পদায়ন নিয়ে ‘মধুর বিড়ম্বনায়’ প্রাথমিকের নতুন সহকারী শিক্ষকরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন সহকারী শিক্ষকদের বিড়ম্বনা যেন পিছু ছাড়ছে না। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও সুপারিশের ১০ মাসের মাথায় যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন তারা। যোগদান পেতেও রাজপথে নেমে করতে হয়েছে আন্দোলন।
আবার যোগদানের সময়েও ভেরিফিকেশনের তুমুল বিতর্ক পেরোতে হয়েছে। অবশেষে গত ১ অক্টোবর বহুল কাঙ্ক্ষিত যোগদান হলেও পদায়ন নিয়ে একের পর তারিখ পেছাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে যোগদান করেও মধুর বিড়ম্বনায় পড়েছেন নতুন শিক্ষকরা।
নতুন সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, ঘোষণা অনুযায়ী- ৪ অক্টোবর তাদের পদায়নের কথা ছিল। অথচ হঠাৎ পদায়ন বাদ রেখে ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ অক্টোবর পদায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাতেও তাদের আপত্তি ছিল না। কিন্তু ফের পদায়নের তারিখ পিছিয়ে ১৮ অক্টোবর করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নতুন সহকারী শিক্ষকরা।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক আদেশে নতুন এ পদায়নের তারিখ ঘোষণা করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পদায়ন আদেশ ১১ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ এবং ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে ১৮ অক্টোবর পদায়নের নির্দেশনা ঘিরে শুরু হয়েছেন নতুন বিতর্ক। কারণ বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী- ১৮ অক্টোবর থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হবে। ছুটি শেষে বিদ্যালয় খুলবে ২৫ অক্টোবর। ফলে ছুটির মধ্যে পদায়ন কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নবনিযুক্ত শিক্ষকরা।
নয়ন তালুকদার নামের একজন নতুন সহকারী শিক্ষক ফেসবুকে এক পোস্টে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘পদায়নের জন্য একই স্মারক ও তারিখে তিনবার চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। যোগদানের পর আবার পদায়নের সময় বৃদ্ধি করেছে। এখন ফের ১১ অক্টোবর থেকে পরিবর্তন করে ১৮ অক্টোবর করা হলো। এগুলো আসলে কী? প্রতারণা ছাড়া তো কিছুই না।’
নাম প্রকাশ না করে নতুন একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘প্রতিদিন বাড়ি থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যেতে হচ্ছে। প্রশিক্ষণের নামে সেখানে কিছুই করানো হচ্ছে না। শুধু বসিয়ে রাখা। বাড়ি থেকে যাতায়াতে ৪০০-৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। কোনোভাবে যদি যাতায়াতে দেরি বা অন্য কিছু হয়, সে ক্ষেত্রে আবার নেতিবাচক রিপোর্ট যাবে। মূলত ভোগান্তির মুখে ফেলা হচ্ছে।’
আশরাফুল ইসলাম আকাশ নামে একজন কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি-২০২৫ ফেসবুক গ্রুপের এক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘১৮ অক্টোবর পূজার ছুটি। পূজার ছুটি শেষে ১ নভেম্বর দুই মাসের জন্য পিটিআইতে পাঠানো হতে পারে। স্কুলে পদায়ন ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি হতে পারে।’
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার বলেন, ‘কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন সহকারী শিক্ষকদের পদায়নে দেরি হচ্ছে। বদলিসহ কিছু ইস্যু রয়েছে। পদায়ন নিয়ে নতুন সহকারী শিক্ষকদের দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তারা যোগদানের দিন থেকে বেতন-ভাত প্রাপ্য হবেন।’













