নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সর্বোচ্চ তৎপরতা

বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের জেরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি মাদক ও অন্যান্য পণ্য পাচার ঠেকাতেও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা।
এদিকে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নিরাপত্তা হুমকি রুখতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি আগের চেয়ে বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তে এসে পড়ার পর থেকেই বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি আরাকান আর্মির গতিবিধি এবং তাদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কায় সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে নাফ নদী ও দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা স্পিডবোট এবং আধুনিক 'থার্মাল ইমেজার' প্রযুক্তির সাহায্যে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।
সূত্রমতে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি কোনো আপস করবে না। আরাকান আর্মি বা মিয়ানমারের যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের সব চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশি নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৩৫ নম্বর পিলার থেকে ৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকার ১০টি পয়েন্টে মাদক ও গবাদিপশু চোরাকারবারিরা সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে নতুন আঙ্গিকে পাচার শুরু করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। একদিকে চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে চোরাকারবারিরাও তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে বাইশফাঁড়ি, ঘুমধুম-তুমব্রু, জামছড়ি, ফুলতলী, লেবুছড়ি ও পাইনছড়ি পয়েন্টের চোরাকারবারিরা নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে।
এ বিষয়ে ৩৪ ও ১১ বিজিবি অধিনায়কদের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ না করায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।











