ফটিকছড়িতে ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলা, চালক আটক
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলা, চালক আটক

ফটিকছড়িতে ট্রাফিক পুলিশের ওপর হামলা, চালক আটক
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে এক ট্রাফিক কর্মকর্তা হামলার শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সদর বিবিরহাট বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ট্রাফিক সার্জেন্ট ইনস্পেক্টর (টিএসআই) মোঃ মফিজ উদ্দিন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করছিলেন। এ সময় একটি ডাম্প ট্রাক থামিয়ে কাগজ দেখতে চাইলে চালক আকবর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তিনি অতর্কিতভাবে টিএসআই মফিজ উদ্দিনের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি মুখমণ্ডলে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্ত চালককে আটক করেন। বর্তমানে তিনি ফটিকছড়ি থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহত কর্মকর্তা মোঃ মফিজ উদ্দিন বলেন, নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় কাগজপত্র যাচাই করতে গেলে চালক হঠাৎ হামলা চালায়।

ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।




রাউজানে আবারো প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

রাউজানে আবারো প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাউজানে বাজারে প্রকাশ্যে যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার  পূর্ব গুজরার অলিমিয়াহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০)।  অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা। দলীয় সূত্রের দাবি, তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যায় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন আবদুল মজিদ। এ সময় বাজারেই মুখোশ পরা একদল অস্ত্রধারী যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে।

640171583_1243937321046580_4448813554103955687_n


 

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন মজিদকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।  কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, তাঁর চোখের ওপরে, বুকে ও কোমরে মোট তিনটি গুলি লাগে।

নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, ‌‘ইফতার শেষ করে বাসা থেকে বের হন আবদুল মজিদ। অলিমিয়াহাট বাজারে একটি দোকানে বসা ছিলেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পর গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগেও আমার স্বামীর ওপর হামলা করা হয়েছিল। তখন বেঁচে যান। এবার গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।’

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) টিবলু কান্তি দে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম  বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৫ জানুয়ারি একই বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮) নামের আরেক যুবদল নেতাকে একই কায়দায় মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।




কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনের অভিযোগে ১লাখ টাকা জরিমানা

কৃষিজমির টপসয়েল কর্তনের অভিযোগে ১লাখ টাকা জরিমানা
ছবি সংগৃহীত।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাটহাজারীতে কৃষি জমির টপসয়েল মাটি কাটার অপরাধে জুয়েল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে ১লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার( ২৩ ফেব্রুয়ারি)  রাত ২টার দিকে  ধলই পুল এলাকায় কৃষিজমির টপ সয়েল কর্তনের সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাটি কাটার স্কেভেটর জব্দ করা হয়।এসময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।উক্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন  সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট শাহেদ আরমান। কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।


অভিযানে ধলই ইউনিয়নের শফিনগর এলাকার  মোঃ জুয়েল মিয়া মোঃ মাহবুব আলীর পুত্র বলে জানা গেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের অবস্থান অনুসরণ করতে থাকেন এবং অপরাধীদের তথ্য দিতে থাকেন যা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। কৃষি জমির টপ সয়েল কর্তনে সহায়তা করায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০১০ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় উক্ত ব্যক্তিকে ১৫ (পনেরো) দিনের কারাদণ্ড এবং ১লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৭ (সাত) দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয় বলে সত্যতা নিশ্চিত করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট শাহেদ আরমান।




হাটহাজারীতে প্রশাসনের নির্দেশনা তোয়াক্কা করছে না পরিবহনগুলো, রাস্তায় পড়ে আছে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড

হাটহাজারীতে প্রশাসনের নির্দেশনা তোয়াক্কা করছে না পরিবহনগুলো, রাস্তায় পড়ে আছে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারীতে জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া কঠোর নির্দেশনা ও সতর্কবার্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে একশ্রেণীর অসাধু পরিবহন চালক ও শ্রমিক।

হাটহাজারী বাস স্টেশন মোড়ে স্থাপিত প্রশাসনের একটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড উপড়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐ স্থানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল যাতে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল ​এ স্থানে কোন যানবাহন থামবে না। থামলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ​একই সাথে যাত্রীদের অনুরোধ করা হয়েছিল তারা যেন রাস্তায় অপেক্ষা না করে আধুনিক হাসপাতালের সামনে থেকে বাস বা সিএনজিতে ওঠানামা করেন। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, সেই সতর্কবার্তা সম্বলিত সাইনবোর্ডটি বর্তমানে ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং দ্রুত গাড়ি ঘোরানোর সময় কোনো একটি বড় যানবাহনের ধাক্কায় এটি ভেঙে যায়।

​সাইনবোর্ডটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় সেই স্থানে আবারও আগের মতো বিশৃঙ্খলভাবে যানবাহন থামানো হচ্ছে। এতে বাস স্টেশন মোড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং রোজাদার পথচারীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।

​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসনের ভালো উদ্যোগগুলো তদারকির অভাবে ভেস্তে যাচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বেপরোয়া আচরণের কারণেই সরকারি সম্পদের এমন ক্ষতি হচ্ছে। তারা দ্রুত এই সাইনবোর্ডটি মেরামত করে পুনরায় স্থাপন এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

​এই বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল।