চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৩টি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলী মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম ও আবুল মনসুর। আগুনে তাদের ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগুন লাগার আগে পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বসতঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে স্থানীয় লোকজন বালতি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগুনে জামাল উদ্দীন আহমদের ঘরের প্রায় ৫০ আঁড়ি ধান, নগদ ৭০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। এতে চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার বসতঘরও পুড়ে গেছে। তাঁর পরিবারের দাবি, এতে প্রায় এক লাখ টাকার আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে আবুল মনসুরের ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সব মিলিয়ে তাঁদের প্রায় নয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার ছেলে মো. রাকিব বলেন, ‘আগুনে চিকিৎসাসংক্রান্ত খরচ ও দুটি এনজিওর কিস্তি পরিশোধের জন্য জমানো আমার প্রায় ৭০ হাজার টাকা পুড়ে গেছে।’
রাকিবের ভাই আকিবের অভিযোগ, আগুন লাগার আগে তাঁদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন পাশের কয়েকজন ব্যক্তি। এ নিয়ে রাতেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে আনোয়ারা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করে পরদিন রোববার সকাল ১১টায় থানায় গিয়ে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেয়।
আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি ঘরের মধ্যে একটি সেমিপাকা, একটি বেড়ার এবং অন্যটি মাটির তৈরি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।’
ঘটনাস্থলে যাওয়া আনোয়ারা থানার এএসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে।