বান্দরবান কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে রোয়াংছড়িতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন

বান্দরবান কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে রোয়াংছড়িতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

বান্দরবান কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে রোয়াংছড়িতে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ কৃষকদের মাঝে প্রায় ১৮ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে রোয়াংছড়ি উপজেলার উ সারা লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বান্দরবান জেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাজী আবুল বশর। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম।

এ সময় পাল্পউড প্লান্টেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এহসানুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সা শৈ প্রু এবং কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারা আরও বলেন, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনজ ও ফলদ গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করা হলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী ও সাধারণ কৃষকদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৮ হাজার গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন আয়োজকরা।




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিওপির সফল অভিযান: বিপুল ইয়াবা ও বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম বিওপির সফল অভিযান: বিপুল ইয়াবা ও বিদেশি পিস্তল উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

বিজিবির বিশেষ অভিযানে মালিকবিহীন অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২,৪৬,০০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) ঘুমধুম বিওপির একটি টহলদল এই অভিযান পরিচালনা করে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘুমধুম বিওপি জানতে পারে যে, বিওপির দায়িত্বপূর্ণ নয়াপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাকারবারীরা বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবার একটি চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ মেহেদী হাসান আশিকের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল ১০ আগস্ট সোমবার ভোরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পিলার-৩১ থেকে আনুমানিক ১৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াপাড়া নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি বিদেশি অস্ত্র, ৫ রাউন্ড গুলি এবং ২,৪৬,০০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অধিনায়ক জানান, “বিজিবি কেবল সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, রিজিয়ন সদর দপ্তর, কক্সবাজার এবং সেক্টর সদর দপ্তর, রামুর দিকনির্দেশনায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম দমনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আসছে। এসব অভিযানের ফলে কক্সবাজারবাসীর মনে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে নগদ টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে নগদ টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে টাকাসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে ১১ বিজিবি।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে সীমান্তের ৪৭-৪৮ নম্বর পিলারের নিকটবর্তী ফুলতলীর চেলির টাল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম শামশুল আলম (৫৫)। তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বামহাতিরছড়া গ্রামের জালাল আহমদের ছেলে। অপরজন মিজানুর রহমান (২৮), তিনি একই গ্রামের কবির আহমদের ছেলে।

১১ বিজিবির ফুলতলী বিওপি সূত্রে জানা যায়, তাদের একটি টহল দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে নামে। এ সময় কয়েকজন চোরাকারবারি মিয়ানমার অংশের চেলির টালের বেংঢোলার চোরাই পণ্যের বাজারে যাচ্ছিল। বিজিবি দল তাদের ধাওয়া করে দুইজনকে ধরে ফেলে। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬৪ হাজার বাংলাদেশি টাকা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা টাকাসহ বিকেলে তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করে ১১ বিজিবি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক।




লামায় ৪০ ইটভাটায় পাহাড় কাটার হিড়িক, নেপথ্যে মোক্তার-নাজু সিন্ডিকেট

লামায় ৪০ ইটভাটায় পাহাড় কাটার হিড়িক, নেপথ্যে মোক্তার-নাজু সিন্ডিকেট
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় আসন্ন ইটভাটার মৌসুমকে সামনে রেখে মাটির চাহিদা মেটাতে দেদারসে চলছে পাহাড় কাটা। পরিবেশ আইন ও বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে এক্সকাভেটর (বেকু) দিয়ে একের পর এক পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার পাহাড় কাটার মাত্রা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।

অভিযোগ উঠেছে, ‘মোক্তার-নাজু’ নামের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লামা উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৪০টি বা তারও বেশি ইটভাটা সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, বর্ষার মধ্যেই বড় বড় পাহাড়ের ঢাল কেটে খাড়া করে ফেলা হয়েছে। কোথাও পাহাড়ের পাদদেশে জমা করা হয়েছে মাটির বিশাল স্তূপ। এসব মাটি ইটভাটায় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

বর্ষাকালে পাহাড় কাটার কারণে অতিবৃষ্টিতে এসব এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি ইটভাটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লোকালয় ও বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। এসব ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালা ও অ্যালার্জির মতো সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে তারা জানান।

পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, ইটভাটার ধোঁয়া ও বিভিন্ন রাসায়নিক নির্গমনের কারণে আশপাশের মাটি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা কমে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাসস্থলও নষ্ট হচ্ছে। ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা।

এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল হাসান সজীব বলেন, ‘আমি বান্দরবানে যোগদানের পর গত তিন মাসে অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার দায়ে ২৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছি। এ সময়ে পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান চলমান রয়েছে।’

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ও নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরও কীভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার পরও যদি একই এলাকায় ফের পাহাড় কাটা শুরু হয়, তাহলে এর পেছনে কারা ইন্ধন ও সহযোগিতা করছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটা বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, পাহাড়ের মাটি পরিবহন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার মেম্বার জানান, সিন্ডিকেটের বিষয় টি সত্যি নয় তবে কিছু কিছু ইটভাটায় পাহাড় কাটা হচ্ছে।