এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল: আনোয়ারায় সেরা কাফকো স্কুল ও বারখাইন জমহুরিয়া মাদ্রাসা
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল: আনোয়ারায় সেরা কাফকো স্কুল ও বারখাইন জমহুরিয়া মাদ্রাসা

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল: আনোয়ারায় সেরা কাফকো স্কুল ও বারখাইন জমহুরিয়া মাদ্রাসা
ফলাফলে সেরা বারখাইন জামেয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আনোয়ারা উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার ৬৯৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১ হাজার ৭৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে ১১টি মাদ্রাসা থেকে ৬০৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৪৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৩টি কারিগরি (ভোকেশনাল) বিদ্যালয় থেকে ১৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

এসএসসিতে উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১০ জন, দাখিলে ২৭ জন এবং ভোকেশনালে ২১ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। আনোয়ারায় এবার এসএসসিতে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ, দাখিলে ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ভোকেশনালে ৬৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ২৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৬ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশ—যা উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম। ৫৮ জন পাস করে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সিইউএফএল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯২ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮ জন পাস করেছে এবং ৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী পীরখাইন মাওলানা আশরাফ চৌধুরী স্কুলের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে ১৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১০২ জন পাস করেছে এবং তাদের মধ্যে ৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

অন্যদিকে উপজেলার ১১টি মাদ্রাসার মধ্যে বারখাইন জামেয়া জমহুরিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এ মাদ্রাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় ৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৭৯ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে ২০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মোহাম্মদিয়া কুদ্দুসিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৪ জন পাস করেছে, যাদের মধ্যে ২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ মাদ্রাসার পাসের হার ৮২ দশমিক ৯২ শতাংশ। পশ্চিম চাল ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ১১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৯১ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে ৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং পাসের হার ৭৭ দশমিক ১২ শতাংশ।

আনোয়ারায় ৩টি কারিগরি বিদ্যালয় রয়েছে। সেগুলো হলো—আনোয়ারা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ঝি.বা.শি উচ্চবিদ্যালয় ও তৈলারদ্বীপ এরশাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়। এ তিনটির মধ্যে আনোয়ারা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৬ জন পাস করে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে এবং পাসের হার ৮৬ শতাংশ। অপর দুটির মধ্যে ঝি.বা.শি উচ্চবিদ্যালয় এবং তৈলারদ্বীপ এরশাদ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের পাসের হার যথাক্রমে ৬৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ ও ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এবার উপজেলায় এসএসসিতে মোট অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৯০২ জন, দাখিলে ১৭৩ জন এবং ভোকেশনালে ৬৭ জন পরীক্ষার্থী।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র বসু জানান, সারা দেশের মতো এবার আনোয়ারা উপজেলায়ও ফলাফল তেমন ভালো হয়নি। আগামীতে ভালো ফলাফল অর্জনে চেষ্টা করা হবে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন বলেন, "ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। এবার সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফল ভালো করতে শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বসব।"




পটিয়ায় জলাবদ্ধতায় একমাত্র ঠিকানা হারিয়ে নির্বাক অপু বিশ্বাস: মাটির ঘর ভেঙে বিলীন, প্লাস্টিকের বিছানায় রাত কাটছে রিকশাচালক ও বৃদ্ধ মায়ের

পটিয়ায় জলাবদ্ধতায় একমাত্র ঠিকানা হারিয়ে নির্বাক অপু বিশ্বাস: মাটির ঘর ভেঙে বিলীন, প্লাস্টিকের বিছানায় রাত কাটছে রিকশাচালক ও বৃদ্ধ মায়ের
ছবি সংগৃহীত।

জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা যে ঘরটির, সেই ঘরই এখন নেই। জলাবদ্ধতায় মাটির ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে রিকশাচালক অপু বিশ্বাসের। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন নিজের বাড়ির উঠানে প্লাস্টিক বিছিয়ে রাত কাটছে তাঁর।

পটিয়া উপজেলার মধ্যম কালিয়াইশ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শোভনদণ্ডী এলাকার মৃত বিশ্বেশ্বর বিশ্বাস ও বীণাপাণি বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাস পেশায় একজন রিকশাচালক। দিনভর রিকশা চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে কোনো রকমে চলে সংসার। এর মধ্যে টানা জলাবদ্ধতায় তাঁর একমাত্র মাটির ঘরটি ভেঙে পড়ায় পরিবারটি হয়ে পড়েছে আশ্রয়হীন।

ঘর হারানোর পর কয়েক দিন পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন অপু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে বাধ্য হয়ে নিজেদের ভিটায় ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানে এখন কোনো ঘর নেই, নেই নিরাপদ আশ্রয়ও।

এলাকার বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, বর্তমানে বাড়ির উঠানে প্লাস্টিক বিছিয়ে কোনোমতে রাত কাটাচ্ছেন অপু বিশ্বাস। রিকশা চালিয়ে সংসার চালানো অপুর পক্ষে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব।

মানবিক সংগঠক শফিকুল আলম বশর বলেন, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য অপুর বৃদ্ধ মাকে ঘিরে। ছেলের অসহায়ত্ব দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "বাবা, রাতে ঘুমানোর জায়গা নেই। আমার ছেলেকে একটা ঘর করে দে।" তিনি সরকার, বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে অপুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অপু বিশ্বাস জানান, জলাবদ্ধতায় ঘরটি ভেঙে যাওয়ার পর তিনি পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরোবরে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে এখনো কোনো সহায়তা পাননি। স্থানীয় কোনো সংস্থা বা ব্যক্তিও তাঁর পরিবারের পাশে এগিয়ে আসেননি বলে জানান তিনি।

প্রতিদিন রিকশা নিয়ে জীবিকার সন্ধানে বের হন অপু। মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিলেও দিন শেষে নিজের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারছেন না তিনি। যে ঘরে ফিরে পরিবারের সঙ্গে রাত কাটানোর কথা, সেই ঘরটিই আজ তাঁর নেই।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অপুর প্রয়োজন বড় কোনো প্রাসাদ নয়; প্রয়োজন একটি ছোট ঘর, যেখানে বৃদ্ধ মা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পাবেন। সারা দিন রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে ফেরা অপুও যেন বলতে পারেন, এটাই আমার ঘর, এটাই আমার ঠিকানা।




বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে আওয়ামী দোসর! সাংবাদিকদের মঞ্চ দখল করে ছবি তুলছেন যুবলীগ নেতা!

বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে আওয়ামী দোসর! সাংবাদিকদের মঞ্চ দখল করে ছবি তুলছেন যুবলীগ নেতা!
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে আওয়ামী দোসরের অংশগ্রহণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহারের ঘরের চাবি নিয়েছেন আওয়ামী লীগকর্মী এবং সাংবাদিকদের মঞ্চ দখল করে ছবি তুলছেন যুবলীগ নেতা।

খোদ সমাবেশ চলাকালেই এটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে মোহাম্মদ হারুন নামে এক আওয়ামী লীগকর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহারের ঘরের চাবি নিতে দেখা গেছে। খানখানাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ডোংরা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে আওয়ামী লীগকর্মী মোহাম্মদ হারুন জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহারের ঘরের চাবি গ্রহণ করেন। তা ছাড়া তাঁর বাড়িটি বিধ্বস্ত না হলেও তাঁকে উপহারের ঘর দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা জড়িত বলে জানিয়েছেন ক্ষোভ প্রকাশকারী নেতাকর্মীরা। তাঁরাই এই তালিকা করেছেন বলে জানা গেছে।

অপরদিকে যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আমিনকে দেখা গেছে সমাবেশ মঞ্চের সামনে। টিভি সাংবাদিকদের জন্য নির্মিত স্টেজে উঠে ছবি তুলতে দেখা গেছে তাঁকে। কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো ছবি তোলার স্টেজেরই চেয়ারে বসেছেন কালীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম। এ সময় চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন সমাবেশে আগতরা।

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাঁকে একাধিকবার নেমে যেতে বললেও তিনি তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, কালীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন একজন যুবলীগ নেতা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি। ৫ আগস্টের পর থেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সর্বত্র বিচরণ করছেন এই আমিন। এ নিয়ে পত্রপত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি হলেও প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টনক নড়েনি।

এদিকে সমাবেশমঞ্চের কার্ড বিতরণ নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, অনেক ত্যাগী নেতাকে মঞ্চে যাওয়ার কার্ড দেওয়া হয়নি। বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাকে। প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে আসার আগে প্রচুর সময় ছিল। চাইলে এক-দুই মিনিট করে অনেক নেতা বক্তব্য দিতে পারতেন। কিন্তু ২-৩ জন সারাক্ষণ বক্তব্য দিয়ে মাইক ধরে রেখেছেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বহু নেতাকর্মীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, বহু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে এখানে কার্ড দেওয়া হয়েছে। এক আওয়ামী লীগকর্মী ও ডাকাত-সন্ত্রাসীকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ঘরের চাবি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে ত্যাগী নেতাকর্মীরা ছিলেন উপেক্ষিত।

বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বিতরণের এই তালিকা একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তালিকায় কীভাবে আওয়ামী লীগের দোসরের নাম এল, তা আমার জানা নেই।




জনগণের স্বার্থে জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাত নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের স্বার্থে জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাত নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে জনগণের স্বার্থে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিগত স্বৈরাচার আমলে এ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। ইতোমধ্যে সরকার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।

আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি যানবাহনের প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।

জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে গুটিকয়েক মানুষ এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। কারও কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি ও নিরাপত্তার সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা চান, তাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে যেতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালও সঠিকভাবে আনা সম্ভব হবে। শিল্পকারখানা সচল রাখতে হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনোয়ারায় চীনকে একটি বড় জায়গা দেওয়া হয়েছে। চীন সফরে দেশটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করা হবে। এসব শিল্পকারখানায় চট্টগ্রামের বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর ফলে একদিকে বেকারত্বের সমস্যা কমবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু ধান, পাট, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারীরাই কৃষক কার্ড পাবেন না; বাঁশখালীর লবণচাষিরাও এ কার্ডের আওতায় আসবেন।

লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আলোচনা করে লবণের এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে লবণচাষিরা স্বাবলম্বী ও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হতে পারেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যে নির্ধারিত মূল্য সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এতে লবণচাষিদের আগের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সমাবেশে বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে সারা দেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে বাঁশখালী এলাকায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।