বান্দরবানে ভুয়া জোতে আব্দুল্লাহ আল আরমানের কাঠ পাচার
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

বান্দরবানে ভুয়া জোতে আব্দুল্লাহ আল আরমানের কাঠ পাচার

বান্দরবানে ভুয়া জোতে আব্দুল্লাহ আল আরমানের কাঠ পাচার
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে ভুয়া জোতে ট্রাকের ট্রাক অবৈধ কাঠ পাচার করছে কথিত কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল আরমান। আওয়ামী সরকারের দোসর এই কাঠ ব্যবসায়ী শুধু সড়কপথে নয় নদীপথেও কাঠ পাচার করছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী নদীপথে পাচারের চেষ্টাকালে তার অবৈধ একটি কাঠের চালান আটক করেছে। আটক কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
১০ আগস্ট বান্দরবান সদর জোনের নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে নদীপথে পরিবহন করা একটি কাঠের চালান সন্দেহজনক মনে হলে উজানী পাড়া কাঠের ফিল্ডে কাঠ উত্তোলনের সময় তা আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল আরমান কাগজপত্রের আড়ালে আনুমানিক ৪০ ঘনফুট কাঠ নদীপথে পরিবহনের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নজরে আসার পর বান্দরবান সদর জোনের সদস্যরা চালানটি আটক করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চালানের কাগজপত্র, কাঠের ধরন, পরিমাণ ও বৈধতা যাচাই করেন। যাচাই ও পরিমাপ শেষে চালানটিতে ৪০ ঘনফুট অবৈধ কাঠ শনাক্ত করা হয়। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, আটক কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এদিকে জেলা সদরের উজানী পাড়া ও ক্যাচংঘাটা স-মিলে আব্দুল্লাহ আল আরমানের বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ এখনো মজুত আছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে আব্দুল্লাহ আল আরমান বান্দরবান বন বিভাগ ও পাল্পউড বন বিভাগ থেকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বেশ কয়েকটি ভুয়া জোত ইস্যু করিয়ে নিয়েছে। আর এসব ভুয়া জোতের আড়ালে সে সমান তালে কাঠ পাচার করছে। অভিযোগ রয়েছে জোতের আড়ালে আব্দুল্লাহ আল আরমান জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বনাঞ্চলের গাছ কেটে পাচার করছে।
এই বিষয়ে আরমান দৈনিক সাঙ্গুকে বলেন আমি কাঠ পাচারে জড়িত নই। বরঞ্চ বনবিভাগে জোতের নামে জুলুম করছে। তারা জোত করতে প্রতি সিএফটি কাঠ থেকে ৫০ টাকা আদায় করছে। জোত করতে বনবিভাগসহ আইন শৃঙ্গলা বাহিনী সবাইকে টাকা দিতে হয়। এই বিষয়য়ে আপনার লিখেন আমরা সহযোগিতা করবো।

 




ডেঙ্গু সচেতনতায় পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু সচেতনতায় পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং ও জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মানুষ বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে জোরদার করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি এবং জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

সভায় সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।




অসুস্থতার কথা বললেন অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, চিকিৎসক বললেন ঠিক আছেন

অসুস্থতার কথা বললেন অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, চিকিৎসক বললেন ঠিক আছেন
ছবি সংগৃহীত।


চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অসুস্থতা অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। তবে, তার ব্লাড প্রেসার (রক্তচাপ) ও পালস (নাড়ির স্পন্দন) স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন।


সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২-এ অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন ভবনটিতে অবস্থান করছেন তিনি। তার সঙ্গে আরও ১১ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, স্যারের পালস ও ব্লাড প্রেসার ঠিক আছে। তিনি আমাকে ব্যথার কথা বলেননি। তিনি শুধু তার ব্লাড প্রেসার ও পালস কেমন আছে, তা দেখতে বলেছেন। তার ব্লাড প্রেসার ছিল ১২০/৮০।
চিকিৎসক আরও বলেন, উপাচার্য নিয়মিত কোনো ওষুধ খান না। মাঝে মাঝে রক্তচাপের ওষুধ খান। তাকে বলা হয়েছে, বর্তমানে রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। বেড়ে গেলে তখন ওষুধ খেতে হবে। উপাচার্য শুধু তাকে বলেছেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন।

এর আগে, উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে এবং শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করছেন। আগের রাতে ঘুমাতেও পারেননি তিনি। ভবনের ভেতরে থাকা অন্যদেরও নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে জানান উপাচার্য।

জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। খবর পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ও তার সহযোগীদের ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা ভবন না ছাড়ায় শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন ভবনে অবস্থানের কারণে সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধই থাকবেন। তাকে বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হলেও তিনি স্বেচ্ছায় থেকে গেছেন। তবে, আমরা তাদের সকালের খাবার পৌঁছে দিয়েছি।

এদিকে চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বুয়েট ও রুয়েটের শিক্ষার্থীরাও যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর তার ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে চুয়েটে অচলাবস্থা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছেন।




নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার
ছবি সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ইউ আর আ টেরোরিস্ট’ এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলে চিৎকার করছিলেন।

এছাড়া, বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে সঙ্গে থাকা সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যায় ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, ড. ইউনূস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সেখানে বিমানবন্দরে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়াই তার বিরুদ্ধে হেনস্তার চেষ্টার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ড. ইউনূসের সরকারের কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতে পারে। তিনি নিজেও দেশে বসে সেই সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এ ধরনের হেনস্তা গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর (প্রতিমন্ত্রী) ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করা একজন অভিনেত্রীও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

এসব ঘটনাকে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস হিসেবে দেখছে বলেও জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, ওই অভিনেত্রীর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের যে মর্যাদা (ভিভিআইপি) পাওয়ার কথা, যুক্তরাষ্ট্রে তার নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।

তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।