লামায় ১৫টির বেশি ইটভাটা বহাল তবিয়তে

বান্দরবানের লামা উপজেলায় পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে বছরের পর বছর ধরে চলছে একের পর এক ইটভাটা। পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ, বনাঞ্চলের কাঠ পোড়ানো এবং পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকার অভিযোগ রয়েছে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে। অথচ অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেই বহাল তবিয়তে চলছে অবৈধ এসব ইটভাটা।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ফাইতং এলাকায় ৪২টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনটি মামলায় ২৬ লাখ ও ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও অন্য মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরও পাঁচটি ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে ফাইতং এলাকায়। সেখানে ১৪টি জিকজ্যাক ইটভাটায় কয়লা ব্যবহার করা হলেও লাকরিসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্য ইটভাটাগুলোতে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতিদিনই ধ্বংস হচ্ছে পাহাড় ও বনাঞ্চল।
স্থানীয়দের অভিযোগে পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের এমএইচবি, শাহ আলমের এসবিডব্লিউ, এখলাছের ফাইভবিএম ও সেভেনবিএম, বেলাল কোম্পানির ইউবিএম-১, জলিল কোম্পানির ইউবিএম-২, বেদার ও জাহাঙ্গীরের এসএমবি, করিম কোম্পানির কেবিসি, মোজাম্মেলের ইভিএম, রিংকু, আরজু, রিয়াদ ও নাজু গংদের বিবিসি, এসএসবি ও বিবিএম, বেলাল কোম্পানির এবিসি-২ ও এবিসি-৩ এবং নাছির উদ্দিনের পিভিএনসহ আরও কয়েকটি ইটভাটার নাম উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও জরিমানা না হওয়ায় মালিকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও পাহাড় কাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল হাসান সজীব বলেন, আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে পাঁচটি ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বাদী হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর লামা থানায় মামলাগুলো করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের গত ১০ সেপ্টেম্বরের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৫(খ) ও ১২ ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ৪ ও ৮(৩)(গ) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি করেন, শুধু মামলা ও জরিমানা নয়, পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ও নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড় ও বনাঞ্চল রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।








