আ.লীগ উড়ে এসে জুড়ে বসবে, তা সম্ভব নয়: রিজভী
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

আ.লীগ উড়ে এসে জুড়ে বসবে, তা সম্ভব নয়: রিজভী

আ.লীগ উড়ে এসে জুড়ে বসবে, তা সম্ভব নয়: রিজভী
ছবি সংগৃহীত।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যারা নিজের দেশের সন্তানের রক্ত পান করতে দ্বিধা করে না, তারা আবার উড়ে এসে জুড়ে বসবে আর জনগণ তা মেনে নেবে– এটা কোনও দিনই সম্ভব নয়।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘এত মানুষের রক্ত ঝরিয়ে, এত নির্যাতন চালিয়ে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন যিনি, তিনি এখন বলছেন, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু এ দেশের মানুষের চোখের সামনে এখনও ভাসছে সেই তরতাজা শিশু-কিশোর ও তরুণদের মুখ, যারা বুক পেতে বুলেট গ্রহণ করেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে মহিমান্বিত গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, সেই বিপ্লব কি মুছে ফেলা যাবে? আবু সাঈদের আত্মত্যাগ, মুগ্ধের আত্মত্যাগ, ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ– এসব কি মুছে ফেলা যাবে?’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা হঠাৎ প্যারাসুট দিয়ে নেমে আসবেন, সবাই ঢোল বাজিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানাবে– এটি কি কখনও সম্ভব? বাংলার মাটি বীরের মাটি। এই মাটি বহু বীরের জন্ম দিয়েছে। যারা নিজের দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, তারা আবার উড়ে এসে জুড়ে বসবেন, আর জনগণ তা মেনে নেবে– এটি কোনও দিনই সম্ভব নয়।’

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ৭ নভেম্বরের চেতনার মিল তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘মানুষের ভেতরে ভেতরে যে ক্ষোভ জমে উঠেছিল, তার বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখেছি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। সেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাও ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। অর্থাৎ আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের এ দেশীয় অনুচররা যতই চেষ্টা করুক, ১৮ কোটি মানুষের এই দেশকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। বাংলাদেশকে কখনও আধিপত্যবাদের থাবার মধ্যে নিয়ে আসা যাবে না।’

৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বর শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হওয়ার দিন নয়, গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হওয়ারও দিন। তবে এর তাৎপর্য শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। ৭ নভেম্বর বিদেশি প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়ন এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সূচনা করেছিল। বাংলাদেশ কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কার সঙ্গে বৈরিতা থাকবে, কার সঙ্গে চুক্তি করবে– এসব বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের নিজস্ব ব্যাপার। এটি কারও নির্দেশে, কারও অঙ্গুলিহেলনে কিংবা কারও কথায় পরিচালিত হবে না।’

দীর্ঘদিন দিবসটি পালনে বাধার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭৬ সাল থেকেই দিবসটি সরকারিভাবে পালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘ ১৭ বছর এটি সরকারিভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি। তবে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি পালন করেছে। ফলে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য ও অন্তর্নিহিত চেতনা কখনও মুছে যায়নি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের অতীত আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কতবার প্রবেশের চেষ্টা করেছে! মার খেয়েছে, ফিরে গেছে। আবার এসেছে, আবার মার খেয়েছে, আবার ফিরে গেছে। কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর এই হামলা, তাদের শরীর থেকে ঝরে পড়া রক্ত কখনও বৃথা যায়নি। সারা দেশের মানুষ এসব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে। তাদের শরীর থেকে যে রক্ত ঝরেছে, তা এ দেশের অনেক তরুণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের চেতনা সৃষ্টি করেছে।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে রিজভী বলেন, তিনি একটি দক্ষ ও চৌকস সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি চাননি সেনাবাহিনী রাজনীতিকরণ হোক। আজকের আধুনিক সেনাবাহিনী জিয়াউর রহমানের অবদান।

দলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শত আক্রমণ ও হুমকির মুখেও তারেক রহমান দেশের হাল ধরে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সমুদ্রের মাঝেও দলকে সঠিক পথে নিয়ে যাচ্ছেন। ৭ নভেম্বর আমাদের এমন একটি কম্পাস, যা বিপদের সময়ও সঠিক পথ দেখায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।




ভাগ্য পরিবর্তনে আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: শাহজাহান চৌধুরী এমপি

ভাগ্য পরিবর্তনে আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে: শাহজাহান চৌধুরী এমপি
ছবি সংগৃহীত।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাতকানিয়ায় আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলার কেরানীহাট সি ওয়ার্ল্ড রেস্টুরেন্টে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল হকের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতির প্রেক্ষাপট কোনো রাজনৈতিক বিপ্লব ছিল না। এটি ছিল একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সর্বস্তরের গণমানুষের সিসাঢালা ঐক্য।

তিনি বলেন, যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটেছিল, দুঃখজনকভাবে আজও সেই স্বপ্ন সুদূর পরাহত। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু গণমানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। ভাগ্য পরিবর্তনে আরেকটি বিপ্লবের প্রস্তুতি নিতে হবে।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাকারিয়া, বায়তুল মাল সম্পাদক নুরুল হক, শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল আনোয়ার মোস্তফা, চন্দনাইশ উপজেলা আমীর মাওলানা কুতুব উদ্দিন, উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস, সাতকানিয়া উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হক প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, জুলাই সনদে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতির চেতনা সন্নিহিত আছে। কিন্তু সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে জাতির সাথে প্রতারণা করেই যাচ্ছে। সরকার ক্রমান্বয়ে স্বৈরশাসনের পথেই হাঁটছে।




সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করছে: নাহিদ ইসলাম

সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করছে: নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, চলমান পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন অত্যন্ত ন্যায্য ও যৌক্তিক। সরকার ভুলভাবে এই আন্দোলন মোকাবিলা করার কারণে আজ দেশের পরিস্থিতি এমন অবস্থায় এসেছে। সরকার আন্দোলনে কর্ণপাত না করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তা থামানোর চেষ্টা করছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাজীপুরে জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত গায়েবানা জানাজায় হামলায় গুরুতর আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই আন্দোলন শুরু হয়েছে আরও এক-দুই সপ্তাহ আগে। আন্দোলন শুরুর এক সপ্তাহ পর মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠনের পর তিন দিনেও কোনো সভা করেনি। আজ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথম সভা করেছে। এর মাধ্যমে সরকারের অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটি কোনো শ্রমিক আন্দোলনই নয়। অর্থাৎ সরকার এখন পর্যন্ত এই আন্দোলনকে ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক দাবির আন্দোলন হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। বরং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব দিয়ে আন্দোলনকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে।

নাহিদ বলেন, এই আন্দোলনে সহিংসতা শুরু করেছে বিএনপি নিজেই। শ্রমিকদের ওপর রাষ্ট্রীয় সহিংসতা হয়েছে। সরকারদলীয় সহিংসতা ও নিপীড়নও চলমান রয়েছে। গতকাল বিএনপির লোকজনকে হকিস্টিক ও স্টাম্প হাতে রাস্তায় নামানো হয়েছে। তারা শ্রমিকদের পেটানোর জন্য রাস্তায় নেমেছেন। বিএনপিকে বা এসব লোককে হকিস্টিক হাতে মাঠে নামার দায়িত্ব কে দিয়েছে? স্পষ্টতই দলীয়ভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ ও দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক কলোনিগুলোতে গিয়ে শ্রমিকদের খোঁজা হচ্ছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অসংখ্য শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিগত আমলে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে যেভাবে শ্রমিক আন্দোলন দমন করা হতো, ঠিক একই কায়দায় এই সরকার কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতিতে শ্রমিকদের আন্দোলন দমন করছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, পোশাকশ্রমিক তৌফিককে হত্যা করা হয়েছে। তার স্মরণে গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে পুলিশ, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ন্যক্কারজনকভাবে হামলা করেছে। গুলি চালানো হয়েছে, সাউন্ড গ্রেনেড মারা হয়েছে। এতে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়কসহ নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ১৭ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে আমরা ঢাকা মেডিকেলে এসেছিলাম।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেকোনো আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের ভূত দেখানো হতো। এখন বিএনপি যেকোনো আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ভূত দেখছে। এভাবে আন্দোলনের ন্যায্যতাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট, তারা বাংলাদেশের শত্রু। তারা যেকোনো পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু সেই সুযোগ কারা করে দিয়েছে? গত সাত মাস ধরে বিএনপি সেই সুযোগ করে দিচ্ছে। গাজীপুর, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগকে কারা প্রশ্রয় দিচ্ছে, সেটি স্পষ্ট। সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা শুরুর সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায়ও সঠিক বিচার পাওয়া যায়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, এসব ক্ষেত্রে বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দিয়েছে। বিচারের প্রশ্নে বিএনপি আপস করেছে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে জাতীয় ঐক্যমত ছিল, তা ভঙ্গ করেছে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বিএনপি। ফলে এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সরকার ও বিএনপিকেই নিতে হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখনো সময় আছে, কোনো ধরনের টালবাহানা না করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন। তাঁদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলুন, আলোচনায় আসুন। কোনো ধরনের প্রতারণার চেষ্টা করবেন না। যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, সেটি ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ। ওই বোর্ডের ওপর শ্রমিকরা আস্থা রাখতে পারছেন না।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকারের আশ্বাসের প্রতিও শ্রমিকদের আস্থা নেই। কারণ, সরকার আগে এই কাজ না করে তাঁদের ওপর নির্যাতন-দমন-পীড়ন চালিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে। এখনো তা চলমান রয়েছে। এই সরকার ৭০ শতাংশ জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ফলে সমাজের কোনো অংশই সরকারের বক্তব্যের ওপর আস্থা রাখবে না, এটাই স্বাভাবিক।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে এই সরকার বলেছিল, তারা জুলাই সনদ মেনে নেবে ও বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু নির্বাচনের পরে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ফলে শ্রমিকরা কোন ভরসায় সরকারের ওপর বিশ্বাস করে রাজপথ ছেড়ে দেবেন? এ কারণেই হয়তো তারা রাজপথ ছাড়ছেন না।

শ্রমিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে আছি। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট সহিংসতা করে এর সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে বিএনপি রাষ্ট্রীয় নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে শ্রমিকদের দমন করার চেষ্টা করবে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে।

শ্রমিকদের পক্ষে তিন দফা দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের এখন সুস্পষ্ট দাবি হচ্ছে, প্রথমত, যে শ্রমিক মারা গেছেন, সেই শ্রমিক তৌফিককে আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিচার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, গ্রেপ্তার ও অন্যায়ভাবে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে শ্রমিক নেতাদের এবং শ্রমিক কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তৃতীয়ত, এই আন্দোলন শেষ হওয়ার পর শ্রমিকদের ছাঁটাই, মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার কিংবা ভয়ভীতি দেখানো যাবে না। তাদের কোনোভাবেই ব্ল্যাকলিস্ট করা যাবে না। শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কিংবা চাকরিচ্যুত করা যাবে না।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো যতটুকু সম্ভব, সরকারকে আন্তরিকভাবে ঘোষণা করতে হবে। এই আন্দোলন মালিকদের বিরুদ্ধে নয়। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত। এই শিল্পের শ্রমিকরা কখনোই শিল্পের বিরুদ্ধে যাবেন না। পোশাকশিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে শ্রমিকদেরও টিকিয়ে রাখতে হবে। তাঁদের উৎপাদনশীল অবস্থায় রাখতে হবে, বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন শ্রমিকদের বেঁচে থাকার লড়াই। মালিক, পোশাকশিল্প, শ্রমিক ও সব রাজনৈতিক পক্ষকে নিয়ে সরকারকে অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু সমাধানে আসতে হবে।




এলপিজির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

এলপিজির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে: গোলাম পরওয়ার
ছবি সংগৃহীত।

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা তখন এলপিজির দাম আবারও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো জনজীবনে নতুন করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে। এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পারিবারিক ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এ ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু দাম বাড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীতেই ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অথচ এ বিষয়ে কার্যকর বাজার তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বৃদ্ধির অজুহাতে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সাধারণ জনগণের ওপর চাপানো যাবে না। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে বারবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সরকারের দায়িত্বশীলতার পরিচয় বহন করে না।

তিনি বলেন, অবিলম্বে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট ও অযৌক্তিক মুনাফা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত বাজার তদারকির জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।