এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা
ছবি সংগৃহীত।

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। এতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এ দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হচ্ছে।

একইসঙ্গে অটোগ্যাসের লিটারপ্রতি মূল্য মূসকসহ ৭৩ টাকা ০৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে।

সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি।




এল‌ডি‌সি উত্তর‌ণের পরও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দে‌বে যুক্তরাজ্য

এল‌ডি‌সি উত্তর‌ণের পরও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দে‌বে যুক্তরাজ্য
ছবি সংগৃহীত।

বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের বাজারে ৯৯.৮ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরেও পরবর্তী তিন বছরের জন্য এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে এবং ৯২ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকবে, যার মধ্যে তৈরি পোশাকও অন্তর্ভুক্ত থাক‌বে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা ব‌লেন তি‌নি।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশ একটি কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদার। বর্তমানে আমাদের সম্পর্ক আরও আধুনিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে প্রতিফলিত করে। এই সম্পর্কের মূলে রয়েছে আমাদের দুই দেশের মানুষকে সংযুক্তকারী জনগোষ্ঠী।

সারাহ কুক ব‌লেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। অর্থ খাত থেকে শুরু করে ফ্যাশন, শিক্ষা ও জ্বালানি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে সহায়তা করেছে এবং প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এল‌ডি‌সি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো-এই উত্তরণ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করে তোলা। যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম-কে বিশ্বের অন্যতম সহজ ও উদার বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সারাহ কুক বলেন, আমাদের সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব, যা পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন অঞ্চল হিসেবে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের যে দায়িত্ব ও ভূমিকা রয়েছে, তা আমরা স্বীকার করি।

তি‌নি ব‌লেন, এ ছাড়া, আমাদের উভয় দেশই মনে করে যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং জলবায়ু-জনিত ঝুঁকির মতো সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় প্রথাগত গণ্ডি ছাড়িয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

রো‌হিঙ্গা সংকট নি‌য়ে ব্রিটিশ হাইক‌মিশনার ব‌লেন, রো‌হিঙ্গা সংকটের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ বজায় রাখা এবং একমাত্র টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর সেই সমাধানটি হলো পরিস্থিতি অনুকূল হলে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে সারাহ কুক ব‌লেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে আসা যাক। এটি এমন একটি চ্যালেঞ্জের অন্যতম স্পষ্ট উদাহরণ যেখানে আমাদের স্বার্থ অভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বাস্তবতা বাংলাদেশের চেয়ে ভালো আর খুব কম দেশই বোঝে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাব কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়; দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ইতোমধ্যেই এর প্রভাব অনুভব করছে এবং এর ফলাফল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনুভূত হতে থাকবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।




বন্ডবাজারে বিক্রির হিড়িক, সুদ-ঋণ-মূল্যস্ফীতিতে সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি

বন্ডবাজারে বিক্রির হিড়িক, সুদ-ঋণ-মূল্যস্ফীতিতে সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি
ছবি সংগৃহীত।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধির সমূহ সম্ভাবনা এবং দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা; এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে বন্ডবাজারে বড় ধরনের বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে । এর ফলে পরিবার ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্ডবাজারের এই পরিস্থিতি ইউরোজোন ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপরও চাপ তৈরি করছে।

সরকারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধির ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ নেই। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মত যুক্তরাজ্যের ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইল্ড ৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ড ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। জাপানেও সরকারি বন্ডের ইল্ড কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মার্কিন অর্থনীতিতে। একই সময়ে ব্যক্তিগত আয় ও ভোক্তা ব্যয়ের সূচকগুলো নির্দেশ করছে যে, মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, দেশটির অর্থনীতি ও ভোক্তাদের ব্যয়ের সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী। এর ফলে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের  (ইল্ড) বেড়েছে। একই সঙ্গে মুদ্রানীতি আরও কঠোর হতে পারে-এমন আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের বিক্রি শুরু হয়েছে।


বিশ্বব্যাপী ঋণ নেওয়ার খরচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সব ধরনের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড প্রায় ৯০ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। এক শতাব্দীর মধ্যে কোনো এক প্রান্তিকে এটি সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি।

এদিকে, অক্টোবরের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ (যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) আবারও নীতিগত সুদের হার বাড়াতে পারে-এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা ক্রমাগত বন্ড বিক্রি করছেন। অর্থনীতিবিদগণও মার্কিন অর্থনীতিতে অতিরিক্ত উত্তাপের (ওভারহিটিং) লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের শ্রমবাজারের প্রতিবেদন শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত হওয়ার কথা। এবার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।


বন্ডের ইল্ড বেড়ে যাওয়ায় ৩০ বছর মেয়াদি সবচেয়ে প্রচলিত গৃহঋণের (মর্টগেজ) সুদের হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুর পর এই প্রথম এটি ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে।

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোতে ঋণের সুদ পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রতিরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে মোট বিনিয়োগকেও ছাড়িয়ে গেছে।


এক্ষেত্রে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে তেলের দাম বাড়ছে যা মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপের সঙ্গে বাড়ছে সুদের হার। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ঋণসংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি ছাড়া প্রায় সব দেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ১০০ শতাংশ বা তার বেশি হয়েছে।

এছাড়া, ঋণ বৃদ্ধিতে কাঠামোগত ভূমিকা রাখছে এআই খাতে দ্রুত বাড়তে থাকা বিনিয়োগ। চলতি বছর এআই খাতের পাঁচটি বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগের অর্থ জোগাড় করতে ২২০ বিলিয়ন ডলারের বন্ড ইস্যু করেছে। ঋণের চাহিদা বাড়তে থাকায় সুদের হার আরও উর্দ্ধমুখী হচ্ছে।


বাজারে তারল্য বাড়াতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি বন্ড পুনঃক্রয় কর্মসূচির আকার অন্তত দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বাজারের তারল্য কিছুটা সমর্থন পেলেও বন্ড বাজারের ওপর চাপ কমানোর জন্য শেষ পর্যন্ত এই পদক্ষেপ যথেষ্ট হয়নি।

তবে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে মার্কিন অর্থনীতির সামগ্রিক শক্তিশালী অবস্থাকে আড়াল করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীরা যখন উচ্চতর সুদের হার দাবি করছেন, তখন সরকারগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং অতিরিক্ত ব্যয় কমানো প্রয়োজন।


বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, তেলের দাম কমলে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে ঋণের খরচ স্থায়ীভাবে কমাতে হলে সরকারগুলোকে ঋণের পরিমাণ কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কেসিএম ট্রেডের গ্লোবাল চিফ মার্কেট অ্যানালিস্ট টিম ওয়াটেরার বলেন, তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে না এলে অথবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমাধান না হলে বন্ডের ইল্ড উচ্চই থাকবে। তার মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ ইউরোপের ভঙ্গুরতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।


আইএনজি গ্রুপের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশলবিদ ফ্রান্সেসকো পেসোলে বলেন, প্যারিসের বাজেট ঘোষণায় কাঠামোগত ঘাটতি সমাধানের বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না থাকায় ফ্রান্স ও জার্মানির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইল্ডের ব্যবধান ১৩০ বেসিস পয়েন্টে পৌঁছেছে। এই ব্যবধান আরও বেড়ে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ডবাজারের অস্থিরতা ইউরোর ওপরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে। ইউরো-ডলারের বিনিময় হার এখন পর্যন্ত তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বন্ডবাজারের এসব পরিবর্তনের প্রতি ইউরোর সংবেদনশীলতা আরও বাড়তে পারে।




সেপ্টেম্বরে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়

সেপ্টেম্বরে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকার প্রবাসী আয়
ছবি সংগৃহীত।

সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার দেশে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩ শতাংশ।

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার এবং আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।