মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন

মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ

মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ
ছবি সংগৃহীত।

প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিশুদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে খেলায় খেলায় শেখার পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য স্থানীয় খেলাকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও সেই অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ের খেলাগুলো নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিদ্যালয়ে খেলানো যেতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়েও কাজ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় আনন্দময় শিখনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনন্দের সঙ্গে শেখা নিশ্চিত করতে হলে খেলায় খেলায় শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হবে। শিশুদের শুধু মুখস্থ করানোর মাধ্যমে ভালোভাবে শেখানো সম্ভব নয়। খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখানো হলে তাদের শেখার সক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি বাড়বে।

তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও প্রবলেম সলভিংয়ের দক্ষতা গড়ে তোলা জরুরি। আর প্রাথমিক বয়সে এসব দক্ষতা তৈরির জন্য খেলার মাধ্যমে শেখানো সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি। তাই নতুন পদ্ধতি পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের পরিবেশও সে অনুযায়ী তৈরি করতে হবে। শুধু পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করলেই হবে না, এর সঙ্গে অবকাঠামোর বিষয়টিও যুক্ত। বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকলে বা শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ খেলাধুলাভিত্তিক না হলে খেলায় খেলায় শেখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। বিশেষ করে প্রাথমিকের ছোট শিশুদের জন্য ক্রিকেট-ফুটবলের মতো বড় পরিসরের খেলাধুলার চেয়ে শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে করা যায় এমন খেলার ব্যবস্থা করা বেশি প্রয়োজন।

চীন ও জাপানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব দেশে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলার সমন্বয় করা হয়েছে। কোন শ্রেণিতে, কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় শেখাতে কোন খেলনা বা খেলা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যবই ও পাঠ্যক্রমে উল্লেখ থাকে। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যবই প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন।

বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় খেলনা ব্যবহারের একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয় শেখাতে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক খেলনা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা ও শিক্ষার পরিবেশ যথাযথভাবে তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।




এইচএসসির ফল ২৫-২৯ অক্টোবরের মধ্যে

এইচএসসির ফল ২৫-২৯ অক্টোবরের মধ্যে
ছবি সংগৃহীত।

চলতি মাসের ২৫ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে যেকোনো দিন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে।  বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান আজ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে যেকোনো দিন ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর।

এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই, শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে তাদের জন্য ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল। এ বোর্ডের ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।




শুধু ডিগ্রি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়: ববি হাজ্জাজ

শুধু ডিগ্রি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়: ববি হাজ্জাজ
ছবি সংগৃহীত।

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের দক্ষ, কর্মক্ষম ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এসব দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) টেসলবিডি ও ইউল্যাবের যৌথ আয়োজনে ‘২য় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার উদ্দেশ্য জ্ঞান অর্জন ও ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি না হলে শুধু ডিগ্রি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তারা অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারে এবং কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।

ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার ঘাটতি তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখানো এবং শেখার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানোর জন্য শিক্ষকদেরও নিজেদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজিতে পড়াশোনা করেও অনেক শিক্ষার্থীর সাবলীলভাবে কথা বলা, লিখিতভাবে ভাব প্রকাশ করা এবং পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগ ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা শুধু যোগাযোগের জন্য নয়, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, ব্যবসা, অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞান অর্জনের জন্যও প্রয়োজনীয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত নির্দেশনা ও পেশাগত তথ্যের বড় একটি অংশ ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। ফলে ভাষাগত দক্ষতার অভাব অনেক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও জ্ঞান অর্জন ও কর্মক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে ইংরেজির পাশাপাশি নিজস্ব ভাষায় জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিভাষা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা জাতীয় অর্থনীতির বড় সম্পদ হয়ে উঠবে। তরুণদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান, স্থিতিশীল আয় ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

তিনি বলেন, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের সামনে বাস্তবসম্মত বিকল্প তৈরি করা গেলে তারা অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে থেকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মমুখী শিক্ষা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলি ইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক এবং সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। এ ছাড়া টেসল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সদস্য এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।




পদায়ন নিয়ে ‘মধুর বিড়ম্বনায়’ প্রাথমিকের নতুন সহকারী শিক্ষকরা

পদায়ন নিয়ে ‘মধুর বিড়ম্বনায়’ প্রাথমিকের নতুন সহকারী শিক্ষকরা
ছবি সংগৃহীত।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন সহকারী শিক্ষকদের বিড়ম্বনা যেন পিছু ছাড়ছে না। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও সুপারিশের ১০ মাসের মাথায় যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন তারা। যোগদান পেতেও রাজপথে নেমে করতে হয়েছে আন্দোলন।

আবার যোগদানের সময়েও ভেরিফিকেশনের তুমুল বিতর্ক পেরোতে হয়েছে। অবশেষে গত ১ অক্টোবর বহুল কাঙ্ক্ষিত যোগদান হলেও পদায়ন নিয়ে একের পর তারিখ পেছাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে যোগদান করেও মধুর বিড়ম্বনায় পড়েছেন নতুন শিক্ষকরা।


নতুন সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, ঘোষণা অনুযায়ী- ৪ অক্টোবর তাদের পদায়নের কথা ছিল। অথচ হঠাৎ পদায়ন বাদ রেখে ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ অক্টোবর পদায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাতেও তাদের আপত্তি ছিল না। কিন্তু ফের পদায়নের তারিখ পিছিয়ে ১৮ অক্টোবর করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নতুন সহকারী শিক্ষকরা।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক আদেশে নতুন এ পদায়নের তারিখ ঘোষণা করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পদায়ন আদেশ ১১ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ এবং ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে ১৮ অক্টোবর পদায়নের নির্দেশনা ঘিরে শুরু হয়েছেন নতুন বিতর্ক। কারণ বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী- ১৮ অক্টোবর থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হবে। ছুটি শেষে বিদ্যালয় খুলবে ২৫ অক্টোবর। ফলে ছুটির মধ্যে পদায়ন কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নবনিযুক্ত শিক্ষকরা।

নয়ন তালুকদার নামের একজন নতুন সহকারী শিক্ষক ফেসবুকে এক পোস্টে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘পদায়নের জন্য একই স্মারক ও তারিখে তিনবার চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। যোগদানের পর আবার পদায়নের সময় বৃদ্ধি করেছে। এখন ফের ১১ অক্টোবর থেকে পরিবর্তন করে ১৮ অক্টোবর করা হলো। এগুলো আসলে কী? প্রতারণা ছাড়া তো কিছুই না।’

নাম প্রকাশ না করে নতুন একজন সহকারী শিক্ষক  বলেন, ‘প্রতিদিন বাড়ি থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যেতে হচ্ছে। প্রশিক্ষণের নামে সেখানে কিছুই করানো হচ্ছে না। শুধু বসিয়ে রাখা। বাড়ি থেকে যাতায়াতে ৪০০-৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। কোনোভাবে যদি যাতায়াতে দেরি বা অন্য কিছু হয়, সে ক্ষেত্রে আবার নেতিবাচক রিপোর্ট যাবে। মূলত ভোগান্তির মুখে ফেলা হচ্ছে।’


আশরাফুল ইসলাম আকাশ নামে একজন কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি-২০২৫ ফেসবুক গ্রুপের এক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘১৮ অক্টোবর পূজার ছুটি। পূজার ছুটি শেষে ১ নভেম্বর দুই মাসের জন্য পিটিআইতে পাঠানো হতে পারে। স্কুলে পদায়ন ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি হতে পারে।’

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার  বলেন, ‘কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন সহকারী শিক্ষকদের পদায়নে দেরি হচ্ছে। বদলিসহ কিছু ইস্যু রয়েছে। পদায়ন নিয়ে নতুন সহকারী শিক্ষকদের দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তারা যোগদানের দিন থেকে বেতন-ভাত প্রাপ্য হবেন।’