চকরিয়া গ্রামার স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থী ইফ্ফাত ইলাহী আনানের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

চকরিয়া গ্রামার স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থী ইফ্ফাত ইলাহী আনানের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন

চকরিয়া গ্রামার স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থী ইফ্ফাত ইলাহী আনানের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন
ছবি সংগৃহীত।

চকরিয়া পৌর শহরের বায়তুশ শরফ রোড এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির উদ্দীনের পুত্র ইফ্ফাত ইলাহী আনান সরকারি জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫ এ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। বর্তমানে সে চকরিয়া গ্রামার স্কুল -এ নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে উত্তর লক্ষ্যারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায়ও ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেছিল আনান। এছাড়া অষ্টম শ্রেণিতে বেসরকারি ৫টি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবগুলোতেই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে সে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।

সন্তানের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে পিতা নাসির উদ্দীন ও মাতা জেসমিন আক্তার মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করেন। তারা বলেন, “ছেলের এই সাফল্য তার শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনার ফল। আমরা তার সকল শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

আনানের এ সাফল্যে তার আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।




রামুর ঈদগড়ে সৌদি প্রবাসী যুবদল নেতা আমিন উল্লাহ্ রেজার উদ্যোগে ৭০ পরিবারে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

রামুর ঈদগড়ে সৌদি প্রবাসী যুবদল নেতা আমিন উল্লাহ্ রেজার উদ্যোগে ৭০ পরিবারে ইফতার সামগ্রী বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে   ঈদগড় ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসচ্ছল রোজাদারদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 

‎ঈদগড় ইউনিয়ন সৌদি প্রবাসী যুবদলের সহ-সভাপতি আমিন উল্লাহ্ রেজা-এর উদ্যোগে ৭০টি নিন্ম  আয়ের পরিবারের মাঝে  এ সহায়তা দেওয়া হয়।

‎বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঈদগড় ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে আয়োজিত এ বিতরণ কার্যক্রমে প্রবাসে অবস্থানরত আমিন উল্লাহ্ রেজার পক্ষে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন তার  পিতা ঈদগড় ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম।

‎এ সময় তিনি বলেন, রমজান মাস সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সমাজের সচ্ছল মানুষদের উচিত অসহায় ও দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো। সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সমাজে সাম্য ও সহমর্মিতার বন্ধন সুদৃঢ় করতে।

‎বিতরণকৃত ইফতার সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য।

‎এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‎প্রবাসী আমিন উল্লাহ্ রেজা জানান,

‎রমজানের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তাঁর এ উদ্যোগ। এছাড়াও সে নিয়মিত এলাকার গরীব - লোকদেরকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করে থাকেন।




চকরিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, সন্ত্রাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম

চকরিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, সন্ত্রাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় কর্মরত তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে মানববন্ধন থেকে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া নিউ মার্কেটের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার পথচলা শুরু করেছে। এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড় নিধনের সঙ্গে জড়িত হারবাং ইউনিয়নের নাজেম উদ্দিন সাংবাদিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সাংবাদিকরা প্রশাসনের নীরবতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতার করতে মামলা লাগে না—তাই দ্রুত গ্রেফতার নিশ্চিত করতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেন, কোনো বালু বা পাহাড় খেকোকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে “কলম যুদ্ধ” শুরু করা হবে।

এ সময় বক্তারা আরও দাবি করেন, নাজেম উদ্দিনের অবৈধ অর্থে বন বিভাগের জমি দখল করে নির্মিত বাড়ি দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে।
সাংবাদিক এম.আর. মাহমুদের সভাপতিত্বে ও মনসুর রানার পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যক্তিগত প্রেস সচিব সফওয়ানুল করিম, সাংবাদিক আব্দুল মজিদ, ওমর আলী, এম. আলী হোসেন, একে এম বেলাল উদ্দিন, এস.এম. হানিফসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা। এতে চকরিয়া-পেকুয়ার প্রায় শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকায় অবৈধ বালুর ডিপোর তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক, কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ এবং দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি এম. জিয়াবুল হককে ছবি ও ভিডিও ধারণের কারণে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং এক পর্যায়ে জিম্মি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।




‎রামুতে হাত কড়া পড়া অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়া ২ ভাই হারালেন বাবাকেও, মিলেনি স্থায়ী মুক্তি

‎রামুতে হাত কড়া পড়া অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়া ২ ভাই হারালেন বাবাকেও, মিলেনি স্থায়ী মুক্তি
ছবি সংগৃহীত।

আড়াই মাস ধরে কারাগারে বন্দি রামুর দক্ষিন মিঠাছড়ি ইউনিয়নের আপন দুই ভাই ফরিদুল আলম (৪৩) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮)। বার্ধক্যজনিত কারণে গত শনিবার সকালে তাদের মা মোস্তফা বেগমের (৮০) মৃত্যু হয়। মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি মেলে। পুলিশি পাহারায় মাকে শেষবিদায় জানান দুই ভাই। তারা মায়ের জানাজা ও দাফনে হাতকড়া পড়েই অংশ নেন। এর পর ফের কারাগারে পাঠানো হয়।

‎মায়ের জানাজা পড়ার দুই দিনের ব্যবধানে এবার তাঁদের বাবা নুর আহমদও (৯০) মারা গেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

‎মঙ্গলবার দুপুরে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে নূর আহমদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় । ঠিক একই মাঠে গত শনিবার দুপুরে তাঁদের মা মোস্তফা বেগমের জানাজা হয়। সেই দিনই বাবার শঙ্কার কথা জানিয়েছিল কারাবন্দি ছেলেরা।

‎জানা গেছে, ফরিদুল আলম ও ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে রামু থানায়  মামলা রয়েছে। এসব মামলায় দুজন প্রায় আড়াই মাস ধরে কক্সবাজার কারাগারে। গত শনিবার সকালে তাদের মা মারা যান। এরপর ফরিদুল আলম  ও ইসমাইলের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেন স্বজনেরা। বেলা ১১টার দিকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাড়ি গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখেন তারা। এরপর খাটিয়া কাঁধে বহন করে দাফনের জন্য নিয়ে যান। এ সময় দুজনের হাতে হাতকড়া ছিল। হাতকড়ার একটি অংশ দড়ি লাগিয়ে পুলিশের হাতে দেখা যায়।

‎জানাজায় অঝোরে কাঁদেন ফরিদুল আলম  ও ইসমাইল। তারা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

‎স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, খুঁনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় ফরিদুল আলম  ও ইসমাইলকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

‎ইসমাইলের স্ত্রী কুলছুমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তাদেরকে অহেতুক মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানো হচ্ছে।’ মা ও বাবা দুজনই মারা গেলেন। অথচ সন্তান হিসাবে শেষ সেবাটুকু করতে পারলেন না।

‎রামু থানা ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইঁয়া জানান, ২ আওয়ামীলীগ নেতার মা মোস্তফা বেগম শুক্রবার রাতে মারা যান। তাদের স্বজন নবী হোছন আদালতে  প্যারেলো মুক্তির আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দিলে  তারা তাদের মায়ের জানাযায় অংশ নেন। মায়ের দাপন শেষে তাদেরকে পুণরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং সোমবার সন্ধ্যায় তাদের বাবাও মারা যান।

‎উল্লেখ্য, বাবার জানাযায়ও তাদের  আবারো প্যারেলো মুক্তি মিললেও স্থায়ী মুক্তি মিলেনি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম নেয়। তাছাড়া অনেক কঠোরতার মধ্য দিয়ে ২ ভাইকে বাবার জানাযায় অংশ নিতে দেখা যায়।  গ্রামবাসীর তোপের মুখে অনেকটা গোপনিয়তা লক্ষ করা যায়।