মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন

মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত

মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ও দেশের সমবায় খাতে একমাত্র ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত সমবায় সমিতি বান্দরবানের “লামা মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড”-এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও ব্যবস্থাপনা পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উক্ত বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। সাধারণ সভায় সমিতির প্রায় ৪ হাজার নারী ও পুরুষ সদস্য অংশ নেন।

মৌচাকের প্রতিষ্ঠাতা সিইও এম জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাস্টার আব্দুর শুক্কুর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং মৌচাক লিমিটেডের শরীয়াহ কমিটির সভাপতি আ.ক.ম আবদুল কাদের।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী; কালব লিমিটেডের সাবেক ডিরেক্টর মোঃ আবদুস ছাত্তার ভূঁইয়া, নুর মোহাম্মদ ও মোঃ শফিউল আলম; এবং কালব লিমিটেডের সাবেক ডিজিএম ও ইনোভা ইন্টারন্যাশনালের এমডি মোঃ ফিরোজ আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী শরীয়াহ বোর্ডের সদস্যসচিব ও সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, শরীয়াহ বোর্ডের সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক, সাবেক সভাপতি ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, মৌচাকের সম্পাদক মাস্টার হাবিবুর রহমান, মৌচাকের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকসহ অনেকে।

সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষর গ্রহণ, জাতীয় ও সমবায় পতাকা উত্তোলন, অতিথিদের আসন গ্রহণ, ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ, সভাপতির স্বাগত বক্তব্য এবং বিগত সাধারণ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়। এরপর সম্পাদক হাবিবুর রহমান ব্যবস্থাপনা পরিষদ, ঋণদান, পর্যবেক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের নিরীক্ষিত আয়-ব্যয় হিসাব অনুমোদন, লভ্যাংশ বণ্টন প্রস্তাব অনুমোদন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৬-২০২৭ ও ২০২৭-২০২৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়।

মৌচাক সূত্রে জানা যায়, লামা মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড ১৯৯২ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। মাত্র ১২ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার (সাধারণ ও শিশু সদস্য)। সমবায় সমিতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মূলধন প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

সভায় মৌচাক এগ্রো সার্ভিস, মৌচাক পরিবহন ব্যবসায় বিনিয়োগসহ একাধিক বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সকল সদস্যের অংশগ্রহণে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১৫০ জন বিজয়ী পুরষ্কার জিতে নেন।

এদিকে, মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের নির্বাচনে সভাপতি পদে মাস্টার হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সুলতান মাহমুদ এবং সদস্য পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মো. আব্দুর রহিম ও গোলাম সরোয়ার নির্বাচিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত এই কমিটি আগামী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবে। অনুষ্ঠান শেষে মৌচাকের বিদায়ী কমিটি নতুন কমিটিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এম. জয়নাল আবেদীন জানান, “টেকসই ক্রেডিট ইউনিয়ন” গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ‘সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে মানসম্মত সেবা নিশ্চিতকরণ’ লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে মৌচাক। মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের আজকের এই সফলতার অংশীদার সংস্থাটির সকল সাধারণ সদস্য, পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আগামীতে আরও নতুন নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে মৌচাক এগিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।




রাস্তায় গুঁড়ি ফেলে অবরোধ চলছে খাগড়াছড়িতে, যান চলাচল বন্ধ

রাস্তায় গুঁড়ি ফেলে অবরোধ চলছে খাগড়াছড়িতে, যান চলাচল বন্ধ
ছবি সংগৃহীত।

চোরাগুপ্তা পিকেটিং, টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেওয়া ও রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ চলছে খাগড়াছড়ি জেলায়। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যান চলাচল। সাজেকে সড়ক অবরোধ চলাকালে অবরোধকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’ খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেয়।

শনিবার সকাল থেকে অবরোধ চলাকালে খাগড়াছড়িতে চোরাগুপ্তা পিকেটিং হলেও প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে সড়ক। সড়কে টায়ার জ্বালানোর চেষ্টা করলেও পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রশাসনের উপস্থিতির কারণে তেমন সক্রিয় হতে পারেনি অবরোধকারীরা।

খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সব রুটে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলায় সড়কে যানবাহন চলাচল ছিল তুলনামূলক কম। অবরোধের সমর্থনে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ফায়ার সার্ভিস এলাকা ও উপজেলার রেড স্কয়ারে টায়ারে আগুন দেয় পিকেটাররা।

এ সময় সড়কের ওপর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অবস্থান ত্যাগ করে পিকেটাররা। এছাড়া খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের বাইল্ল্যাছড়ি, পানছড়ি সড়ক ও সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাঠের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন দিয়ে পথরোধ করে অবরোধকারীরা।

তবে সকালে কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল টিম কাজ করছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কায় কিসলু বলেন, “অবরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে পুলিশ। শহরের চেঙ্গী স্কয়ার, স্বনির্ভর, জিরো মাইল, আলুটিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া পুলিশের একাধিক মোবাইল টিম মাঠে টহল দিচ্ছে।”




থানচিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়ামকে ইউএনও ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা

থানচিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়ামকে ইউএনও ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় সরকারি সফরে এসেছেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আলী নেওয়াজ খৈয়াম। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে থানচিতে পৌঁছালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফুল দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করে নেন।

সরকারি সফরকালে প্রতিমন্ত্রীর পরিবার থানচি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলো পরিদর্শন করবে। আগামী ২৪ অক্টোবর বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর বান্দরবান ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বান্দরবানের থানচি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা। এখানকার পাহাড়, নদী, ঝরনা ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। সরকারি এই সফরে প্রতিমন্ত্রীর পর্যটন স্পট পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর সফরকালে পর্যটন খাতের উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকাগুলোর অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি কিংবা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করার কথা রয়েছে।




সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্টের বিজয়ী নারী দলকে সংবর্ধনা দেবে ৩৮ বিজিবি

সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্টের বিজয়ী নারী দলকে সংবর্ধনা দেবে ৩৮ বিজিবি
ছবি সংগৃহীত।

সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্টে বিজয়ী নারী দলকে সংবর্ধনা জানাতে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) বলিপাড়া জোন। নারী ফুটবলারদের সাফল্যকে সম্মান জানানো এবং তাঁদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী। নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন রাখা হয়েছে। এতে দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইডল মং, খেয়া, রাজীব, মেরি ও নাদিয়া আরফিন মৌরিসহ অন্যান্য শিল্পীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় থানচি মাল্টিপারপাস টাউন হলে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যকে উৎসাহিত করা, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রীড়াচর্চার আগ্রহ বাড়ানো এবং পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য জোরদার করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নারী ফুটবলারদের অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে অন্য নারীদেরও খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পার্বত্য বান্দরবানের বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে খেলাধুলা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম। সেই বিবেচনায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) বলিপাড়া জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সফল ও সার্থক করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিক।

আয়োজকরা আশা করছেন, নারী ফুটবলারদের সম্মাননা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে এ আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলে ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।