বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে আওয়ামী দোসর! সাংবাদিকদের মঞ্চ দখল করে ছবি তুলছেন যুবলীগ নেতা!

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশে আওয়ামী দোসরের অংশগ্রহণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহারের ঘরের চাবি নিয়েছেন আওয়ামী লীগকর্মী এবং সাংবাদিকদের মঞ্চ দখল করে ছবি তুলছেন যুবলীগ নেতা।
খোদ সমাবেশ চলাকালেই এটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে মোহাম্মদ হারুন নামে এক আওয়ামী লীগকর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহারের ঘরের চাবি নিতে দেখা গেছে। খানখানাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ডোংরা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে আওয়ামী লীগকর্মী মোহাম্মদ হারুন জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহারের ঘরের চাবি গ্রহণ করেন। তা ছাড়া তাঁর বাড়িটি বিধ্বস্ত না হলেও তাঁকে উপহারের ঘর দেওয়ার ঘটনায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা জড়িত বলে জানিয়েছেন ক্ষোভ প্রকাশকারী নেতাকর্মীরা। তাঁরাই এই তালিকা করেছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আমিনকে দেখা গেছে সমাবেশ মঞ্চের সামনে। টিভি সাংবাদিকদের জন্য নির্মিত স্টেজে উঠে ছবি তুলতে দেখা গেছে তাঁকে। কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো ছবি তোলার স্টেজেরই চেয়ারে বসেছেন কালীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম। এ সময় চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন সমাবেশে আগতরা।
ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাঁকে একাধিকবার নেমে যেতে বললেও তিনি তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে সমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, কালীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন একজন যুবলীগ নেতা ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি। ৫ আগস্টের পর থেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সর্বত্র বিচরণ করছেন এই আমিন। এ নিয়ে পত্রপত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি হলেও প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টনক নড়েনি।
এদিকে সমাবেশমঞ্চের কার্ড বিতরণ নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, অনেক ত্যাগী নেতাকে মঞ্চে যাওয়ার কার্ড দেওয়া হয়নি। বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি অনেক জ্যেষ্ঠ নেতাকে। প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে আসার আগে প্রচুর সময় ছিল। চাইলে এক-দুই মিনিট করে অনেক নেতা বক্তব্য দিতে পারতেন। কিন্তু ২-৩ জন সারাক্ষণ বক্তব্য দিয়ে মাইক ধরে রেখেছেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বহু নেতাকর্মীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, বহু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে এখানে কার্ড দেওয়া হয়েছে। এক আওয়ামী লীগকর্মী ও ডাকাত-সন্ত্রাসীকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ঘরের চাবি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে ত্যাগী নেতাকর্মীরা ছিলেন উপেক্ষিত।
বাঁশখালীর খানখানাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিকদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বিতরণের এই তালিকা একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তালিকায় কীভাবে আওয়ামী লীগের দোসরের নাম এল, তা আমার জানা নেই।








