ফটিকছড়ির ৬০০ শিক্ষার্থীর নতুন সঙ্গী একটি করে গাছ
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

ফটিকছড়ির ৬০০ শিক্ষার্থীর নতুন সঙ্গী একটি করে গাছ

ফটিকছড়ির ৬০০ শিক্ষার্থীর নতুন সঙ্গী একটি করে গাছ
ছবি সংগৃহীত।

শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, গাছের যত্ন নেওয়ার মধ্য দিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণের পাঠও পাবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির তৌহিদুল আনোয়ার হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ৬০০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে একটি করে ফলদ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীসহ বিতরণ করা হয়েছে মোট ৬৫০টি চারা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) চট্টগ্রামের খুলশী কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণে আগ্রহ তৈরি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বিতরণ করা চারার মধ্যে আম, জাম, কাঁঠাল, মাল্টা, পেয়ারা ও ড্রাগন ফলের গাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির ভেষজ ও ঔষধি গাছ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাটহাজারীর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আতিকুর রহমান। বক্তব্যে তিনি বলেন, “গাছপালা আমাদের শুধু খাদ্য ও পুষ্টি জোগায় না, ছায়া ও অক্সিজেন দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, যার প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করতে পারে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এমন একটি চমৎকার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।”

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুজাউদ্দিন জাফর। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারের যুগ্ম সচিব মোক্তার হোসেন টিটু ও বাংলাদেশ বেতারের চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি মো. সাজ্জাদ হোসেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক এম সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাহুল দাশ মিথুন, ইউপি সদস্য রমজান আলী ও মো. শাহজাহানসহ অনেকে।




বিরক্তি থেকে চড়, প্রাণ গেল ৩ বছরের হালিমার: আদালতে আসমার স্বীকারোক্তি

বিরক্তি থেকে চড়, প্রাণ গেল ৩ বছরের হালিমার: আদালতে আসমার স্বীকারোক্তি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে তিন বছরের শিশু হালিমা আক্তার হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত আসমা। শিশুটির নিয়মিত যাতায়াত ও খেলাধুলার সময় ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুরের ঘটনায় বিরক্ত হয়ে তাকে জোরে চড় মারেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চড়ের পর শিশুটি মাটিতে পড়ে অচেতন হয়ে যায় এবং পরে মারা যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ।

পুলিশ জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসমা উল্লেখ করেন, শিশু হালিমা প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে যাতায়াত করত। সেখানে খেলাধুলার সময় কাপ-পিরিচ ভাঙচুর করত শিশুটি। এর আগে একবার তাকে ইটের গুঁড়াও ছুড়ে মেরেছিল। এসব ঘটনায় বিরক্ত হয়ে ঘটনার দিন হালিমাকে জোরে চড় মারেন তিনি। এতে শিশুটি মাটিতে পড়ে অচেতন হয়ে যায়। পরে তার মাথায় পানি দেওয়া হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির মৃত্যুর পর ভয়ে মরদেহটি নিজ ঘরের আলনার এক কোণে লুকিয়ে রাখেন আসমা। রাতের আঁধারে মরদেহটি তাঁদের বাড়ির সামনে রেখে আসার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। তবে এর আগেই পুলিশ ওই বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে ভূজপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে একই পরিবারের তিন সদস্য আওয়াল, তাঁর মেয়ে আসমা ও ছেলে রবিউলকে প্রথমে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আসমা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তাঁর জবানবন্দির পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হত্যার পুরো ঘটনা সম্পর্কে প্রধান অভিযুক্ত আসমা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ কারণে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি।

নিহত হালিমা আক্তার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিচিন্তা হিন্দুপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীনের মেয়ে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।

গত ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির আশপাশ থেকে নিখোঁজ হয় হালিমা। পরিবারের সদস্যরা দিনভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে রাত ৯টার দিকে একই এলাকার প্রতিবেশী আওয়ালের বাড়ি থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে মামলার তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অন্য অভিযুক্তদের অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।




ফটিকছড়িতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

ফটিকছড়িতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তরে নিখোঁজ হওয়ার ১৩ ঘণ্টা পর হালিমা আক্তার(৩) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা এলাকার প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের ঘরের আলনার নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাড়ির গৃহকর্তা, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নিহত হালিমা আক্তার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিচিন্তা এলাকার নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তার দম্পতির মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে হালিমা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকা ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে মসজিদের মাইকে শিশুটির নিখোঁজের খবর প্রচার করা হয়। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে শিশুটির পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। পরে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের ঘরের একটি আলনার নিচ থেকে হালিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবদুল আউয়াল, তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম ও ছেলে রবিউলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

নিহত শিশুর মা রাশেদা আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েকে মেরে তাদের ঘরের আলনার নিচে লুকিয়ে রেখেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। আমার মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। তার পুরো শরীর কালো হয়ে গেছে।’

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে প্রতিবেশীর ঘরের আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই বাড়ির গৃহকর্তাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওসি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ইনসাফ বিক্রিকারীরা ফ্যামিলি কার্ডের নামে অপকর্মে জড়িত- এমপি সরোয়ার আলমগীর

ইনসাফ বিক্রিকারীরা ফ্যামিলি কার্ডের নামে অপকর্মে জড়িত- এমপি সরোয়ার আলমগীর
ছবি সংগৃহীত।

ফ্যামিলি কার্ডের নামে ইনসাফ বিক্রিকারীরা নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে বিতর্কিত করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। এ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে প্রতারক চক্র কাউকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মিলনায়তনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি-২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ফ্যামিলি কার্ড। উন্নত বিশ্বের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জন্মের পর থেকেই নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়। এর মাধ্যমে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সেই মডেল বাংলাদেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজীব আচার্য্য ও সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা রানা দাশ গুপ্ত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর হোসাইন মুহাম্মদ এমরান। এসময় বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মনসুর চৌধুরী, যুবদলের সেক্রেটারি মোজাহারুল ইকবাল লাভলু উপস্থিত ছিলেন।