সাতকানিয়ায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, আহত একই পরিবারের ৪: বাসে আগুন, পুলিশের গাড়িতে হামলা
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন

সাতকানিয়ায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, আহত একই পরিবারের ৪: বাসে আগুন, পুলিশের গাড়িতে হামলা

সাতকানিয়ায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, আহত একই পরিবারের ৪: বাসে আগুন, পুলিশের গাড়িতে হামলা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়ায় বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে উপজেলার নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজিত জনতা বাসটিতে আগুন দেয়। এ সময় পুলিশের গাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—সাতকানিয়া কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও তাঁর মেয়ে ওয়াসিফ (৪)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরও চারজন। তাঁদের মধ্যে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুর রহমান দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাতটার দিকে চট্টগ্রামগামী একটি মিনিবাস নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেরানীহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ওয়াসিফের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা মিনিবাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে অবরোধকারীরা পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও ঘটে।

রাত আটটার দিকে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও বাঁধার মুখে পড়তে হয়। একপর্যায়ে তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রী যানবাহন থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।

রাত সাড়ে নয়টার দিকে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশ অবরোধকারীদের ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। তারা পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও ধাওয়া করা হয়।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




পটিয়ায় স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার

পটিয়ায় স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়ায় প্রথম স্ত্রীর করা মামলায় স্বামী মো. সাইদুল হককে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পটিয়া উপজেলার আমজুরহাট এলাকার একটি বেসরকারি কোম্পানির অফিস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাইদুল হক কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা দক্ষিণ লুটনি গ্রামের মৃত গুলু মিয়ার ছেলে। স্ত্রীর করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি পটিয়ায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার গাবতলী ফাসিয়াখালী এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের মেয়ে উম্মে কুলছুমের সঙ্গে একই উপজেলার কাকারা দক্ষিণ লুটনি গ্রামের মৃত গুলু মিয়ার ছেলে সাইদুল হকের ২০০৮ সালে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।

প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় সাইদুল হক দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন পটিয়ায় অবস্থান করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। স্ত্রী উম্মে কুলছুম বাদী হয়ে ২০২৪ সালে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে পারিবারিক মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৮৫/২০২৪। এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন সাইদুল হক। বৃহস্পতিবার সকালে ওই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উম্মে কুলছুম অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে তাঁর স্বামী সাইদুল হক কোনো খোঁজখবর রাখেন না এবং ভরণপোষণও দেন না। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই মূলত এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরে বাধ্য হয়ে তিনি পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। এরপর থেকে সাইদুল হক দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে পটিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পটিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শামীম ভূঁইয়া জানান, সাইদুল হক পটিয়ার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। পারিবারিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে আমজুরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে চকরিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।




কক্সবাজার থেকে সাড়ে ৮৫ লাখ টাকার ইয়াবা নিয়ে আসার পথে আনোয়ারায় ধরা

কক্সবাজার থেকে সাড়ে ৮৫ লাখ টাকার ইয়াবা নিয়ে আসার পথে আনোয়ারায় ধরা
আনোয়ারায় গ্রেপ্তার ইয়াবা কারবারিরা

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম শহরে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের সাড়ে ২৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম (মূল লেখানুযায়ী এসআরবি-৭)। গ্রেপ্তারকৃতদের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে আনোয়ারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে বুধবার (২০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পিএবি সড়কের তৈলারদ্বীপ সরকারহাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার মালুমঘাট এলাকার আবদুল গফুরের ছেলে মো. সাকিব (১৯) এবং একই এলাকার সেলিম উল্লাহর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুনায়েত চৌধুরী।

র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ২৮ হাজার ৫৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কক্সবাজার থেকে বিক্রির জন্য এসব ইয়াবা চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযুক্ত ও উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য এবং জব্দকৃত সিএনজি সংক্রান্ত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে আনোয়ারা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।




দেবীর চরণে সিঁদুর ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে পারকি সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন

দেবীর চরণে সিঁদুর ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে পারকি সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারায় বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সমাপ্ত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর থেকে মণ্ডপগুলোতে দর্পণ বিসর্জন, সিঁদুর খেলা ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে পারকি সমুদ্র সৈকতে দেবীকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয়। তবে পারকি সৈকত ছাড়াও আনোয়ারায় বিভিন্ন পুকুর, দীঘি এবং শঙ্খ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর আগে সকাল থেকে শাস্ত্রীয় মতেই বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হয়।

বিসর্জন উপলক্ষে পারকি সমুদ্র সৈকতে পূজা উদযাপন পরিষদ নানা আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল শীল, সমন্বয়ক সজিব দেব নাথ, রাহুল ধরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা।

বিসর্জনকালে সমুদ্র সৈকতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। বিসর্জনের আগে নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং একে অপরের কপালে সিঁদুর মেখে শুভকামনা জানান।

এ সময় বিসর্জন স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পুলিশ, আনসার এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরা শান্তিশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বিসর্জনের সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।