ভবন নাছির-রেজাউলরা করেছিলেন একতলা, শাহাদাত করবেন ৪ তলা
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

ভবন নাছির-রেজাউলরা করেছিলেন একতলা, শাহাদাত করবেন ৪ তলা

ভবন নাছির-রেজাউলরা করেছিলেন একতলা, শাহাদাত করবেন ৪ তলা
ছবি সংগৃহীত।


চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেটের বিপ্লব উদ্যান নিয়ে নতুন চুক্তি করেছে সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ চুক্তির মাধ্যমে উদ্যানে নতুন স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ পাচ্ছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আগের দুই মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী যেখানে একতলা ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন, সেখানে বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেনের নতুন চুক্তিতে উদ্যানে চারতলা ভবন নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


সম্প্রতি চসিক নূর হাফিজ প্রপার্টিজ নামের প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২৫ বছরের জন্য চুক্তি করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উদ্যানে বিদ্যমান একতলা স্থাপনাটি বর্ধিত করে চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা যাবে। দ্বিতীয় তলায় আধুনিক সবুজবান্ধব আরবান লাউঞ্জ, তৃতীয় তলায় ইনডোর গেমসের জন্য কফিশপসহ অবকাঠামো এবং চতুর্থ তলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ রাখা হয়েছে। উদ্যানে বর্তমানে থাকা ২১টি দোকান ও ২টি শৌচাগার নতুন প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হবে।


জানা যায়, ১৯৭৯ সালে ২ নম্বর গেট এলাকায় এক একর জায়গায় বিপ্লব উদ্যান গড়ে তোলা হয়। ২০১৮ সালে তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন উদ্যানটিতে দোকানপাট নির্মাণ শুরু করেন। ২০২৩ সালে এসে তৎকালীন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী উদ্যানটিতে অবকাঠামো নির্মাণে আরেকটি চুক্তি করেছিলেন।

এদিকে, বিপ্লব উদ্যানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছেন। নগরের পরিবেশ ও ইতিহাসের সুরক্ষায় উদ্বেগও প্রকাশ করেন তারা। তাদের বক্তব্য, নগরের সবুজ এলাকা এবং উন্মুক্ত স্থান ক্রমেই সংকুচিত হয়ে বাণিজ্যিকীকরণ হচ্ছে। আগের দুই মেয়রের সময়েও বিপ্লব উদ্যানে একই ধরনের চুক্তি হয়েছিল। তবে এসব চুক্তি বাতিল করতে হয়েছিল আদালতের নির্দেশে। এরপরেও এই নতুন চুক্তি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।


শুধু বিপ্লব উদ্যান নয়। নগরের চান্দগাঁও ও কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন ফুটপাত দখল করে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করে চসিক। সম্প্রতি নগরের কোতোয়ালি থানা কাজির দেউরি আউটার স্টেডিয়াম সংলগ্ন পুলিশ বক্সের পাশের প্রায় ১০০ ফুট ফুটপাত ঘিরে সেখানে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। যেখানে চসিকের মেয়র আ. জ. ম নাছির উদ্দীন ২০১৮ সালে দোকানপাট বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে এসে জেলা প্রশাসন সেগুলো উচ্ছেদ করে দিয়েছিল।

বিপ্লব উদ্যানে নিয়মিত হাঁটতে আসেন জুনায়েদ খান। তিনি বলেন, আমি এখানে নিয়মিত হাঁটতে আসি। এমনিতে এখানে দোকানপাট নির্মাণ করে পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এখন  চারতলা বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করা খুবই হতাশাজনক। উদ্যানে হাঁটার জন্য যে শান্ত পরিবেশ ছিল, তা যদি হারিয়ে যায়, তাহলে কই যাবো আমরা? সিটি করপোরেশনকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের মতামত নেওয়ার উচিত ছিল। শহরে আমাদের বিশ্রামের জায়গা খুবই প্রয়োজন। সবুজ উদ্যানগুলো যদি শুধু বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হয়। তাহলে শহরের মানুষের জন্য বেঁচে থাকার স্পেসই তো থাকবে না!

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন পদে চেহারা পরিবর্তন হয়েছে। বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের লোকেরাও অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে, এখনো হচ্ছে। এটি দুঃখজনক। চসিকের শীর্ষ পদে যিনি আছেন, তিনি ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর বসেছেন। এত লোকের প্রাণহানির পর যিনি পদে বসেছেন, তার প্রতি জনগণের অনেক প্রত্যাশা। বিপ্লব উদ্যানে স্থাপনার অনুমতি দেওয়া, বাণিজ্য করার সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

চুক্তির বিষয়ে জানতে ডা. শাহাদাত হোসেন কানাডা সফরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিপ্লব উদ্যানে খোলা স্থানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। আগের যে জায়গায় দোকান রয়েছে, সেখানে স্থাপনা করতে হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমতি নিতে হবে।




সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া পাঁচ আসামিকে ভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি দুজন হলেন—ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।

এছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছর, শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ‍ও মো. নাসিরুল ইসলামের তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় আট আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন। তারা হলেন—আরশাদ, সুজন, ইমন ও নাসিরুল। তাদের আজ সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তবে হাবিব, আখতারুল, সুদীপ ও ইমরুল এখনও পলাতক।

চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ওয়্যারলেস বার্তায় অধস্তনদের মারণাস্ত্র ব্যবহারে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের নির্দেশও প্রমাণিত হয়েছে।

পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম মামলা হলেও রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়। ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের দিন। ওই দিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন, শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইশমামুল হক ও মানিক মিয়া।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। জব্দ তালিকা হিসেবে ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি প্রতিবেদন, দুটি অডিও, বই ও ১১টি প্রতিবেদন, ছয়টি মৃত্যুসনদ সংযুক্ত করে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ২০ জানুয়ারি এ রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রস্তুত না হওয়ায় নতুন তারিখ হিসেবে আজকের দিন ধার্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১।




লুটপাটে শেখ হাসিনা দেশ ধ্বংস করেছেন: খায়রুল কবির খোকন

লুটপাটে শেখ হাসিনা দেশ ধ্বংস করেছেন: খায়রুল কবির খোকন
ছবি সংগৃহীত।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার গুম, খুন ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন। আজ রোববার বিকেলে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া নার্সারি মাঠে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। খায়রুল কবির খোকন বলেন, "দীর্ঘ ১৭ বছর একটি ফ্যাসিস্ট ও অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে শহীদ জিয়ার পরিবার।"

তিনি আরও বলেন, "বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বিনা চিকিৎসায় হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। একইভাবে তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে না দিতে ১২৫টি মিথ্যা মামলাসহ নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে রাষ্ট্রকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।"

বক্তব্যে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সতর্ক করে বলেন, "একটি দল জান্নাতের টিকিট বিক্রির নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এসব অপপ্রচারে কেউ যেন পা না দেন।"

চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আল মামুন মুন্সির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা। দোয়া মাহফিলে চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন মোল্লা ও সদস্য সচিব মো. রফিকুল ইসলাম সরকারসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।




সংশোধনী

সংশোধনী
ছবি সংগৃহীত।


দৈনিক সাঙ্গু ফেইসবুক ফেইজে গতকাল চট্টগ্রামে কলেজ ভার্সিটির মেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে দে/হ ব্যবসায় শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। রিপোটের শুরুতেই ইউটিউব থেকে সংগৃহিত দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার- মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম আরিফের ভয়েস ও চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মুলত সংগৃতি হয়েছে ইউটিউব থেকে । রিপোর্টটিতে তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তার তিনি তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। আমরা তার বক্তব্যের অংশটুকু প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। ভবিষতে এই বিষয়ে আমরা আরো সর্তক হবো। বার্তা সম্পাদক