আড়াই মাস ধরে কারাগারে বন্দি রামুর দক্ষিন মিঠাছড়ি ইউনিয়নের আপন দুই ভাই ফরিদুল আলম (৪৩) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮)। বার্ধক্যজনিত কারণে গত শনিবার সকালে তাদের মা মোস্তফা বেগমের (৮০) মৃত্যু হয়। মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি মেলে। পুলিশি পাহারায় মাকে শেষবিদায় জানান দুই ভাই। তারা মায়ের জানাজা ও দাফনে হাতকড়া পড়েই অংশ নেন। এর পর ফের কারাগারে পাঠানো হয়।
মায়ের জানাজা পড়ার দুই দিনের ব্যবধানে এবার তাঁদের বাবা নুর আহমদও (৯০) মারা গেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে নূর আহমদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় । ঠিক একই মাঠে গত শনিবার দুপুরে তাঁদের মা মোস্তফা বেগমের জানাজা হয়। সেই দিনই বাবার শঙ্কার কথা জানিয়েছিল কারাবন্দি ছেলেরা।
জানা গেছে, ফরিদুল আলম ও ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা রয়েছে। এসব মামলায় দুজন প্রায় আড়াই মাস ধরে কক্সবাজার কারাগারে। গত শনিবার সকালে তাদের মা মারা যান। এরপর ফরিদুল আলম ও ইসমাইলের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেন স্বজনেরা। বেলা ১১টার দিকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাড়ি গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখেন তারা। এরপর খাটিয়া কাঁধে বহন করে দাফনের জন্য নিয়ে যান। এ সময় দুজনের হাতে হাতকড়া ছিল। হাতকড়ার একটি অংশ দড়ি লাগিয়ে পুলিশের হাতে দেখা যায়।
জানাজায় অঝোরে কাঁদেন ফরিদুল আলম ও ইসমাইল। তারা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, খুঁনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় ফরিদুল আলম ও ইসমাইলকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
ইসমাইলের স্ত্রী কুলছুমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তাদেরকে অহেতুক মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানো হচ্ছে।’ মা ও বাবা দুজনই মারা গেলেন। অথচ সন্তান হিসাবে শেষ সেবাটুকু করতে পারলেন না।
রামু থানা ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইঁয়া জানান, ২ আওয়ামীলীগ নেতার মা মোস্তফা বেগম শুক্রবার রাতে মারা যান। তাদের স্বজন নবী হোছন আদালতে প্যারেলো মুক্তির আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দিলে তারা তাদের মায়ের জানাযায় অংশ নেন। মায়ের দাপন শেষে তাদেরকে পুণরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং সোমবার সন্ধ্যায় তাদের বাবাও মারা যান।
উল্লেখ্য, বাবার জানাযায়ও তাদের আবারো প্যারেলো মুক্তি মিললেও স্থায়ী মুক্তি মিলেনি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম নেয়। তাছাড়া অনেক কঠোরতার মধ্য দিয়ে ২ ভাইকে বাবার জানাযায় অংশ নিতে দেখা যায়। গ্রামবাসীর তোপের মুখে অনেকটা গোপনিয়তা লক্ষ করা যায়।