ইনসাফ বিক্রিকারীরা ফ্যামিলি কার্ডের নামে অপকর্মে জড়িত- এমপি সরোয়ার আলমগীর
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন

ইনসাফ বিক্রিকারীরা ফ্যামিলি কার্ডের নামে অপকর্মে জড়িত- এমপি সরোয়ার আলমগীর

ইনসাফ বিক্রিকারীরা ফ্যামিলি কার্ডের নামে অপকর্মে জড়িত- এমপি সরোয়ার আলমগীর
ছবি সংগৃহীত।

ফ্যামিলি কার্ডের নামে ইনসাফ বিক্রিকারীরা নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে বিতর্কিত করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। এ কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে প্রতারক চক্র কাউকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মিলনায়তনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি-২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ফ্যামিলি কার্ড। উন্নত বিশ্বের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জন্মের পর থেকেই নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়। এর মাধ্যমে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সেই মডেল বাংলাদেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজীব আচার্য্য ও সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা রানা দাশ গুপ্ত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর হোসাইন মুহাম্মদ এমরান। এসময় বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মনসুর চৌধুরী, যুবদলের সেক্রেটারি মোজাহারুল ইকবাল লাভলু উপস্থিত ছিলেন।




ফটিকছড়িতে ছিঁচকে চুরির অভিযোগে চারজনকে পিটিয়ে পুলিশে দিল জনতা

ফটিকছড়িতে ছিঁচকে চুরির অভিযোগে চারজনকে পিটিয়ে পুলিশে দিল জনতা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মুরগিসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির অভিযোগে চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার পাইন্দং গ্রামের এমকে ইটভাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন সুন্দরপুরের আহম্মদ রশিদের ছেলে আকবর আলী (৩৩), উত্তর পাইন্দংয়ের মো. আলমগীরের ছেলে মো. মোরশেদ (৩০), একই গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে মো. সাইমন (২৪) এবং হাইদচকিয়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রায়হান (৩৩)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরে ইটভাটা সংলগ্ন একটি বাড়ির আশপাশে ওই চারজনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। একই সময়ে স্থানীয় একটি পরিবার থেকে কয়েকটি মুরগি চুরি হয়। তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে চারজনকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর করে এবং রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।

পুলিশ আহত অবস্থায় চারজনকে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাসলিমা নাসরিন বলেন, “চারজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আঘাত গুরুতর নয়।”

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন, “চুরির ঘটনায় এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ। তাঁদের বিরুদ্ধে এর আগেও চুরির অভিযোগ রয়েছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, “ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে চুরি, গরু, হাঁস-মুরগি, টিউবওয়েলের নল ও মোটর চুরির ঘটনা এলাকায় সম্প্রতি বেড়েছে।”

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, “ছিঁচকে চুরির অভিযোগে স্থানীয় জনতা চারজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে তাঁদের থানায় এনে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।”




উত্তর ফটিকছড়িতে ইসলামের ছায়াতলে নারী-শিশুসহ চাকমা পরিবার

উত্তর ফটিকছড়িতে ইসলামের ছায়াতলে নারী-শিশুসহ চাকমা পরিবার
ছবি সংগৃহীত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের লক্ষ্মীছড়ি জোনের বার্মাছড়ি এলাকার নারী ও শিশুসহ চার জন চাকমা ধর্মাবলম্বী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) উত্তর ফটিকছড়ির ভূজপুর জামিয়া আবু বকর সিদ্দিক (রা.) আল ইসলামিয়ার জামে মসজিদে দাঈ ও সমাজসেবক আল্লামা শেখ হুসাইন মুহাম্মদ শাহজাহান ইসলামাবাদীর হাতে কালেমা পাঠের মাধ্যমে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন।

ইসলাম গ্রহণের পর তাঁদের নতুন নাম রাখা হয়—শিমুল কান্তি চাকমার নাম মোহাম্মদ ইউসুফ, জীবন চাকমার নাম মোহাম্মদ, মিনা চাকমার নাম আয়েশা এবং শিশু সুদত্ত চাকমার নাম আবদুল্লাহ।

ইসলাম গ্রহণকারী শিমুল কান্তি চাকমা ওরফে মোহাম্মদ ইউসুফের পিতা ধনঞ্জয় চাকমা এবং মাতা ভানুপতি চাকমা। মিনা চাকমা ওরফে আয়েশা তাঁর স্ত্রী। তাঁর পিতার নাম রবি শান্তি এবং মাতার নাম গুরিমালা চাকমা। তাঁদের বাড়ি বার্মাছড়ি এলাকায়। শিশু সুদত্ত চাকমা ওরফে আবদুল্লাহর পিতা শিমুল কান্তি চাকমা ওরফে মোহাম্মদ ইউসুফ।

অপর ইসলাম গ্রহণকারী জীবন চাকমা ওরফে মোহাম্মদের পিতা বরত চাকমা এবং মাতা ছকি চাকমা।

তাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রামের লক্ষ্মীছড়ি জোনের বার্মাছড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আইয়ুব হাসান ও রিপনের উদ্যোগে এবং সহযোগিতায় তাঁরা ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে জানার পর ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা জাহেদুল্লাহ বিন হাজি ইউনুস, মুফতি মিজানুর রহমান ইসলামাবাদী, মাওলানা এম. নিজাম উদ্দিন, মাওলানা আইয়ুব, মাওলানা হাবিবুল্লাহ দিদু, মাওলানা ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মাওলানা আজগর সালেহী, মাওলানা নুরুল আবছার ও কারি নাসির উদ্দীনসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে ইসলাম গ্রহণকারীদের নতুন জীবনের জন্য দোয়া করা হয়।




হালদা নদীর সংযুক্ত খালে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড

হালদা নদীর সংযুক্ত খালে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারীর ফতেয়াবাদের ছড়ারকূল এলাকায় হালদা নদীর সংযুক্ত খালে কারখানার দূষিত পানি সরাসরি নির্গমন করে পরিবেশ দূষিত করার অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। সোমবার(৫অক্টোবর) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এ জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুবিন।এসময় তার নেতৃত্বে আল রাজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: আল আমিন হোসেন।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সুত্রে জানা যায়, মেসার্স গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজ পরিবেশের ছাড়পত্র ব্যতিরেকে কেমিক্যাল গুদামজাতকরণ এবং কেমিক্যালযুক্ত পানি সরাসরি ড্রেনের মাধ্যমে ছড়ারকূল খালে নির্গমণ করে হালদা নদীর সংযুক্ত খালে কারখানার দূষিত পানির কারনে পরিবেশ দূষিত করার অভিযোগের সত্যতা পায়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এক লক্ষ জরিমানা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের প্রসিকিউশন টিম এবং হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।

হালদা নদীর পরিবেশ সুরক্ষায় নদীর সংযুক্ত খাল-ছড়ায় কেমিক্যাল, অপরিশোধিত বর্জ্য কিংবা যেকোনো দূষণকারী পদার্থ নির্গমনের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতিসাধন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে ইউএনও আবদুল্লাহ আল মুবিন জানান।