নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে সভাপতি পদে হেরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে সভাপতি পদে হেরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীতে সভাপতি পদে হেরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী করলিয়ামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী মো. আবদুর রহিম বাবুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তারা অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী আবদুর রহিম বাবুল বিদ্যালয়ের জমি দখল, 'পকেট কমিটি' গঠন, উন্নয়ন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের শৌচাগার (টয়লেট) ব্যবহারে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগের পক্ষে তাৎক্ষণিক কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা পড়ালেখা বা শৌচাগার ব্যবহারে কোনো ধরনের সমস্যার কথা জানায়নি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫২ সালে কুমপাড়া এলাকায় করলিয়ামুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে বিদ্যালয়টি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়। স্থানান্তরের সময় হাজী সুলতান আহমদ বিদ্যালয়ের দাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সামশুল আলম দাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সামশুল আলম বর্তমানে অসুস্থ থাকায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার ছোট ভাই মো. আলম দাতা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নামে থাকা প্রায় ১ একর ৫৩ শতাংশ জমি বর্তমানে বিদ্যালয়ের দখলেই রয়েছে। জমির কোনো অংশে স্থানীয় কারও দখল রয়েছে—এমন দৃশ্য চোখে পড়েনি। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের পরিবেশেও এ ধরনের কোনো বিরোধের চিত্র দেখা যায়নি।

বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা দেওয়ার বিষয়ে দাতা সদস্য মো. আলম বিএ জানান, তৎকালীন সভাপতি শফি আলম ও প্রধান শিক্ষক মো. জাফর আলম হেলালী দাতা সদস্যের কাছে জায়গা চাওয়ার পর সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া ৩১৫ নম্বর খতিয়ান থেকেও বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরাজিত প্রার্থী আবদুর রহিম বাবুল। তিনি নির্বাচিত কমিটিকে 'পকেট কমিটি' আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তবে নির্বাচনের পর্যবেক্ষক মো. নুরুল ইসলাম ও মো. করিম উদ্দিন বলেন, "নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের কারচুপি হয়নি। নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু ও শেষ হয় এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।"

দাতা সদস্য মো. আলম বলেন, "আবদুর রহিম বাবুল আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করার জন্য অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় এখন আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। তার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।"

তিনি আরও বলেন, "বিদ্যালয়ের জমি দখল কিংবা কমিটি নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। নির্বাচনেও কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি।"

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাফর আলম হেলালী বলেন, "বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই সভাপতি পদে পরাজিত আবদুর রহিম বাবুল ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন বলে আমরা মনে করছি।"

তিনি আরও বলেন, "তিনি নিজেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। নির্বাচন শেষে নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তোলা কতটা যৌক্তিক, সেটি আমার বোধগম্য নয়। বিদ্যালয়ের জমি দখল, উন্নয়ন তহবিলের টাকা আত্মসাৎ কিংবা শিক্ষার্থীদের শৌচাগার ব্যবহারে বাধা দেওয়ার অভিযোগেরও কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।"

'আমি অপপ্রচার করিনি, গঠনমূলক সমালোচনা করেছি' তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অপপ্রচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী মো. আবদুর রহিম বাবুল।

তিনি বলেন, "আমি নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলাম এবং নিজেই ভোট দিয়েছি। নির্বাচনে আমি তিনটি ভোট পেয়েছি, আর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছেন আটটি ভোট। ভোটে আমি হেরে গিয়েছি—এটা সত্য। তবে আমাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।"

বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নই। আমি কোনো অপপ্রচার করিনি; গঠনমূলক সমালোচনা করেছি।"

তিনি জানান, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার যে বক্তব্য, সেগুলো তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তুলে ধরেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা জরুরি।

তারা মনে করেন, অভিযোগ সত্য হলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচার চালানোর কারণে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রশাসনিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।




স্বদেশে ফিরে বম শিশুদের হাতে জাতীয় পতাকা

স্বদেশে ফিরে বম শিশুদের হাতে জাতীয় পতাকা
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের অনিশ্চয়তা, বাস্তুচ্যুত জীবন ও স্বদেশে ফেরার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বান্দরবানের থানচির সীমান্তবর্তী রুমা উপজেলার বকলাই পাড়ায় অবশেষে নিজ জন্মভূমিতে ফিরেছে বম জনগোষ্ঠীর তিনটি পরিবার। স্বদেশের মাটিতে পা রেখেই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার আবেগঘন মুহূর্তে তাদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি, গর্ব এবং আপন ভূমিতে ফিরে আসার গভীর আবেগ।

পরিবারগুলোর শিশুদের জন্য মুহূর্তটি ছিল আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের কেউ কেউ এতটাই অল্প বয়সে দেশ ছেড়েছিল যে বাংলাদেশের কোনো স্মৃতিই তাদের মনে নেই। এমনকি একটি শিশুর জন্মও হয়েছে ভারতের মিজোরামে। তাদের কাছে বাংলাদেশ ছিল শুধু বাবা-মায়ের মুখে শোনা এক স্বদেশ, যার সঙ্গে তাদের শিকড় ও আত্মপরিচয় জড়িয়ে ছিল, কিন্তু যাকে তারা কখনো দেখেনি। তাই জীবনের প্রথমবার নিজের দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার মুহূর্তটি তাদের জন্য হয়ে ওঠে এক অবর্ণনীয় আবেগের অভিজ্ঞতা। যেন বহুদিনের অচেনা এক স্বদেশ হঠাৎ করেই হয়ে উঠল আপন ঠিকানা।

জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণে বম জনগোষ্ঠীর তিনটি পরিবার স্বদেশ ছেড়ে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেয়। নিরাপদ আশ্রয়ের প্রত্যাশায় দেশ ছাড়লেও সেখানে তাদের জীবন ছিল নানা প্রতিকূলতা ও অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ। দীর্ঘ সময় তারা নিজ জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় জীবনযাপন করে।

পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বম জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিভিন্ন মাধ্যমে মিজোরামে অবস্থানরত পরিবারগুলোর কাছে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও নিরাপদে ফিরে আসার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। বম সমাজের সহযোগিতায় এ উদ্যোগের ফলে পরিবারগুলো আস্থা ফিরে পেয়ে স্বদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

তারা মিজোরাম-হরিণা-রাঙামাটি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাদের রাঙামাটি থেকে বাকলাইপাড়া সাব-জোনের আওতাধীন এলাকায় নিয়ে আসা হয়। বাকলাইপাড়া ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও আশ্বাস প্রদান করা হয়।

ফিরে আসা পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জীবনযাত্রাকে সহজ করতে বাকলাইপাড়া সাব-জোনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে শুকনো রশদ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রি এবং সোলার প্যানেল ও ব্যাটারী প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবন পুনর্গঠনে ভবিষ্যতেও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।




লামায় ১৫টির বেশি ইটভাটা বহাল তবিয়তে

লামায় ১৫টির বেশি ইটভাটা বহাল তবিয়তে
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে বছরের পর বছর ধরে চলছে একের পর এক ইটভাটা। পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ, বনাঞ্চলের কাঠ পোড়ানো এবং পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকার অভিযোগ রয়েছে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে। অথচ অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেই বহাল তবিয়তে চলছে অবৈধ এসব ইটভাটা।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ফাইতং এলাকায় ৪২টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনটি মামলায় ২৬ লাখ ও ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও অন্য মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরও পাঁচটি ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে ফাইতং এলাকায়। সেখানে ১৪টি জিকজ্যাক ইটভাটায় কয়লা ব্যবহার করা হলেও লাকরিসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্য ইটভাটাগুলোতে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতিদিনই ধ্বংস হচ্ছে পাহাড় ও বনাঞ্চল।

স্থানীয়দের অভিযোগে পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের এমএইচবি, শাহ আলমের এসবিডব্লিউ, এখলাছের ফাইভবিএম ও সেভেনবিএম, বেলাল কোম্পানির ইউবিএম-১, জলিল কোম্পানির ইউবিএম-২, বেদার ও জাহাঙ্গীরের এসএমবি, করিম কোম্পানির কেবিসি, মোজাম্মেলের ইভিএম, রিংকু, আরজু, রিয়াদ ও নাজু গংদের বিবিসি, এসএসবি ও বিবিএম, বেলাল কোম্পানির এবিসি-২ ও এবিসি-৩ এবং নাছির উদ্দিনের পিভিএনসহ আরও কয়েকটি ইটভাটার নাম উঠে এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও জরিমানা না হওয়ায় মালিকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও পাহাড় কাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীব বলেন, আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে পাঁচটি ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বাদী হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর লামা থানায় মামলাগুলো করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের গত ১০ সেপ্টেম্বরের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৫(খ) ও ১২ ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ৪ ও ৮(৩)(গ) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি করেন, শুধু মামলা ও জরিমানা নয়, পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ও নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড় ও বনাঞ্চল রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।




নাইক্ষ্যংছড়িতে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী আটক

নাইক্ষ্যংছড়িতে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী আটক
ছবি সংগৃহীত।

১৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামিরতলী এলাকায় নিজ বসতঘরের পাশ থেকে আয়েশা বেগম (৩০, স্বামী-ছৈয়দ আহমদ)-এর লাশ উদ্ধার করে। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিকটিম আয়েশা বেগমের অভিযুক্ত স্বামী ছৈয়দ আহমদকে ইতিমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, থাকলে তাদের ভূমিকা কী—তা নিরূপণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।