প্রথম ধাপ: রাত ৮টার পর একাদশে ভর্তির ফল প্রকাশ
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

প্রথম ধাপ: রাত ৮টার পর একাদশে ভর্তির ফল প্রকাশ

প্রথম ধাপ: রাত ৮টার পর একাদশে ভর্তির ফল প্রকাশ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার পর প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল দেখতে পারবেন।

দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, আজ রাত ৮টার পর একাদশ ভর্তির ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে ফল দেখতে পারবেন।

ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

এর আগে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয় ২ সেপ্টেম্বর। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। অনলাইন আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।

ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদনকারীরা তাদের পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের বছর এবং তার আগের দুই বছরের শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশি বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদের সমমান নির্ধারণের পর আবেদনের সুযোগ পাবেন।

এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা— যেকোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগ ছাড়াও পরস্পরের বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ—মোট ২ শতাংশ আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত থাকবে। কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধাতালিকা থেকেই ওই আসন পূরণ করা হবে। এই কোটা ব্যবস্থা শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট নম্বরও সমান হলে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞানে পাওয়া নম্বর বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমতা থাকলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান নম্বর হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করা হবে।

স্কুল অ্যান্ড কলেজ বা নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভর্তির যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার পাবেন।

ভর্তির ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মহানগরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার, জেলা সদরে ২ হাজার এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। অন্যান্য মহানগরে বাংলা মাধ্যমে ৫ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যমে ৬ হাজার টাকা, জেলা সদরে যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় বাংলা মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ ও ইংরেজি মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা নেওয়া যাবে।

শিক্ষার্থীর প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্র (টিসি) ইস্যু বা শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তি বাতিল করা হতে পারে।




এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী

এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী
ছবি সংগৃহীত।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একইসঙ্গে নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে ফল পরিবর্তন হয়েছে আরও শিক্ষার্থীর।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে আবেদনকারীর দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

এর আগে, গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর আজ ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। এ কারণে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ, মোট আবেদন জমা পড়ে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।

আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হতো। নতুন করে পুরো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

এদিকে, বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

এছাড়া, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ১৯ বছরের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে কম পাসের হার। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর আজ সেই ফল প্রকাশ করা হলো।
 




চট্টগ্রামে কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তি-বাণিজ্য: দিশেহারা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রামে কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তি-বাণিজ্য: দিশেহারা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা
ছবি সংগৃহীত।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিংয়ের জোর তৎপরতা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নগরীর চকবাজার, অলংকার, হালিশহর, বহদ্দারহাট, আন্দরকিল্লা, জামালখান ও জিইসি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলো মেতে উঠেছে গলাকাটা ভর্তি-বাণিজ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় 'ক' ইউনিট, 'খ' ইউনিট কিংবা মেডিকেল-প্রকৌশল প্রস্তুতি কোর্সের নামে কোর্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার থেকে শুরু করে ২৩ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হয় এককালীন। কম-বেশির কোনো অভিযোগ চলে না তাদের কাছে। এর বাইরে লেকচার শিট, মডেল টেস্ট ও বিশেষ ক্লাসের বাহানায় নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। অনেক কোচিং সেন্টার আগাম ভর্তিতে ছাড়ের লোভনীয় প্রস্তাব দিলেও কার্যত মূল টাকার চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ পকেটে পুরছে।

চট্টগ্রামে একাডেমিক, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বেশ কিছু কোচিং সেন্টার রয়েছে—উদ্ভাস-উন্মেষ-উত্তরণ, রেটিনা ও মেডিকো, ফোকাস ও আইকন প্লাস, প্যারাগন ও অমেকা। একাডেমিক ও স্কুল/কলেজ কোচিংয়ের মধ্যে রয়েছে সায়েন্স ফিলিপস, মডুলাস, মুনাস একাডেমি। এছাড়া বেস্ট কেয়ার ক্যাডেট কোচিং, সৌদিয়া ক্যাডেট কোচিং এবং ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য রয়েছে সাইফুর'স, মেন্টরস, স্পিকার্স কাউন্সিল ও ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ নাম না জানা আরও শতাধিক কোচিং সেন্টার। তবে এই প্রতিযোগিতায় উদ্ভাস-উন্মেষ প্রথম স্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর অভিভাবকেরা বাধ্য হয়েই জমি বা গবাদিপশু বিক্রি কিংবা ঋণ করে কোচিং সেন্টারের দাবি মেটাচ্ছেন। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পড়াশোনা এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার পর কোচিং না করালে সন্তান পিছিয়ে পড়বে—এই ভীতি তৈরি করে আমাদের থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।"

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা তদারকি না থাকায় কোচিং ব্যবসার মালিকেরা ইচ্ছামতো ফি হাঁকাচ্ছেন। এছাড়া অনেক কোচিং সেন্টারে চটকদার বিজ্ঞাপন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামিদামি শিক্ষার্থীদের দিয়ে ক্লাস নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে পাওয়া যাচ্ছে মানহীন পাঠদান।

স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবক ফোরাম দ্রুত চট্টগ্রামের এসব অনিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নজরদারি, নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ এবং জিম্মিদশা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের দিকে যেতে চায় সরকার: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব

শিক্ষার মান যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের দিকে যেতে চায় সরকার: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব
ছবি সংগৃহীত।

দেশের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত শিক্ষণফল অর্জন করছে কি না, তা শুধু দেশীয় মূল্যায়নের মাধ্যমে নয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও যাচাই করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়নের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার।

তিনি বলেন, শুধু পড়তে ও লিখতে পারলেই একজন মানুষকে শিক্ষিত বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ, অন্যের কথা বোঝা এবং নিজের কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারার সক্ষমতাই শিক্ষার প্রকৃত মানদণ্ড।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মিলনায়তনে আলোচনা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা ২০২৬’ দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জেসমিন নাহার বলেন, শিক্ষা মানে শুধু একটি শব্দ লিখতে পারা নয়। একজন মানুষ যদি ছোট ছোট বাক্য তৈরি করতে পারেন, নিজের কথা অন্যকে বোঝাতে পারেন এবং অন্যের কথা বুঝতে পারেন, তাহলেই বলা যায় তিনি প্রয়োজনীয় শিক্ষা অর্জন করেছেন। একজন শ্রমিক, উদ্যোক্তা কিংবা কারিগরি পেশায় থাকা ব্যক্তিকেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পড়তে ও বুঝতে পারতে হবে। দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বুঝে কাজ করতে পারার সক্ষমতাও শিক্ষার অংশ।

তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন চলছে। তবে এমন একটি পর্যায়ে যেতে হবে, যখন দেশের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে ঘোষণা করতে হবে না যে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষিত হয়েছে; আন্তর্জাতিক মূল্যায়নই বলে দেবে সে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করেছে কি না।

সচিব বলেন, একটি শ্রেণির শিশুর যে শিক্ষণফল অর্জন করার কথা, সে যদি তা নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারে, পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে পারে এবং প্রয়োজনীয় বিষয় বুঝতে পারে, তখনই শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হয়েছে বলে ধরা যায়। সেই লক্ষ্যেই কারিকুলাম তৈরি, গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড লিটারেসি’কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব মূল্যায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়নের দিকেও যেতে চায় সরকার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার মান যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, সেভাবেই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতাও মূল্যায়িত হবে।

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার বিষয়ে জেসমিন নাহার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে প্রতিবন্ধীবান্ধব ও সহনশীল করতে হবে। একটি শিশু যেন হুইলচেয়ারে করে স্কুলে পৌঁছাতে পারে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা পেতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যারা হাঁটতে পারে না বা অন্য কোনো কারণে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাইসাইকেল, হুইলচেয়ারসহ সহায়ক ব্যবস্থা দেওয়া হচ্ছে।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঝরে পড়া’ শব্দটি রাখতে চাই না। যে শিশু স্কুলে আসতে পারছে না, তাকেও শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। কোনো শিশু যদি ক্ষুধার কারণে স্কুলে আসতে না পারে, তাহলে তার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের চালু করা মিল কার্যক্রম প্রায় সর্বত্র হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা চালু হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ ও প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হবে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা। এমন একটি পর্যায়ে যেতে হবে, যাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক দক্ষতা অর্জন করে সারা বিশ্বে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মোখলেছুর রহমান এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত।

এসময় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা ২০২৬’ দেওয়া হয়।