দুই দশক ডিউস বকেয়া, সমিতির চাপে পরিশোধ
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

দুই দশক ডিউস বকেয়া, সমিতির চাপে পরিশোধ

দুই দশক ডিউস বকেয়া, সমিতির চাপে পরিশোধ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান কার্যকরী পরিষদের কঠোর পদক্ষেপ ও ধারাবাহিক তাগিদের মুখে দীর্ঘ ২১ বছর পর বারের যাবতীয় বকেয়া ফি (ডিউস) পরিশোধ করেছেন এক বিজ্ঞ সদস্য। বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ‘রি-অ্যাডমিশন’ (পুনঃভর্তি) কার্যকর হয়েছে। তবে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, অতীতের বিগত ২১ বছরের কোনো সুযোগ-সুবিধা তিনি পাবেন না; নতুন সদস্য হিসেবে এখন থেকে যে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা কেবল সেগুলিই তিনি  করতে পারবেন।

জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ২০০৫ সালের ২ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর তিনি সমিতির কোনো বার্ষিক বা নিয়মিত ফি পরিশোধ করেননি। অথচ এই দীর্ঘ সময় তিনি ৩ নম্বর মিলনায়তনে নিয়মিত বসে ওকালতি পেশা পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি ২৬ হাজার ৭৪০ টাকা বকেয়া ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে সমিতির সদস্যপদ নবায়ন বা রি-অ্যাডমিশন সম্পন্ন করেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান কার্যকরী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বারের শৃঙ্খলা ফেরাতে নানামুখী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, যারা টানা তিন বছর সমিতির বার্ষিক ফি পরিশোধ করেননি, তাদের ‘লিন (LIN) নম্বর’ স্থগিত বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাদের ১ থেকে ২ বছরের বকেয়া রয়েছে, তাদেরকেও দ্রুত বকেয়া পরিশোধের জন্য দফায় দফায় নোটিশ ও তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।কার্যকরী পরিষদের এমন কঠোর অবস্থান ও লিন নম্বর বন্ধের তৎপরতার কারণে যেসব আইনজীবী বকেয়া রেখে পেশা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তারা আইন পেশা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। এর ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রাখা অনেক আইনজীবীই এখন সমিতির পাওনা পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মইনুদ্দিন জানান, “বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, আমাদের একজন বিজ্ঞ সদস্য দীর্ঘ ২১ বছর পর বারের বকেয়া ডিউস পরিশোধ করেছেন। ২০০৫ সালে সদস্যপদ পাওয়ার পর তিনি কখনোই ডিউস দেননি, অথচ ৩ নং মিলনায়তনে নিয়মিত ওকালতি করেছেন। আমাদের বিভিন্ন নোটিশ, লিন নম্বর বন্ধসহ নানা কার্যকর পদক্ষেপের কারণেই তিনি এই বকেয়া পরিশোধে বাধ্য হয়েছেন। তবে অনেকেই সদস্যপদ পাওয়ার পর নিয়মিত পেশা চালালেও বারের পাওনা পরিশোধ করেন না, তাদের বিষয়েও কঠোর নীতি বজায় থাকবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন লাভলু বলেন, “বর্তমান কার্যকরী পরিষদ সমিতির আর্থিক শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারে সম্পূর্ণ আপসহীন। বছরের পর বছর সমিতির সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন অথচ বারের নিয়মিত ফি দেবেন না, এই সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না। যারা তিন বছর ফি দেননি তাদের লিন নম্বর ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে এবং এক-দুই বছরের বকেয়া থাকা সদস্যদের দ্রুত পরিশোধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই এখন দীর্ঘদিনের বকেয়া আদায় সম্ভব হচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, নিয়মানুযায়ী এই সদস্যের নতুন করে ‘রি-অ্যাডমিশন’ হয়েছে, ফলে অতীতের কোনো সুযোগ-সুবিধা তিনি পাবেন না; শুধু বর্তমান নতুন সদস্য হিসেবে নিয়মমাফিক সুবিধা পাবেন। সমিতিকে শক্তিশালী ও স্বচ্ছ রাখতে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”




চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইজারায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) চুক্তির লেনদেনসংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড এনসিটি পরিচালনা করে আসছিল। গত বছরের ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এর পরদিন বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

এনসিটিতে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৯ সালে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় আন্তর্জাতিক বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের বিষয়ে ২০২৩ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দেয়।
পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগটি পুনরুজ্জীবিত করে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে অপারেটর হিসেবে বেছে নেয়। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা এবং চলতি বছরের শুরুতে শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে। পরে বর্তমান সরকার নতুন করে আলোচনা শুরু করে চুক্তি সম্পন্ন করে।

প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে পাঁচটি জেটি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টি এনসিটিতে। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার ৪০ শতাংশের বেশি এই টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

এদিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। এ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছে সংগঠনটি।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির ফলে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড ও কনটেইনারের ডুয়েল টাইম কমবে। এতে আমদানি-রপ্তানিকারকদের লজিস্টিকস ব্যয় কমার পাশাপাশি পোশাক, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন খাত উপকৃত হবে।
 




চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই টার্মিনাল যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরদের হাতে

চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই টার্মিনাল যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরদের হাতে
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পর এবার চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং বে পোর্ট মাল্টিপারপাস টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালকে (আরএসজিটিআই) সিসিটি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (সিপিএ) নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

সিসিটি বর্তমানে পরিচালনা করছে দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। অন্যদিকে জিসিবি পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা এবং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। একই সঙ্গে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে তারা। দাবি মানা না হলে আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে কমিটি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকার এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আরএসজিটিআইকে সিসিটি দেওয়ার প্রক্রিয়া

গত ২৮ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে আরএসজিটিআইয়ের নিয়োগপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইবিএকে অনুরোধ করা হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)’ এবং ‘বে পোর্ট-মাল্টিপারপাস টার্মিনাল’ প্রকল্প সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের বিষয়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই) আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের ২০১৬ সালের ১৯ আগস্টের একটি পত্রের সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে ওই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আরএসজিটিআই কর্তৃক চিটাগং কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) অপারেটর হিসেবে নিয়োগের পত্রটি প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড গত ৮ এপ্রিল এবং সৌদি আরবের আরএসজিটিআই ২২ এপ্রিল আলাদাভাবে প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী এমজিএইচ গ্রুপও একটি প্রস্তাব জমা দেয়।

তবে আরএসজিটিআই সিসিটির পাশাপাশি জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) টার্মিনালও পরিচালনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সুযোগ পেলে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বন্দরের ১৬ শতাংশ কনটেইনার সিসিটিতে

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ১৬ শতাংশ পরিচালিত হয়েছে সিসিটির মাধ্যমে। এছাড়া এনসিটিতে প্রায় ৪৪ শতাংশ, জিসিবির মাধ্যমে প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) মাধ্যমে প্রায় ৪ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) ১৫ বছরের জন্য একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেওয়ার পরিকল্পনা

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটির আধুনিকায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ প্রকল্পটি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছ থেকে প্রথম নীতিগত অনুমোদন পায়।

বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক কোম্পানি লিমিটেড এনসিটি পরিচালনা করছে। টার্মিনালটিতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হয়, যা চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ।

চার টার্মিনালে চার ধরনের পরিচালনা

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল চালু রয়েছে—নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। এর মধ্যে এনসিটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাই ডক কোম্পানি লিমিটেড। সিসিটি পরিচালনা করছে দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক। জিসিবি পরিচালনা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেই।

অপরদিকে পিসিটি পরিচালনা করছে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই)। ২০২৪ সালে পাওয়া ২২ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি ইতোমধ্যে পরিচালনা করছে আরএসজিটিআই।

এটি সাধারণ প্রশাসনিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়

বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, ‌‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি, রাজস্ব, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘এনসিটি বন্দরের অন্যতম প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল। ফলে এটিকে ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার বিষয়টি কোনও সাধারণ প্রশাসনিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনার সম্ভাব্য আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কনসেশনে দিলে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তুলনামূলক মূল্যায়ন জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।’

মন্তব্য করতে রাজি নয় বন্দর কর্তৃপক্ষ

এ প্রসঙ্গে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এনসিটি কিংবা অন্য টার্মিনাল ইজারা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।




মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।

প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের অন্যতম প্রধান প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ খাতকে রপ্তানিমুখী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরও সুযোগ রয়েছে।

এজন্য খামারি, উৎপাদক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও কমাতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
পোল্ট্রি খাত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খামারে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। খামারের পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুনিয়ন্ত্রণ, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং মানসম্মত খাদ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাণিসম্পদ খাতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উন্নতমানের ফিড সরবরাহ ও ফিডের মান তদারকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য পাবেন, অন্যদিকে খামারিরাও উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে লাভবান হতে পারবেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণের সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত মাংস বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের অবকাঠামো উন্নত করা গেলে ভবিষ্যতে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ১৩টি মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা আরও কার্যকর করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মাংসের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিদেরও কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খামারিরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা, উৎপাদন উপকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হলে খামারিরা আরও কার্যকরভাবে উৎপাদন করতে পারবেন। প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মান ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা, প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।