ফটিকছড়িতে এসএসসি-সমমানের ফলাফলে মাদরাসার উত্থান, স্কুলে হতাশা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিদ্যালয় ও মাদরাসার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। পাসের হারে বিদ্যালয়ের তুলনায় মাদরাসাগুলো এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। তবে সার্বিক ফলাফলে বিদ্যালয়গুলোর পাসের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে।
এবার ফটিকছড়িতে এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়গুলোর পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিপরীতে দাখিল পরীক্ষায় মাদরাসাগুলোর পাসের হার ৬৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এসএসসির তুলনায় দাখিলে পাসের হার প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৪ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া ফলাফল শিট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ফটিকছড়ির ৬০টি বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সামগ্রিকভাবে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪৩ শতাংশই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
পাসের হারে বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উপজেলার দক্ষিণ প্রান্তের আব্দুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয়। ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ধর্মপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন। গোপালঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ জনের মধ্যে ৫৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে দুজন। পাসের হারে পরের অবস্থানে রয়েছে আজিমপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও জাহানারা মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
দাখিল পরীক্ষায় ফটিকছড়ির ৩৪টি মাদরাসার পাসের হার ৬৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিদ্যালয়ের তুলনায় এখানে পাসের হার প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।
মাদরাসাগুলোর মধ্যে পাসের হারে প্রথম হয়েছে মাদরাসা-এ গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী। ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। হেয়াকো রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৪৪ জনের মধ্যে ৩৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন।
নুর কাজী হালিমিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ৩১ জনের মধ্যে ২৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৭ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
পাসের হারে মাদরাসাগুলো এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫-এর হিসাবে চিত্র ভিন্ন। মাদরাসাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়টি জিপিএ-৫ পেয়েছে লেলাংয়ের বন্দেরাজা-এ মহিলা দাখিল মাদরাসা। ২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন পাস করেছে।
অন্যদিকে, এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় বিদ্যালয়গুলো এগিয়ে। ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে এবার ১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৯ জন পাস করেছে। এ ছাড়া ফটিকছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন।
সামগ্রিক পাসের হার কম হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ের ফল বিশেষভাবে নজরে এসেছে। উপজেলার একমাত্র সরকারি বিদ্যালয় ফটিকছড়ি সরকারি করোনেশন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হারও এবার সন্তোষজনক নয়।
নারায়ণহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবার তিনজন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। গতবারও বিদ্যালয়টির কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি।
অন্যদিকে, ফটিকছড়ির দুটি পুরোনো সুন্নিয়া মাদরাসার ফলও প্রত্যাশার তুলনায় কম। ফটিকছড়ি জামেউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৯৪ জনের মধ্যে ৫০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। নানুপুর মজাহারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ৭৫ জনের মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
ফটিকছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, "গতবারের তুলনায় এবার এসএসসিতে পাসের হার বাড়েনি; পাশাপাশি জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও কমেছে। অন্যদিকে, গতবারের তুলনায় এবার মাদরাসায় জিপিএ-৫-এর পাশাপাশি পাসের হারও বেড়েছে। ফটিকছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজেও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বেড়েছে।"







