হালদা নদী রক্ষায় কারও সঙ্গে আপস নয়: সরোয়ার আলমগীর এমপি

হালদা নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কারও সঙ্গে আপস করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘হালদা নদী শুধু ফটিকছড়ি বা চট্টগ্রামের নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও জাতীয় সম্পদ। এ নদী রক্ষায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
রোববার (১৬ আগস্ট) ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় মৎস্যপক্ষ-২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকেই বলে আসছি, হালদা নদী আমাদের হেরিটেজ, আমাদের ঐতিহ্য। এটিকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। হালদা নদীর পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে কারও সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না।’
তিনি বলেন, হালদার পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা করতে হলে নদীদূষণ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মাছের প্রজননক্ষেত্র নষ্টসহ যেসব কর্মকাণ্ড নদীর স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উদ্যোগগুলো বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মৎস্যচাষ, মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, উদ্যোক্তা তৈরি ও অন্যান্য আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা গেলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি হালদা নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে ছুটলে হবে না, তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। হালদা নদীকে কেন্দ্র করে বাস্তবমুখী কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা গেলে তরুণদের এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা হালদা নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জেলে, মৎস্যচাষি ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির আজম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।











