দক্ষিণ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন পটিয়ার সন্তান সাজ্জাদ হোসেন
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন

দক্ষিণ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন পটিয়ার সন্তান সাজ্জাদ হোসেন

দক্ষিণ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন পটিয়ার সন্তান সাজ্জাদ হোসেন
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পটিয়ার সন্তান মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।

১০ আগস্ট এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত প্যাডে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়।

কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরী এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জোবাইরুল আলম মানিক। গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব হিসেবে মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনকে দেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ।

দলীয় নেতাকর্মীরা আশা করছেন, সাজ্জাদ হোসেনের দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “নতুন দায়িত্ব, নতুন আমানত, নতুন প্রত্যয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অর্পিত দায়িত্বকে পদ নয়, গণমানুষের প্রতি আমানত হিসেবে গ্রহণ করছি। দক্ষিণ চট্টলার মানুষের অধিকার, ন্যায় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ সততা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী ও জনসম্পৃক্ত করতে সবার সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া প্রত্যাশা করি। আসুন, বিভাজন নয়—ঐক্য, প্রতিহিংসা নয়—ন্যায় এবং ক্ষমতার রাজনীতি নয়—গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে এগিয়ে যাই। ইনশাআল্লাহ, গড়ে তুলব বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।”

নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তারের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করে সংগঠনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবে বলে জানা গেছে।




পটিয়ায় বন্যায় কমেছে সবজি উৎপাদন, চড়া দামে বিপাকে ক্রেতারা

পটিয়ায় বন্যায় কমেছে সবজি উৎপাদন, চড়া দামে বিপাকে ক্রেতারা
ছবি সংগৃহীত।

জলাবদ্ধতা ও বন্যায় কৃষিজমি ও সবজিখেত নষ্ট হওয়ায় পটিয়ায় বেড়েছে সবজির দাম। প্রতি কেজি শিম ৯০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, করলা ৯০ টাকা এবং লাউ ও কাঁচামরিচসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

উপজেলার খরনা, কচুয়াই, শ্রীমাই ও পাহাড়ি এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও অতিরিক্ত পানিতে গাছ নষ্ট হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে।

হাঁইদগাঁওয়ের সবজিচাষি এনায়েত বলেন, "বন্যা ও জলাবদ্ধতায় অনেক খেত নষ্ট হয়েছে। নতুন করে চাষ করতে আবার খরচ হচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তেমনি বাজারে সবজির দামও বেড়েছে।"

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাইরে থেকে বেশি সবজি আনতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচসহ অন্যান্য ব্যয় বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াছিন আলী বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন এলাকায় সবজি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

পটিয়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলম সওদাগর বলেন, "স্থানীয়ভাবে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে। বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।"

ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে সবজির দামও বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা, দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।




এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল: আনোয়ারায় সেরা কাফকো স্কুল ও বারখাইন জমহুরিয়া মাদ্রাসা

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল: আনোয়ারায় সেরা কাফকো স্কুল ও বারখাইন জমহুরিয়া মাদ্রাসা
ফলাফলে সেরা বারখাইন জামেয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আনোয়ারা উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার ৬৯৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১ হাজার ৭৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে ১১টি মাদ্রাসা থেকে ৬০৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৪৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৩টি কারিগরি (ভোকেশনাল) বিদ্যালয় থেকে ১৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

এসএসসিতে উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১০ জন, দাখিলে ২৭ জন এবং ভোকেশনালে ২১ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। আনোয়ারায় এবার এসএসসিতে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, দাখিলে ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ভোকেশনালে ৬৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ২৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৬ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশ—যা উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম। ৫৮ জন পাস করে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সিইউএফএল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯২ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮ জন পাস করেছে এবং ৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী পীরখাইন মাওলানা আশরাফ চৌধুরী স্কুলের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে ১৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১০২ জন পাস করেছে এবং তাদের মধ্যে ৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

অন্যদিকে উপজেলার ১১টি মাদ্রাসার মধ্যে বারখাইন জামেয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এ মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় ৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭৯ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে ২০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মোহাম্মদিয়া কুদ্দুসিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৪ জন পাস করেছে, যাদের মধ্যে ২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ মাদ্রাসার পাসের হার ৮২ দশমিক ৯২ শতাংশ। পশ্চিম চাল ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ১১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৯১ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে ৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং পাসের হার ৭৭ দশমিক ১২ শতাংশ।

আনোয়ারায় ৩টি কারিগরি বিদ্যালয় রয়েছে। সেগুলো হলো—আনোয়ারা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ঝি.বা.শি উচ্চবিদ্যালয় ও তৈলারদ্বীপ এরশাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়। এ তিনটির মধ্যে আনোয়ারা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৬ জন পাস করে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং পাসের হার ৮৬ শতাংশ। অপর দুটির মধ্যে ঝি.বা.শি উচ্চবিদ্যালয় এবং তৈলারদ্বীপ এরশাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের পাসের হার যথাক্রমে ৬৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ ও ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এবার উপজেলায় এসএসসিতে মোট অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৯০২ জন, দাখিলে ১৭৩ জন এবং ভোকেশনালে ৬৭ জন পরীক্ষার্থী।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র বসু জানান, সারা দেশের মতো এবার আনোয়ারা উপজেলায়ও ফলাফল তেমন ভালো হয়নি। আগামীতে ভালো ফলাফল অর্জনে চেষ্টা করা হবে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন বলেন, "ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। এবার সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফল ভালো করতে শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বসব।"




পটিয়ায় জলাবদ্ধতায় একমাত্র ঠিকানা হারিয়ে নির্বাক অপু বিশ্বাস: মাটির ঘর ভেঙে বিলীন, প্লাস্টিকের বিছানায় রাত কাটছে রিকশাচালক ও বৃদ্ধ মায়ের

পটিয়ায় জলাবদ্ধতায় একমাত্র ঠিকানা হারিয়ে নির্বাক অপু বিশ্বাস: মাটির ঘর ভেঙে বিলীন, প্লাস্টিকের বিছানায় রাত কাটছে রিকশাচালক ও বৃদ্ধ মায়ের
ছবি সংগৃহীত।

জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা যে ঘরটির, সেই ঘরই এখন নেই। জলাবদ্ধতায় মাটির ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে রিকশাচালক অপু বিশ্বাসের। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন নিজের বাড়ির উঠানে প্লাস্টিক বিছিয়ে রাত কাটছে তাঁর।

পটিয়া উপজেলার মধ্যম কালিয়াইশ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শোভনদণ্ডী এলাকার মৃত বিশ্বেশ্বর বিশ্বাস ও বীণাপাণি বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাস পেশায় একজন রিকশাচালক। দিনভর রিকশা চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে কোনো রকমে চলে সংসার। এর মধ্যে টানা জলাবদ্ধতায় তাঁর একমাত্র মাটির ঘরটি ভেঙে পড়ায় পরিবারটি হয়ে পড়েছে আশ্রয়হীন।

ঘর হারানোর পর কয়েক দিন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন অপু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে বাধ্য হয়ে নিজেদের ভিটায় ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানে এখন কোনো ঘর নেই, নেই নিরাপদ আশ্রয়ও।

এলাকার বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, বর্তমানে বাড়ির উঠানে প্লাস্টিক বিছিয়ে কোনোমতে রাত কাটাচ্ছেন অপু বিশ্বাস। রিকশা চালিয়ে সংসার চালানো অপুর পক্ষে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব।

মানবিক সংগঠক শফিকুল আলম বশর বলেন, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য অপুর বৃদ্ধ মাকে ঘিরে। ছেলের অসহায়ত্ব দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "বাবা, রাতে ঘুমানোর জায়গা নেই। আমার ছেলেকে একটা ঘর করে দে।" তিনি সরকার, বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে অপুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অপু বিশ্বাস জানান, জলাবদ্ধতায় ঘরটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনি পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরোবরে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে এখনো কোনো সহায়তা পাননি। স্থানীয় কোনো সংস্থা বা ব্যক্তিও তাঁর পরিবারের পাশে এগিয়ে আসেননি বলে জানান তিনি।

প্রতিদিন রিকশা নিয়ে জীবিকার সন্ধানে বের হন অপু। মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিলেও দিন শেষে নিজের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারছেন না তিনি। যে ঘরে ফিরে পরিবারের সঙ্গে রাত কাটানোর কথা, সেই ঘরটিই আজ তাঁর নেই।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অপুর প্রয়োজন বড় কোনো প্রাসাদ নয়; প্রয়োজন একটি ছোট ঘর, যেখানে বৃদ্ধ মা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পাবেন। সারা দিন রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে ফেরা অপুও যেন বলতে পারেন, এটাই আমার ঘর, এটাই আমার ঠিকানা।