লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন

লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫

লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে ফলাফল বিপর্যয়ের মাঝে প্রতিবারের মতো এবারও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ এবং পাসের হারে শীর্ষ স্থান বজায় রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি (মাধ্যমিক) শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১ জন শিক্ষার্থী সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.৬৭ শতাংশ।

পুরো লামা উপজেলায় মাধ্যমিক শাখায় সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (১৩ জন) পেয়েছে একাই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন পাস করেছে, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৯৪.২০ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, এসএসসি মাধ্যমিক শাখায় ১,১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৫ জন (পাসের হার ৪৭.০৯ শতাংশ), দাখিল শাখায় ১২৩ জনের মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৪৭.১৫ শতাংশ) এবং কারিগরি/ভোকেশনাল শাখায় ১১৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৮২.৭৬ শতাংশ)।

কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের এই ধারাবাহিক ও অভাবনীয় ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আলো ছড়িয়ে লামার সুনাম দেশজুড়ে উজ্জ্বল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বিদ্যালয়টি।

অন্যদিকে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষজনক সাফল্য অর্জন করেছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে বিদ্যালয়টির মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৭ শতাংশ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবারের এসএসসি ফলাফল সেই প্রচেষ্টারই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।




মানবতার হাত বাড়িয়ে বান্দরবানে ১৮ পরিবারকে টিন দিল 'আমরা কক্সবাজার বৌদ্ধ তরুণ-তরুণী সংগঠন'

মানবতার হাত বাড়িয়ে বান্দরবানে ১৮ পরিবারকে টিন দিল 'আমরা কক্সবাজার বৌদ্ধ তরুণ-তরুণী সংগঠন'
ছবি সংগৃহীত।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘর পুনর্নির্মাণে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কক্সবাজারের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'আমরা কক্সবাজার বৌদ্ধ তরুণ-তরুণী'। সংগঠনটির উদ্যোগে বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি মারমা, বড়ুয়া ও মুসলিম পরিবারের মধ্যে গৃহনির্মাণ সামগ্রী হিসেবে এক বান করে টিন বিতরণ করা হয়েছে।

'সংসারে সব প্রাণী সুখি হোক, মানবতার জয় হোক'—এই স্লোগান সামনে রেখে সম্প্রতি এ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘর পুনর্নির্মাণে কিছুটা হলেও সহায়তা করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মানবিক কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন স্পেনে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা এবং স্পেন সার্বজনীন বৌদ্ধবিহারের দায়ক-দায়িকারা। এ ছাড়া কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করেন স্পেন সার্বজনীন বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ কুশলায়ন ভিক্ষু।

টিন বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর জ্ঞান বিকাশ বিহারের অধ্যক্ষ ও 'আমরা কক্সবাজার বৌদ্ধ তরুণ-তরুণী' সংগঠনের সভাপতি ভদন্ত তিষ্যানন্দ ভিক্ষু, স্পেনপ্রবাসী নয়ন বড়ুয়া ও তাঁর সহধর্মিণী জয়া বড়ুয়া, চট্টগ্রাম নিবাসী শাওন বড়ুয়া ও তাঁর সহধর্মিণী মুক্তা বড়ুয়া।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক সুব্রত বড়ুয়া, শুভম বড়ুয়া অপু এবং বান্দরবান থেকে মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতাকারী সমাজকর্মী রিমন বড়ুয়া।

উদ্যোক্তারা বলেন, দুর্যোগ কিংবা সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার মূল শিক্ষা। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিওপির সফল অভিযান: বিপুল ইয়াবা ও বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিওপির সফল অভিযান: বিপুল ইয়াবা ও বিদেশি পিস্তল উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

বিজিবির বিশেষ অভিযানে মালিকবিহীন অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২,৪৬,০০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) ঘুমধুম বিওপির একটি টহলদল এই অভিযান পরিচালনা করে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘুমধুম বিওপি জানতে পারে যে, বিওপির দায়িত্বপূর্ণ নয়াপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাকারবারীরা বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবার একটি চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল ১০ আগস্ট সোমবার ভোরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পিলার-৩১ থেকে আনুমানিক ১৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াপাড়া নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি বিদেশি অস্ত্র, ৫ রাউন্ড গুলি এবং ২,৪৬,০০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অধিনায়ক জানান, “বিজিবি কেবল সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, রিজিয়ন সদর দপ্তর, কক্সবাজার এবং সেক্টর সদর দপ্তর, রামুর দিকনির্দেশনায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম দমনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। এসব অভিযানের ফলে কক্সবাজারবাসীর মনে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।




বান্দরবান কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে রোয়াংছড়িতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

বান্দরবান কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে রোয়াংছড়িতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ কৃষকদের মাঝে প্রায় ১৮ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রোয়াংছড়ি উপজেলার উ সারা লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাজী আবুল বশর। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম।

এ সময় পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এহসানুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সা শৈ প্রু এবং কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারা আরও বলেন, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনজ ও ফলদ গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করা হলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী ও সাধারণ কৃষকদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৮ হাজার গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন আয়োজকরা।