হিসাব-নিকাশসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ফটিকছড়িতে মাদ্রাসা পরিচালক বহিষ্কার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাইন্দং বাইতুছ ছালাম জামে মসজিদ ও হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) নূরানী মাদ্রাসা ও হিফজখানার সুপার ও পরিচালক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে তাঁকে প্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ মফিজুল আলম। তিনি বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়া, ব্যাংক হিসাব না খোলা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সনদপত্র কমিটির কাছে উপস্থাপন না করা এবং পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত না মানাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
সভাপতি মফিজুল আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়ে মাসুম বিল্লাহকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। পরে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ওয়াকফ এস্টেটভুক্ত করার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ওই প্রক্রিয়া শেষে মোতোয়াল্লি ও পরিচালনা কমিটি অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৭ আগস্ট ও ৫ সেপ্টেম্বর পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগের রেজুলেশন করা হয়। কিন্তু এরপরও মাসুম বিল্লাহ প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ ও ব্যাংকসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য কমিটির কাছে হস্তান্তর করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব না দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার ভবন ও জায়গা ব্যবহারে অনিয়ম এবং কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসুম বিল্লাহকে মাদ্রাসার সব দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি ঢাকা ওয়াকফ অফিস, চট্টগ্রাম অঞ্চল, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর মাসুম বিল্লাহ বিভিন্নভাবে হুমকি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ কারণে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের প্রায় আড়াই মাসের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও মসজিদের পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা না করার জন্যও তাঁকে সতর্ক করা হয়।
জানা যায়, মসজিদ ও মাদ্রাসার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ মুহাম্মদ ছালাহ উদ্দিন নানুপুরীকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাওলানা জুনায়েদকে নায়েবে মোহতামিম করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি নুরুল আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, শফিউল আলম সওদাগর, আলহাজ শামসুল আলম, অর্থ সম্পাদক বদিউল আলম, সিরাজুল ইসলাম, নুরুল হুদা কোম্পানি ও প্রবাসী তাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।











