পাঠ্যবইয়ে নৌকা-দাঁড়িপাল্লা খুঁজতে হচ্ছে ‘বিশেষ কমিটি’
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

পাঠ্যবইয়ে নৌকা-দাঁড়িপাল্লা খুঁজতে হচ্ছে ‘বিশেষ কমিটি’

পাঠ্যবইয়ে নৌকা-দাঁড়িপাল্লা খুঁজতে হচ্ছে ‘বিশেষ কমিটি’
ছবি সংগৃহীত।

পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ ঘটনায় এনসিটিবির ১৪ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দাঁড়িপাল্লা রাখার ঘটনায় একজন ও নৌকাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ১৩ জনকে বদলি করা হয়েছে।

তবে শুধু চিহ্নিত ভুল সংশোধন করেই দায়িত্ব শেষ করতে চায় না এনসিটিবি। নতুন করে সব শ্রেণির সব পাঠ্যবই পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার মতো বিতর্কিত কোনো ছবি বা অসঙ্গতি অন্য বইয়েও রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখবে ওই বিশেষ কমিটি। দ্রুত পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করবে কমিটি।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে নৌকার ছবির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এসব ছবির ব্যবহার নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি বই সম্পাদনা, ছবি নির্বাচন ও তদারকির প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এরপরই পাঠ্যবইগুলো নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয় এনসিটিবি।

এদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের মোট ৩৯ লাখ কপি ছাপানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ কপি ছাপা হয়েছে। ভুল ধরা পড়ার পর বাকি ১৮ লাখ কপি ছাপার কাজ স্থগিত করা হয়।

এনসিটিবি জানিয়েছে, এরই মধ্যে ছাপা হওয়া বইগুলোর ভুল সংশোধনে সরকারের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। সংশ্লিষ্ট ছাপাখানাগুলো নিজস্ব খরচে ভুল থাকা পৃষ্ঠা বা ফর্মা নতুন করে ছাপাবে। এরপর বইগুলো পুনরায় বাঁধাই করে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করবে। বাকি বইগুলোর মুদ্রণকাজও সংশোধনের পর শেষ করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জাগো নিউজকে বলেন, সব বইয়ে দাঁড়িপাল্লা, নৌকার মতো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য আমরা কাজ করছি। কোনো বইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা সংশোধন করে স্কুলে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ভুল বা অসঙ্গতি থাকা সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি সংশোধন করে নতুন করে ছাপানো হবে। এরপর বই পুনরায় বাঁধাই করে মাঠপর্যায়ে পাঠাবে ছাপাখানাগুলো। ছাপাখানাগুলো নিজ খরচে এ কাজ করে দেবে। এতে সরকারের কোনো বাড়তি আর্থিক চাপ নেই।




প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা, প্লে-নার্সারি-কেজি ও বাড়তি বই নিষিদ্ধে নোটিশ

প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা, প্লে-নার্সারি-কেজি ও বাড়তি বই নিষিদ্ধে নোটিশ
ছবি সংগৃহীত।

শিশুদের প্রাক-প্রাথমিকের একাধিক স্তরের পাঠ্যক্রম, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই নিষিদ্ধের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এই নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে। তাদের কাছে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০-এর উল্লেখ করে বলা হয়, দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন, গণমুখী ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বেড়েছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়।

এতে বলা হয়, শিশুদের তিন থেকে পাঁচ বছর বয়স থেকেই প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২ এর মতো একাধিক অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ভর্তি করিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ ও বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে শৈশব বাণিজ্যিক স্বার্থের ফাঁদে পড়ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়।

নোটিশে এসব অননুমোদিত কোর্স নিষিদ্ধ করে শুধু সরকার অনুমোদিত একক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিশুদের পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করা হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষা, বাছাই পরীক্ষা (স্ক্রিনিং টেস্ট) ও মৌখিক পরীক্ষার মতো প্রক্রিয়া শিশুদের মধ্যে ভীতি, মানসিক আঘাত ও আত্মবিশ্বাসের সংকট তৈরি করতে পারে, যা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দময় হওয়া উচিত উল্লেখ করে নোটিশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ ও নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশ করে এনসিটিবির মূল পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ বই, বেসরকারি অনুশীলন বই (ওয়ার্কবুক) ও সহায়ক বই শিশুদের পড়তে বাধ্য করছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়। এতে শিশুদের ওপর পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।


নোটিশে আরও বলা হয়, দেশের শিশুদের শৈশব থেকেই অতিরিক্ত পাঠ্যক্রম, ভর্তি পরীক্ষা ও অনুমোদনহীন বইয়ের চাপে রাখা হলে তাদের মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীল বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী ও গবেষক তৈরির ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে উল্লেখ করেন, শিশুদের ওপর এ ধরনের চাপ সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার, ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার এবং ১৭ ও ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত শিক্ষা ও সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নোটিশে আগামী পাঁচদিনের মধ্যে প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২সহ অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা, এনসিটিবির পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠনের কার্যকর নির্দেশ জারির দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিশুদের সুরক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।




গাইড বইওয়ালারা সাবধান, এবার নিশ্চিত ধরা খাবেন: শিক্ষামন্ত্রী

গাইড বইওয়ালারা সাবধান, এবার নিশ্চিত ধরা খাবেন: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

নোট-গাইড বই ছাপানো ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, গাইড বইওয়ালারা (প্রকাশক) একটু সাবধানে থাকবেন। তড়িঘড়ি করে লাখ লাখ কপি গাইড বই ছাপাবেন না। এবার কিন্তু ধরা খাবেন, নিশ্চিত বলে দিচ্ছি, ধরা খাবেন।’

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু সার্টিফিকেট দিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়নি, বরং সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যেই এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, অনেকের শিক্ষাজীবন শুরু হয়, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা শেষ করতে পারেন না। তাদের লেখাপড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। আর এটাই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বেগম খালেদা জিয়া বাউবি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে শিক্ষাজীবনে অনিয়মিত শিক্ষার্থীরাও বয়সের বাধা পেরিয়ে শিখতে পারেন। শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করে গড়ে তোলার ধারাবাহিকতায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আরও যুগোপযোগী করা হবে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে কীভাবে আরও আধুনিক ও উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করতে সরকার টিভিইটি বা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করেছে। সে লক্ষ্যে সম্প্রতি আমরা ‘বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছি, যার ফলে চীনের সাথে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করে এই সেক্টরে আমরা আরো এগিয়ে যেতে পারি।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত ‘ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (আইটিভেট)’ শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ৯ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। মন্ত্রী তাদের হাতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দেন।




৩৬ দিন পর চুয়েটে ক্লাস শুরু, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

৩৬ দিন পর চুয়েটে ক্লাস শুরু, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ ৩৬ দিন স্থবির থাকার পর অবশেষে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ক্লাস শুরু হয়। পরে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে ক্লাস কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১২টি বিভাগের মধ্যে একটি ছাড়া অন্য কোনও বিভাগের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি।

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ তালবী বলেন, আজ স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়েই আমাদের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী ল্যাব হওয়ার কথা ছিল। তবে আজকের ল্যাবটি আমরা বিভাগের সঙ্গে কথা বলে স্থগিত করিয়েছি।

ওই বিভাগের প্রধান ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা বলেন, আমাদের সকাল ৯টায় ক্লাস হয়েছে। ২১, ২২ ও ২৩ ব্যাচের ক্লাস হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম ছিল। সব ব্যাচেরই ক্লাস হয়েছে। ২১ ও ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি ছিল। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী হয়তো আগামীকাল আসতে পারে।

তবে শ্রেণিকক্ষে ফিরলেও উপাচার্যকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটের সমাধান হয়নি। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, একাডেমিক কার্যক্রম চলবে, পাশাপাশি চলবে আন্দোলনও।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে ইউজিসির গঠিত ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। দুপুরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে প্রতিনিধি দলটির।

এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই প্রতিবাদে নামেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। পরদিন শুরু হয় কমপ্লিট শাটডাউন। নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা।