দশমিক ৪ বছর।

তবে বেশিদিন বাঁচা মানেই নির্দেশ করে না তারা সুস্থ জীবন-যাপন করেন। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার হার গড় আয়ুর চেয়ে কম।

গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) নতুন তথ্যটি প্রকাশ করে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি।

করোনার আগের জায়গায় ফিরে এসেছে গড় আয়ু

এদিকে করোনার আগে বৈশ্বিক গড় আয়ু যা ছিল ২০২৩ সালে এটি প্রায় আগের জায়গায় ফিরে এসেছে। তবে সুস্থভাবে মানুষের বেঁচে থাকার বিষয়টি ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে।

২০২৩ সালে বৈশ্বিক গড় আয়ু দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৩ বছরে। যা ২০১৯ সালের গড় আয়ু ৭৩ দশমিক ৪ বছরের প্রায় কাছাকাছি। ওই বছরের শেষ থেকে বিশ্বে করোনা মহামারি দেখা দেয় এবং ২০২০ সালে তাণ্ডব চালায়।

২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৫ শতাংশে নামে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাটা ডিপার্টমেন্টের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক এ নিয়ে বলেছেন, “জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি গড় আয়ু হওয়া একটি বড় অর্জন। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষ যেন সুস্থ শরীর নিয়ে বেশিদিন বাঁচতে পারে।




হুথিদের বিরুদ্ধে বিশাল হামলা শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি

হুথিদের বিরুদ্ধে বিশাল হামলা শুরু করতে যাচ্ছে সৌদি
ছবি সংগৃহীত।

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিশাল হামলা শুরু করবে সৌদি আরব। আর এই হামলার পরিকল্পনা নিয়ে এখন কাজ করছে রিয়াদ।

মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, নতুন অভিযানটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য থাকবে হুথিদের লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে দেওয়া। এর পাশাপাশি সব ফ্রন্টে একসঙ্গে হামলাও চালানো হতে পারে।

আর এই হামলার নেতৃত্ব দেবে ইয়েমেনের স্থল বাহিনী। যাদের পরিচালনা করে সৌদি আরব। অপরদিকে বিমান হামলা চালাবে সৌদি বাহিনী।

আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সৌদিকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। এছাড়া কিছু আরব ও ইউরোপীয় দেশও রক্ষণাত্মক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে সৌদিকে।

হুথিদের বিরুদ্ধে এ হামলায় সৌদির কোনো মিত্র সরাসরি অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

ইয়েমেনে ২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন হয়। ওই সময় হুথিরা রাজধানী সানাসহ অন্যান্য অঞ্চল দখল করে নেয়। যার ফলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ বেধে যায়। সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনি সরকারকে সহায়তায় এ গৃহযুদ্ধে জড়িত হয়। তারা হুথিদের লক্ষ্য করে হাজার হাজার বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে হুথিদের হটাতে পারেনি। এরপর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হুথি-সৌদি যুদ্ধবিরতি হয়। যা চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত টিকে ছিল।

প্রায় দুই মাস আগে সৌদি বাহিনী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়। ওই সময় ইরান থেকে ফেরত আসা হুথি নেতাদের একটি বিমান অবতরণ করছিল। এ ঘটনায় হুথিরা বেশ ক্ষুব্ধ হয়। এরপর তারা সৌদিতে হামলা চালায় এবং তাদের ওপর যে অবরোধ সৌদি আরোপ করে রেখেছে সেটি তুলে নেওয়ার দাবি করতে থাকে।

অবরোধ না তুললে লোহিত সাগর ও বাব এল মান্দেব দিয়ে সৌদির কোনো জাহাজ চলতে দেওয়া হবে না জানিয়ে হুথিরা সৌদির জাহাজে হামলা চালায়।

এরমধ্যে হুথিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুথিরা লোহিত সাগরের যেসব অঞ্চল কিছুদিন আগে তড়িৎ অভিযান চালিয়ে দখল করেছে, সৌদির নতুন হামলার লক্ষ্য থাকবে হুথি যোদ্ধাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া।

সূত্র: রয়টার্স