বাঁশখালীতে পাওনা টাকা পরিশোধের পরও হয়রানি ও মিথ্যা মামলা, ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাওনা টাকা পরিশোধের পরও খালি চেক, অলিখিত স্ট্যাম্প ও দলিলপত্র আটকে রেখে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাওলানা বোরহান উদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাঁশখালী প্রেসক্লাবে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাইরাং এলাকার মাওলানা নজির আহমদের ছেলে মাওলানা বোরহান উদ্দিন বাঁশখালী পৌরসভার উত্তর জলদী ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ আহমদুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান ও শের আলীর ছেলে জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে লাভের ওপর গত ১০-০৯-২০২৫ তারিখে ৪ লাখ টাকা নেন। টাকার বিপরীতে তিনি স্বাক্ষরযুক্ত খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং স্বাক্ষরযুক্ত তারিখবিহীন দুটি ব্যাংক চেক দেন। পরে টাকা পরিশোধে দেরি হলে হাবিবুর রহমান ও জসিম উদ্দিনের কাছে জমি বিক্রির প্রস্তাব দেন মাওলানা বোরহান। কিন্তু তারা জমি কিনতে সময় চাইলে মাওলানা বোরহান অন্যজনের কাছে জমি বিক্রি করে ০৭-১০-২০২৫ তারিখে রাতে হাবিবুর রহমান ও জসিম উদ্দিনের পাওনা ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করে দেন। এ সময় আগের কথা অনুযায়ী মাওলানা বোরহান দলিলপত্র ফেরত চাইলে পরদিন সকালে দেওয়ার কথা বলা হয়।
হয়রানির শিকার মাওলানা বোরহান উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, "সরল বিশ্বাসে আমি তাৎক্ষণিক দলিলপত্র ফেরত না নিয়ে সকালে তা আনতে গেলে তারা বেঁকে বসেন। আমার দলিলপত্র ফেরত দিতে অস্বীকার করে তারা আরও টাকা দাবি করেন।"
মাওলানা বোরহান উদ্দিন আরও বলেন, "দলিলপত্র ফেরত পেতে আমি অনেক চেষ্টা করেছি, অনুরোধ ও দৌড়ঝাঁপ করেছি। কিন্তু তারা দলিলপত্র ফেরত না দিয়ে উল্টো ১২ লাখ টাকা পাওয়ার দাবি করে আমার বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে আমিও আমার স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক ও দলিলপত্র উদ্ধারে মামলা করেছি। কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমি হয়রানির শিকার হচ্ছি।"
মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে মাওলানা বোরহান উদ্দিন বলেন, "আমি ন্যায়বিচার চাই, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।"
অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন জানান, বোরহান জমি বিক্রির কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন। তাঁর দলিলপত্র জসিমের কাছে রয়েছে। টাকা পরিশোধের পরও দলিলপত্র ফেরত না দিয়ে হয়রানি ও মিথ্যা মামলা করার অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করেন।











