সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শোকবার্তা
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শোকবার্তা

সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শোকবার্তা
ছবি সংগৃহীত।

দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাতকানিয়া উপজেলা প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আরিফুর রহমান আফজালীর পিতা ছদাহা আফজাল নগর নিবাসী বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের (৮৫) ইন্তেকালে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) গভীর শোক প্রকাশ করেছে সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ তারেক হোসাইন এক যৌথ শোকবার্তায় বলেন, “মরহুম ছিলেন একজন পরহেজগার, দ্বীনদার ও সমাজসেবক। তিনি সর্বদা জামায়াতে ইসলামীর একজন একনিষ্ঠ শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। ইক্বামাতে দ্বীনের (দ্বীন প্রতিষ্ঠা) জন্য বাল্যকাল থেকেই তিনি নিবেদিত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত।”

নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করেন—আল্লাহ যেন তাঁর যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগি কবুল করেন, জীবনের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে নেক আমলে পরিণত করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থানে আসীন করেন।

তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে পরিবারের সবাইকে ‘সবরে জামিল’ (ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক) দান করার জন্য প্রার্থনা করেন। আমিন।

উল্লেখ্য, মরহুম হাবিবুর রহমান বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও সামাজিক সংস্থায় নানা দায়িত্ব পালন করেছিলেন।




ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর ৩ বসতঘরে আগুন!

ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর ৩ বসতঘরে আগুন!
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৩টি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আলী মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম ও আবুল মনসুর। আগুনে তাদের ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগুন লাগার আগে পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বসতঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে স্থানীয় লোকজন বালতি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগুনে জামাল উদ্দীন আহমদের ঘরের প্রায় ৫০ আঁড়ি ধান, নগদ ৭০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। এতে চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার বসতঘরও পুড়ে গেছে। তাঁর পরিবারের দাবি, এতে প্রায় এক লাখ টাকার আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে আবুল মনসুরের ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সব মিলিয়ে তাঁদের প্রায় নয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার ছেলে মো. রাকিব বলেন, ‘আগুনে চিকিৎসাসংক্রান্ত খরচ ও দুটি এনজিওর কিস্তি পরিশোধের জন্য জমানো আমার প্রায় ৭০ হাজার টাকা পুড়ে গেছে।’

রাকিবের ভাই আকিবের অভিযোগ, আগুন লাগার আগে তাঁদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন পাশের কয়েকজন ব্যক্তি। এ নিয়ে রাতেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে আনোয়ারা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করে পরদিন রোববার সকাল ১১টায় থানায় গিয়ে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেয়।

আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি ঘরের মধ্যে একটি সেমিপাকা, একটি বেড়ার এবং অন্যটি মাটির তৈরি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।’

ঘটনাস্থলে যাওয়া আনোয়ারা থানার এএসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে।




৮ নম্বর ঢেমশায় দুই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময়

৮ নম্বর ঢেমশায় দুই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময়
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের দুই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী।

গত ২৯ অক্টোবর হাজী মোহাম্মদ ফোরকানের বাসভবনে এক বৈঠকে মিলিত হন বিশিষ্ট দুই ব্যক্তিত্ব হাজী মো. ফোরকান এবং মো. শহিদুল্লাহ শহিদ।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ধারা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মতবিনিময়টি সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে অংশ নিয়ে উভয় প্রার্থীই স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচন বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা যা-ই থাকুক না কেন—এলাকার সাধারণ মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি এবং সার্বিক উন্নয়নই তাঁদের কাছে সর্বাগ্রে। তাঁরা একে অপরের প্রতি পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান ও সম্প্রীতি বজায় রেখে আগামী দিনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এলাকার কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। দুই প্রার্থীর এমন পরিচ্ছন্ন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মানসিকতা ঢেমশা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়াফেলছে। এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, তাঁদের এই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সুস্থ রাজনীতির চর্চা পুরো ইউনিয়নে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




আনোয়ারার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখবে ইরা ক্লিনিক: সরওয়ার জামাল নিজাম

আনোয়ারার মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখবে ইরা ক্লিনিক: সরওয়ার জামাল নিজাম
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেছেন, “আনোয়ারা ও কর্ণফুলী অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গ্রামের নারী ও সাধারণ মানুষ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। তাঁদের জন্য এলাকার কাছাকাছি উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।”

তিনি বলেন, “শুধু একটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, সেখানে আসা রোগীদের সঠিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানের হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি কর্মরত চিকিৎসকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষজ্ঞ পরিচিতি এবং চেম্বারের সময়সূচি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।”

শুক্রবার দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার চাপাতলী ভোলাশাহ এলাকায় ইরা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য নিজাম আরও বলেন, “ক্লিনিকটির সার্বিক কার্যক্রম ও যন্ত্রপাতির মান যাচাই করতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো উচিত। প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন ও মান নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে হবে।”

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ইরা ক্লিনিক যেন শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আজীবন আনোয়ারা-কর্ণফুলীর মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে। বিশেষ করে মা-বোনদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে ড. আরমান আলীর সভাপতিত্বে এবং ইকবাল হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শফিউল আলম জাকারিয়া চৌধুরী জকু, আখতারুন্নবী চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, নুরুল ইসলাম মেম্বার, আবুল কালাম আবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।