ফটিকছড়িতে এসএসসি-সমমানের ফলাফলে মাদরাসার উত্থান, স্কুলে হতাশা
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন

ফটিকছড়িতে এসএসসি-সমমানের ফলাফলে মাদরাসার উত্থান, স্কুলে হতাশা

ফটিকছড়িতে এসএসসি-সমমানের ফলাফলে মাদরাসার উত্থান, স্কুলে হতাশা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিদ্যালয় ও মাদরাসার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। পাসের হারে বিদ্যালয়ের তুলনায় মাদরাসাগুলো এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। তবে সার্বিক ফলাফলে বিদ্যালয়গুলোর পাসের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে।

এবার ফটিকছড়িতে এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়গুলোর পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিপরীতে দাখিল পরীক্ষায় মাদরাসাগুলোর পাসের হার ৬৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এসএসসির তুলনায় দাখিলে পাসের হার প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৪ জন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া ফলাফল শিট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ফটিকছড়ির ৬০টি বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪৩ শতাংশই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

পাসের হারে বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তের আব্দুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ধর্মপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। গোপালঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ জনের মধ্যে ৫৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে দুজন। পাসের হারে পরের অবস্থানে রয়েছে আজিমপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও জাহানারা মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

দাখিল পরীক্ষায় ফটিকছড়ির ৩৪টি মাদরাসার পাসের হার ৬৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিদ্যালয়ের তুলনায় এখানে পাসের হার প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।

মাদরাসাগুলোর মধ্যে পাসের হারে প্রথম হয়েছে মাদরাসা-এ গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী। ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। হেয়াকো রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৪৪ জনের মধ্যে ৩৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন।

নুর কাজী হালিমিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ৩১ জনের মধ্যে ২৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

পাসের হারে মাদরাসাগুলো এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫-এর হিসাবে চিত্র ভিন্ন। মাদরাসাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়টি জিপিএ-৫ পেয়েছে লেলাংয়ের বন্দেরাজা-এ মহিলা দাখিল মাদরাসা। ২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে।

অন্যদিকে, এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় বিদ্যালয়গুলো এগিয়ে। ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এবার ১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৯ জন পাস করেছে। এ ছাড়া ফটিকছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন।

সামগ্রিক পাসের হার কম হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ের ফল বিশেষভাবে নজরে এসেছে। উপজেলার একমাত্র সরকারি বিদ্যালয় ফটিকছড়ি সরকারি করোনেশন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হারও এবার সন্তোষজনক নয়।

নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবার তিনজন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। গতবারও বিদ্যালয়টির কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি।

অন্যদিকে, ফটিকছড়ির দুটি পুরোনো সুন্নিয়া মাদরাসার ফলও প্রত্যাশার তুলনায় কম। ফটিকছড়ি জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৯৪ জনের মধ্যে ৫০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। নানুপুর মজাহারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৭৫ জনের মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।

ফটিকছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, "গতবারের তুলনায় এবার এসএসসিতে পাসের হার বাড়েনি; পাশাপাশি জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও কমেছে। অন্যদিকে, গতবারের তুলনায় এবার মাদরাসায় জিপিএ-৫-এর পাশাপাশি পাসের হারও বেড়েছে। ফটিকছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজেও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বেড়েছে।"




ভূমির অধিকার ও মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ভূমির অধিকার ও মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকস্বার্থবিরোধী গেজেট ও ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাতিল, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (বি-৭৭) স্বাধীন নির্বাচন এবং চা-শ্রমিকদের ভূমির আইনগত মালিকানা নিশ্চিত করার দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কর্ণফুলী চা-বাগানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন চা-শ্রমিকেরা।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন কর্ণফুলী চা-বাগানে প্রায় দুই ঘণ্টা কাজ বন্ধ রেখে এ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকেরা।

বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি ও চা-শ্রমিকদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে শ্রমিকেরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে বাগান এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

চা-শ্রমিক চট্টগ্রাম ভ্যালির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টুর সভাপতিত্বে ও কর্ণফুলী চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি বিপ্লব কুমার দে-র সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকেরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারমূল্যে ১৮৭ টাকা মজুরি দিয়ে পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পড়ালেখার ব্যয় বহন করা তো আরও কঠিন। তাঁদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

চা-শ্রমিক শুকতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে; কিন্তু সে তুলনায় চা-শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। ফলে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবি জানান তিনি।

শ্রমিক মনিশা ও অন্য শ্রমিকেরা মজুরি বৃদ্ধির দাবির পাশাপাশি অভিযোগ করে বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-বাগানে বসবাস ও শ্রম দিলেও অধিকাংশ শ্রমিকের বসতভিটার জমির ওপর আইনগত মালিকানা নেই।

চা-শ্রমিক চট্টগ্রাম ভ্যালির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টু বলেন, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা-বাগানকেন্দ্রিক জনপদে বসবাস করেও অধিকাংশ শ্রমিক নিজেদের বসতভিটার জমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত। শুধু মজুরি বাড়ালেই চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধান হবে না; তাঁদের ভূমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।




ভূজপুর মামলার গ্লানি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে হাজারো নিরীহ বিএনপি-হেফাজত কর্মী: প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

ভূজপুর মামলার গ্লানি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে হাজারো নিরীহ বিএনপি-হেফাজত কর্মী: প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
ছবি সংগৃহীত।

২০১৩ সালের ‘ভূজপুর ট্র্যাজেডি’কে কেন্দ্র করে দায়ের করা অবশিষ্ট মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ভূজপুর মজলুম ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, এসব মামলায় দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে শত শত মানুষ হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

গত ৯ আগস্ট ফটিকছড়ির বাবুনগরে সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিটি দেওয়া হয়। একই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ফটিকছড়ির ভূজপুর কাজিরহাট এলাকায় সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি, হেফাজতে ইসলাম ও তৎকালীন জোটের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য মানুষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়। সংগঠনটির দাবি, এসব মামলায় অনেক নিরপরাধ মানুষকে আসামি করা হয়েছে।

ভূজপুর মজলুম ঐক্য পরিষদ জানায়, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সরকারি উদ্যোগের আওতায় কয়েকটি মামলা প্রত্যাহার করা হলেও ‘ভূজপুর ট্র্যাজেডি’কে কেন্দ্র করে দায়ের করা আটটি মামলা এখনো চলমান। এসব মামলায় শত শত মানুষ আসামি রয়েছেন। কয়েকটি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে এবং কয়েকটি রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মামলাগুলো চলমান থাকায় আসামি ও তাঁদের পরিবারগুলো আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেককে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। কারও কারও কারাবরণ করতে হয়েছে। আত্মগোপনে থাকার কারণে অনেকে নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে জানাজা ও দাফনেও অংশ নিতে পারেননি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

মামলার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত আদালতে হাজিরা, আইনজীবীর খরচ ও যাতায়াত ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন সংগঠনটির নেতারা। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মামলা ও হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ভূজপুর মজলুম ঐক্য পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ দিদারুল আলম ও মহাসচিব মাওলানা আজগর সালেহীর পক্ষে স্মারকলিপিটি দেওয়া হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।




ভূমির অধিকার ও মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন

ভূমির অধিকার ও মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মানববন্ধন
ছবি সংগৃহীত।

দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকস্বার্থবিরোধী গেজেট ও ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাতিল, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (বি-৭৭) স্বাধীন নির্বাচন এবং চা-শ্রমিকদের ভূমির আইনগত মালিকানা নিশ্চিত করার দাবিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কর্ণফুলী চা-বাগানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন চা-শ্রমিকেরা।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন কর্ণফুলী চা-বাগানে প্রায় দুই ঘণ্টা কাজ বন্ধ রেখে এ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকেরা।

বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি ও চা-শ্রমিকদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে শ্রমিকেরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে বাগান এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

চা-শ্রমিক চট্টগ্রাম ভ্যালির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টুর সভাপতিত্বে ও কর্ণফুলী চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি বিপ্লব কুমার দে-র সঞ্চালনায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকেরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারমূল্যে ১৮৭ টাকা মজুরি দিয়ে পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাপন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পড়ালেখার ব্যয় বহন করা তো আরও কঠিন। তাঁদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

চা-শ্রমিক শুকতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় চা-শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। ফলে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবি জানান তিনি।

শ্রমিক মনিশা ও অন্য শ্রমিকেরা মজুরি বৃদ্ধির দাবির পাশাপাশি অভিযোগ করে বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা-বাগানে বসবাস ও শ্রম দিলেও অধিকাংশ শ্রমিকের বসতভিটার জমির ওপর আইনগত মালিকানা নেই।

চা-শ্রমিক চট্টগ্রাম ভ্যালির সভাপতি নিরঞ্জন নাথ মন্টু বলেন, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা-বাগানকেন্দ্রিক জনপদে বসবাস করেও অধিকাংশ শ্রমিক নিজেদের বসতভিটার জমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত। শুধু মজুরি বাড়ালেই চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধান হবে না; তাঁদের ভূমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।