জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী ফটিকছড়ির চেয়ারম্যান ইকবাল চৌধুরী

কৃষকদের স্বার্থে সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং সমবায় কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়ি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা ও চট্টগ্রাম জেলা—উভয় পর্যায়েই শ্রেষ্ঠ সমবায়ী নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালে জাতীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর এ অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন সমিতির ব্যবস্থাপক মো. আইয়ুব আলী।
‘করব সমবায়, গড়ব দেশ; সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকালে উপজেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রহমত উল্লাহ।
সমিতির সভাপতি ও হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, স্থানীয় দরিদ্র কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ ও সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং সমবায়ের নিয়মনীতি অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই বারবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুস শহীদ ভূঁইয়া জানান, হারুয়ালছড়ি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি হিসেবে ইকবাল হোসেন চৌধুরী এবার উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছেন। এ স্বীকৃতির জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে মাত্র ১৫ জন কৃষক সদস্য নিয়ে হারুয়ালছড়ি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সমিতির সদস্যসংখ্যা দুই হাজারের বেশি। এর কার্যক্রমের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃষক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ২০১১ সালে নির্মিত রাবার ড্যামের পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে সমিতিটি। রাবার ড্যাম নির্মাণের আগে এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে তেমন চাষাবাদ হতো না। অল্প কিছু কৃষক নিজেদের উদ্যোগে সীমিত জমিতে চাষ করতেন। রাবার ড্যাম নির্মাণের পর খালের পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষিতে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। এখন শুষ্ক মৌসুমে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করছেন কৃষকরা।










