লামায় গ্রিন হিলের উদ্যোগে বিনামূল্যে মোবাইল হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

লামায় গ্রিন হিলের উদ্যোগে বিনামূল্যে মোবাইল হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

লামায় গ্রিন হিলের উদ্যোগে বিনামূল্যে মোবাইল হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার লামা পৌরসভার হরিণঝিরি পাড়ায় বন্যা-দুর্গত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গ্রিন হিলের উদ্যোগে বিনামূল্যে মোবাইল হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ক্যাম্পে ১৪২ জন সাধারণ রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ২২ জন গর্ভবতী মা-কে দেওয়া হয় মাতৃস্বাস্থ্যসেবা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) লামা পৌরসভার হরিণঝিরি পাড়ায় দিনব্যাপী এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) আর্থিক সহযোগিতা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় ক্যাম্পটির আয়োজন করে গ্রিন হিল।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “Strengthening Maternity and Child Health Services Delivery for the Marginalized Community in Bandarban through Green Hill – Emergency Response” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো বন্যা-দুর্গত, দুর্গম ও স্বাস্থ্যসেবাবঞ্চিত এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।

স্বাস্থ্য ক্যাম্পে সাধারণ ও অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ক্যাম্পে উপস্থিত থেকে লামা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (সিএইচএফপি) ডা. বাপ্পি মারমা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এ ছাড়া উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সঞ্জয় দাশ, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) শামশুন নাহার লিপি এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) চম্পা রানী রুদ্র স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে অংশ নেন।

ক্যাম্পে এসএমসিএইচএসডি প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসারসহ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের বিনামূল্যে মোবাইল হেলথ ক্যাম্প আয়োজনের ফলে দুর্গম ও বন্যা-দুর্গত এলাকার মানুষ সহজেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, গ্রিন হিলের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে লামা উপজেলার প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস এবং দুর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম কার্যকর অবদান রাখবে।




লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও নৃশংসতার স্মরণে লামায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও নৃশংসতার স্মরণে লামায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল
ছবি সংগৃহীত।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে সংঘটিত লগি-বৈঠার নৃশংসতা ও রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিবাদ এবং উক্ত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (​২৮ অক্টোবর) বাদে আসর লামা উপজেলা চত্বরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, লামা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​বিক্ষোভ সমাবেশে “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার নজিরবিহীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী তাণ্ডব ও নৃসংশতা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও কালো অধ্যায়। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের দাবি জানান বক্তারা।
​সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সেই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক জঘন্যতম ও কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে রয়েছে। সেদিন প্রকাশ্যে লগি-বৈঠার মাধ্যমে যে তাণ্ডব ও নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, তার সাথে জড়িত খুনি ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বান্দরবান জেলা সভাপতি অধ্যাপক ফারুক আহমেদ।​এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন,​কাজী ইব্রাহীম, আমির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, লামা উপজেলা শাখা।​

​সমাবেশ শেষে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের আন্দোলনে নিহত শহিদদের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।




বিজিবির উদ্যোগে ‘সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর বিজয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা

বিজিবির উদ্যোগে ‘সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর বিজয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক আস্থার বন্ধন সুদৃঢ় করতে বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী। তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার শক্তিশালী মাধ্যম। নারী ফুটবলারদের সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে বিজিবি যে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে, তা খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি পাহাড়ের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বান্দরবানের থানচিতে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) আয়োজিত ‘সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর বিজয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান নারী খেলোয়াড় রয়েছেন। সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তাঁরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি, তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা এবং নারী খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজিবির এ ধরনের উদ্যোগ পাহাড়ের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের কাছাকাছি আসার সুযোগ তৈরি হয়। নারী ফুটবলারদের এই অর্জন পাহাড়ের অন্যান্য মেয়েকেও খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ রুবায়াত জামিল, বলিপাড়া জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল এবং থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও সার্বিক আয়োজনে বিজিবির পক্ষ থেকে নারী ফুটবলারদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁদের ক্রীড়ানৈপুণ্যের প্রশংসা এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগানো হয়। এ ধরনের আয়োজন পাহাড়ি জনপদে নারী খেলাধুলার বিকাশ এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সহায়ক হবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মেজর জাকির হোসেন।

স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নারী খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিজিবির এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হলে পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।




খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

খাগড়াছড়িতে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
ছবি সংগৃহীত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি ও সব জাতিসত্তার সমান মর্যাদা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির উদ্যোগে জমকালো আয়োজনে কেক কেটে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. নিজাম উদ্দিন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শাহীন আলম এবং রামগড় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা।

প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সব সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং শান্তি ও সম্প্রীতিকামী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

এ সময় সব সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, প্রতিটি জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয় ও মর্যাদার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সমতা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তির অঙ্গীকারকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতিসত্তার মধ্যে সম্প্রীতি ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।